শুক্রবার রাত ৯ টায় জেলা সদরের গোকুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে তিস্তা নদীর বালু উত্তোলন সিন্ডিকেটের কর্ণধার রিপন (৩৮) ও দুলু (৪৫) মেম্বারের নেতৃত্বে স্থানীয় দূর্বৃত্তরা তিস্তার গোকুন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিসে হামলা করেছে। এসময় অফিসে কয়েক জন নেতা কর্মীরা বসে রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা করছিল। দূর্বৃত্তদের হামলায় নেতা কর্মীরা দিকে বেদিক পালিয়ে রক্ষা পায়। এসময় অফিসের আসবাবপত্র রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ও স্থানীয় নেতাদের ছবি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় মূহুর্তে এলাকাটিতে আতস্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তে দোকান পাটের সার্টার বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীগণ। রাতেই অবৈধ বালু উত্তোলন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পার্টি অফিস ও নেতা নেত্রীর ছবি ভাংচুরের প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ জনতার কয়েক ঘন্টা রংপুর- কুড়িগ্রাম মহা সড়কটি অবরোধ করে দূর্বৃত্তদের গ্রেফতারে দাবি জানায়। পরে গভীর রাতে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ তুলে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরের তিস্তার গোকুন্ডা গ্রামের সেকেন্দারের পুত্র রিপন (৩৮) ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বর দুলু (৪৫) এর নেতৃত্বে দুর্বৃত্তদের একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর শেখ হাসিনা সেতু এবং রেলওয়ে সেতুর পাদদেশ হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এই বালু বিক্রি করে তারা কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছে।
অবৈধা বালূ উত্তোলনের ফলে তিস্তা পাড়ের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যতা হুমকির মুখে পড়েছে। তিস্তা চরের জেগে উঠা বালু চরের কৃষকের ফসলের মাঠ ধবংস হয়ে যাচ্ছে। দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। অবৈধ বালু উত্তোলনে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা না পেয়ে গ্রামবাসী ও সাধারণ জনতা শুক্রবার বিকেলে বালু ভর্তি দুইটি ট্রাক্টর আটক করে স্থানীয় গোকুন্ডা ইউপি পরিষদের কার্যালয়ে আটক করে রাখেন। দূর্বৃত্তরা তাদের বালু ভর্তি ট্রাক্টর আটকে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ইন্ধন আছে বলে দাবি করে। তারা রাতে সুসংগঠিত হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ অফিস ভাংচুর করে। দূর্বত্তরা প্রায় এক ঘন্টা ধরে অফিসটিতে তান্ডব চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ও স্থানীয় নেতাদের ছবি ভাংচুর করে। দূর্বত্তারা তান্ডরের পর পরেই বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা অফিসের সামনের রংপুর- কুড়িগ্রাম -মহাসড়ক রোড়টি অবরোধ করে রাখে। প্রায় ৩/৪ ঘন্টা অবরূদ্ধ অবস্থায় সড়কের দুই পাড়ে কয়েক শত যানবাহন আটকে যায়। পরে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে কয়েক ঘন্টা চেষ্টার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা স্বপন জানান, এখানে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে পাওয়া যায়নি, আটক ট্রাক দুইটি জনসাধারণ আটক করেছে। প্রশাসনকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ ছিল। ঘটনা জানার পর আমি সেখানে উপস্থিত হই।
লালনিরহাট সদর থানার ওসি শাহ আলম জানান, চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। এই বিষয়ে কেউ এখনো কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে বিষয়টি থানা পুলিশের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















