১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ডরমেটরিতে ট্রেজারার,শিক্ষক ও কর্মকর্তা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে(কুবি) বর্তমানে ২৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২৮ জন শিক্ষক। কর্মকর্তাদের জন্যে স্বতন্ত্র ডরমেটরি নেই বলে মাত্র দুটি ডরমেটরিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা ভাগাভাগি করে থাকতে হয় বলে জানা যায়। এদিকে ট্রেজারারের জন্যে স্বতন্ত্র বাসভবন না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামানও এ ডরমেটরিতে বসবাস করছেন।

ডরমেটরিতে অবস্থান করা এক শিক্ষক বলেন, “অপ্রতুল এ পরিবেশে ট্রেজারারের বসবাস করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। আরেকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটা আবাসস্থলে ন্যূনতম যে সকল সুযোগ সুবিধা থাকা প্রয়োজন তার কোনোটিই এখানে নেই। পাহাড়সম সংকট নিয়ে ডরমেটরিগুলোতে আমরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি। ক্ষমতার প্রভাবে কর্মকর্তা টাইলস করা রুমে থাকেন। আর আমরা শিক্ষক হয়েও মোজাইক করা রুমে থাকতে হচ্ছে।এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই লজ্জা।”
শিক্ষকদের অভিযোগ, একই ডরমেটরিতে ২ জন কর্মকর্তা টাইলস করা কক্ষে থাকলেও শিক্ষকদের থাকতে হয় মোজাইক করা স্যাঁতসেঁতে কক্ষে। অাবাসন সংকট ও অসুবিধা নিয়ে কথা বলতেও বিব্রতবোধ করেন শিক্ষকেরা।

বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে ২৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে অাবাসন সুবিধা পাচ্ছেন ২৮ জন যা মোট শিক্ষকের ১১ শতাংশ।অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কর্মকর্তা রয়েছেন ৯৩ জন। জানা যায়,তারমধ্যে ডরমিটরিতে থাকছেন ১০ জন।শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের থাকার জন্য রয়েছে ৫ তলাবিশিষ্ট দুইটি ডরমেটরি। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবন দুটির বহিরাংশের রং বিবর্ণ হয়ে গেছে এবং অনেক স্থানেই রং খসে পড়ে গেছে। ভবনের ভিতর এবং বাইরের অংশ অপরিচ্ছন্ন।এছাড়াও সুপেয় পানির অভাব,সাপের উপদ্রব ও নানা কীট পতঙ্গের উৎপাত, স্যাঁতসেঁতে মোজাইকের ফ্লোর, পরিচ্ছন্নকর্মীর অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অধিকাংশ রুমে ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক পয়েন্টসহ নানা অপ্রতুলতা নিয়ে ডরমেটরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পরিচ্ছন্নতার জন্য নির্ধারিত কোন পরিচ্ছন্নকর্মী নেই। এছাড়া অধিকাংশ কক্ষের বৈদ্যুতিক পয়েন্টগুলো ত্রুটিপূর্ণ।ডরমেটরির পাশে ঘন ঝোপঝাড় থাকায় সাপের উপদ্রবসহ নানা কীট পতঙ্গের অাক্রমণের ভয় থাকে সবসময়।

এদিকে করোনা মহমারীর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের অনলাইনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। কিন্তু ডরমেটরিতে সরবারহকৃত ইন্টারনেট ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ক্লাস নেয়ার সময় বিপাকে পড়তে হয় তাদের। আর কর্তৃত্বের সুবাদে কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেদের ফ্ল্যাট টাইলস করে নিলেও শিক্ষকদের ফ্ল্যাটগুলো শেওলা পড়া পুরানো মোজাইক অবস্থাতেই রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ভবন দু’টির সামনে একটি সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হলেও তাও নষ্ট হয়ে আছে বলে জানা যায়।

এসব বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোঃ শামিমুল ইসলাম বলেন, “এটা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং ভবনগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে এটা সত্য। প্রশাসনকে জানানোর পর তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।

শিক্ষকদের এমন নিম্নমানের জীবনযাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী জানান, “সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বড় অংকের টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ডরমেটরিতে ট্রেজারার,শিক্ষক ও কর্মকর্তা

প্রকাশিত : ০৪:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে(কুবি) বর্তমানে ২৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২৮ জন শিক্ষক। কর্মকর্তাদের জন্যে স্বতন্ত্র ডরমেটরি নেই বলে মাত্র দুটি ডরমেটরিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা ভাগাভাগি করে থাকতে হয় বলে জানা যায়। এদিকে ট্রেজারারের জন্যে স্বতন্ত্র বাসভবন না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামানও এ ডরমেটরিতে বসবাস করছেন।

ডরমেটরিতে অবস্থান করা এক শিক্ষক বলেন, “অপ্রতুল এ পরিবেশে ট্রেজারারের বসবাস করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। আরেকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটা আবাসস্থলে ন্যূনতম যে সকল সুযোগ সুবিধা থাকা প্রয়োজন তার কোনোটিই এখানে নেই। পাহাড়সম সংকট নিয়ে ডরমেটরিগুলোতে আমরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি। ক্ষমতার প্রভাবে কর্মকর্তা টাইলস করা রুমে থাকেন। আর আমরা শিক্ষক হয়েও মোজাইক করা রুমে থাকতে হচ্ছে।এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই লজ্জা।”
শিক্ষকদের অভিযোগ, একই ডরমেটরিতে ২ জন কর্মকর্তা টাইলস করা কক্ষে থাকলেও শিক্ষকদের থাকতে হয় মোজাইক করা স্যাঁতসেঁতে কক্ষে। অাবাসন সংকট ও অসুবিধা নিয়ে কথা বলতেও বিব্রতবোধ করেন শিক্ষকেরা।

বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে ২৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে অাবাসন সুবিধা পাচ্ছেন ২৮ জন যা মোট শিক্ষকের ১১ শতাংশ।অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কর্মকর্তা রয়েছেন ৯৩ জন। জানা যায়,তারমধ্যে ডরমিটরিতে থাকছেন ১০ জন।শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের থাকার জন্য রয়েছে ৫ তলাবিশিষ্ট দুইটি ডরমেটরি। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবন দুটির বহিরাংশের রং বিবর্ণ হয়ে গেছে এবং অনেক স্থানেই রং খসে পড়ে গেছে। ভবনের ভিতর এবং বাইরের অংশ অপরিচ্ছন্ন।এছাড়াও সুপেয় পানির অভাব,সাপের উপদ্রব ও নানা কীট পতঙ্গের উৎপাত, স্যাঁতসেঁতে মোজাইকের ফ্লোর, পরিচ্ছন্নকর্মীর অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অধিকাংশ রুমে ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক পয়েন্টসহ নানা অপ্রতুলতা নিয়ে ডরমেটরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পরিচ্ছন্নতার জন্য নির্ধারিত কোন পরিচ্ছন্নকর্মী নেই। এছাড়া অধিকাংশ কক্ষের বৈদ্যুতিক পয়েন্টগুলো ত্রুটিপূর্ণ।ডরমেটরির পাশে ঘন ঝোপঝাড় থাকায় সাপের উপদ্রবসহ নানা কীট পতঙ্গের অাক্রমণের ভয় থাকে সবসময়।

এদিকে করোনা মহমারীর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের অনলাইনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। কিন্তু ডরমেটরিতে সরবারহকৃত ইন্টারনেট ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ক্লাস নেয়ার সময় বিপাকে পড়তে হয় তাদের। আর কর্তৃত্বের সুবাদে কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেদের ফ্ল্যাট টাইলস করে নিলেও শিক্ষকদের ফ্ল্যাটগুলো শেওলা পড়া পুরানো মোজাইক অবস্থাতেই রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ভবন দু’টির সামনে একটি সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হলেও তাও নষ্ট হয়ে আছে বলে জানা যায়।

এসব বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোঃ শামিমুল ইসলাম বলেন, “এটা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং ভবনগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে এটা সত্য। প্রশাসনকে জানানোর পর তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।

শিক্ষকদের এমন নিম্নমানের জীবনযাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী জানান, “সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বড় অংকের টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ