০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন বাঙালি সমাজের আলোকবর্তিকা

ব্রিটিশ শাসনামলের প্রথম মুসলিম নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন বাঙালি সমাজের আলোকবর্তিকা। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী নবাব। তিনি অনেকটা নিজের অদম্য ইচ্ছার কারণে শিক্ষিত হন। শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও সেবাব্রতে তিনি যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তা ইতিহাসে বিরল। তিনি সমাজ সংস্কারের অংশ হিসেবে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি জোর প্রচেষ্টা চালান। মহারাণী ভিক্টোরিয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ফয়জুন্নেছাকে ‘বেগম’ এবং পরে ‘নবাব’ উপাধি দেন। এসব তথ্য প্রকাশ করে ‍নবাব ফয়জুন্নেসা ফাউন্ডেশন এর সভাপতি এস. এম মাহফুজুল হক।

নবাব ফয়জুন্নেসা ফাউন্ডেশন এর সভাপতি এস. এম মাহফুজুল হক বলেন : রবীন্দ্রযুগে যে কয়জন বাংলা সাহিত্য সাধনা করে যশ ও খ্যাতি অর্জন করেন, নবাব ফয়জুন্নেছা তাদের মধ্যে অন্যতম। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সাহিত্যিক হিসেবে নবাব ফয়জুন্নেছার নাম চিরস্মরণীয়। তার সাহিত্য সাধনার খুব অল্প সময়ে তিনি বঙ্কিমচন্দ্রের সমসাময়িক লেখক। শুধু তাই নয় প্রথম মুসলিম গদ্য-পদ্যে লেখিকা ছিলেন। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা গিরিশচন্দ্র মুদ্রণ যন্ত্র থেকে শ্রীমতি নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী রচিত সাহিত্য গ্রন্থ ‘রূপজালাল’ প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ অপশাসনের ফলে মুসলিম সমাজে কুসংস্কারের বেড়াজালে অবরোধবাসিনী হয়েও ফয়জুন্নেছা সাহিত্য সাধনার মাধ্যমে একটি গৌরবময় স্থান অধিকার করে আছেন।

20180129_160043

গত সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা লাকসাম এর স্থানীয় সাংসদ তাজুল ইসলাম এমপি ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইব্রাহিম হোসেন খান।

আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন। সঞ্চালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার।

20180129_163126

বক্তারা বলেন, সে সময় জমিদার বংশের সন্তান হিসেবে আরাম-আয়েশের মধ্য দিয়ে তিনি বেড়ে ওঠেন। মোগল রাজত্বের উত্তরসূরি এ মহীয়সী নারীর দুই ভাই (এয়াকুব আলী চৌধুরী এবং ইউসুফ আলী চৌধুরী) আর দুইবোন (লতিফুন্নেছা চৌধুরানী এবং আমিরুন্নেছা চৌধুরানী) ছিল। ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ায় তার আগ্রহ দেখে তার বাবা তার জন্য একজন গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেন। তিনি কঠোর নিয়মানুবর্তিতা পালন করে তার জ্ঞানস্পৃহাকে আরো উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করে তোলেন। গৃহশিক্ষকের সাহায্যে ফয়জুন্নেছা খুব দ্রুতই কয়েকটি ভাষার ওপর গভীর জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হন। বাংলা, আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত এ চারটি ভাষায় ব্যুত্পত্তি লাভসহ ফয়জুন্নেছার এ প্রতিভা স্ফুরণ ঘটে। ফয়জুন্নেছা তার চিন্তা কাজকর্মে ছিলেন সে সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক। সেকালের সমাজ ব্যবস্থার সব রকম বাধা পেরিয়ে তিনি সম্পূর্ণ কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে মনোযোগ দিয়েছিলেন। তাই একজন নারী হয়েও সে সময়ে জমিদারির কঠোর দায়িত্ব তিনি সফলভাবে পালন করতে পেরেছেন।অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেন অচিরেই নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী কে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন নবাব ফয়জুন্নেসা ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক কুমিল্লার তরুন সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আজাদ সরকার লিটন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন বাঙালি সমাজের আলোকবর্তিকা

প্রকাশিত : ০২:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮

ব্রিটিশ শাসনামলের প্রথম মুসলিম নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন বাঙালি সমাজের আলোকবর্তিকা। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী নবাব। তিনি অনেকটা নিজের অদম্য ইচ্ছার কারণে শিক্ষিত হন। শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও সেবাব্রতে তিনি যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তা ইতিহাসে বিরল। তিনি সমাজ সংস্কারের অংশ হিসেবে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি জোর প্রচেষ্টা চালান। মহারাণী ভিক্টোরিয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ফয়জুন্নেছাকে ‘বেগম’ এবং পরে ‘নবাব’ উপাধি দেন। এসব তথ্য প্রকাশ করে ‍নবাব ফয়জুন্নেসা ফাউন্ডেশন এর সভাপতি এস. এম মাহফুজুল হক।

নবাব ফয়জুন্নেসা ফাউন্ডেশন এর সভাপতি এস. এম মাহফুজুল হক বলেন : রবীন্দ্রযুগে যে কয়জন বাংলা সাহিত্য সাধনা করে যশ ও খ্যাতি অর্জন করেন, নবাব ফয়জুন্নেছা তাদের মধ্যে অন্যতম। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সাহিত্যিক হিসেবে নবাব ফয়জুন্নেছার নাম চিরস্মরণীয়। তার সাহিত্য সাধনার খুব অল্প সময়ে তিনি বঙ্কিমচন্দ্রের সমসাময়িক লেখক। শুধু তাই নয় প্রথম মুসলিম গদ্য-পদ্যে লেখিকা ছিলেন। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা গিরিশচন্দ্র মুদ্রণ যন্ত্র থেকে শ্রীমতি নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী রচিত সাহিত্য গ্রন্থ ‘রূপজালাল’ প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ অপশাসনের ফলে মুসলিম সমাজে কুসংস্কারের বেড়াজালে অবরোধবাসিনী হয়েও ফয়জুন্নেছা সাহিত্য সাধনার মাধ্যমে একটি গৌরবময় স্থান অধিকার করে আছেন।

20180129_160043

গত সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা লাকসাম এর স্থানীয় সাংসদ তাজুল ইসলাম এমপি ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইব্রাহিম হোসেন খান।

আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন। সঞ্চালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার।

20180129_163126

বক্তারা বলেন, সে সময় জমিদার বংশের সন্তান হিসেবে আরাম-আয়েশের মধ্য দিয়ে তিনি বেড়ে ওঠেন। মোগল রাজত্বের উত্তরসূরি এ মহীয়সী নারীর দুই ভাই (এয়াকুব আলী চৌধুরী এবং ইউসুফ আলী চৌধুরী) আর দুইবোন (লতিফুন্নেছা চৌধুরানী এবং আমিরুন্নেছা চৌধুরানী) ছিল। ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ায় তার আগ্রহ দেখে তার বাবা তার জন্য একজন গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেন। তিনি কঠোর নিয়মানুবর্তিতা পালন করে তার জ্ঞানস্পৃহাকে আরো উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করে তোলেন। গৃহশিক্ষকের সাহায্যে ফয়জুন্নেছা খুব দ্রুতই কয়েকটি ভাষার ওপর গভীর জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হন। বাংলা, আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত এ চারটি ভাষায় ব্যুত্পত্তি লাভসহ ফয়জুন্নেছার এ প্রতিভা স্ফুরণ ঘটে। ফয়জুন্নেছা তার চিন্তা কাজকর্মে ছিলেন সে সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক। সেকালের সমাজ ব্যবস্থার সব রকম বাধা পেরিয়ে তিনি সম্পূর্ণ কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে মনোযোগ দিয়েছিলেন। তাই একজন নারী হয়েও সে সময়ে জমিদারির কঠোর দায়িত্ব তিনি সফলভাবে পালন করতে পেরেছেন।অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেন অচিরেই নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী কে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন নবাব ফয়জুন্নেসা ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক কুমিল্লার তরুন সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আজাদ সরকার লিটন।