লালমনিরহাটের সাবেক ছিটমহল দহগ্রাম আঙ্গোরপোতাবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য দহগ্রাম করিডোর গেটে ফ্লাইওভার নির্মাণের বিষয়টি উচ্চমহলে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাবেক ছিটমহলের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশের সীমান্তররক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তরাও করিডোর গেটে ফ্লাইওভারের বিষয়ে কথা বলেছেন। বিষয়টি আগে জানা ছিল না। পরিদর্শন করে জনগণ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবির বিষয়টি উচ্চ মহলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। লালমনিরহাটের সাবেক ছিটমহলের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যা আগামী দিনেও অব্যহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কারণে ছিটমহল বিনিময়ে বিলম্ব হয়েছে। এরপরও সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই ছিটমহলবাসী দীর্ঘ অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। শুধু মুক্ত হননি, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের (সাবেক ছিটমহলবাসী) ৬৮ বছরের উন্নয়ন মাত্র ৩ বছরেই করে দিয়েছেন। বিদ্যুৎ, ব্রিজ, কালভার্ট, কমিউনিটি সেন্টারসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। লালমনিরহাটের সাবেক ছিটমহলের উন্নয়নে ২২৫ কোটির টাকার উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাই আগামী দিনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই আওয়ামী লীগের হাত ধরে দেশে ক্ষুধা, দারিদ্রতা, অন্যায়-অবিচার অনেকাংশে লাঘব হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আগামী দিনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে আপনাদের অনেক সমস্যায় সমাধান হবে। আপনাদের স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ, এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ খান, জনস্বাস্থ্যের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর, জেলা পরিষদ চেয়ারমান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা প্রমুখ।
এর আগে, বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে পাটগ্রাম হেলিপ্যাড মাঠে অবতরণ করেন মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এরপর দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা ছিটমহল পরিদর্শন করেন। এ সময় দহগ্রাম করিডোর গেটে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যরা মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন। করিডোর গেটে বিজিবি-বিএসএফ’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। সাবেক ছিটমহলে বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পগুলো পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যার আগেই একই হেলিকপ্টারে লালমনিরহাট ত্যাগ করেন মন্ত্রী।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















