ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের বাগানের সৌন্দর্যে মোহিত হন না এ রকম লোক খুব কমই আছেন। আবার কুমিল্লার দেবীদ্বারের মুক্তিযুদ্ধের গবেষক প্রবীন সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম আতিকুর রহমান বাশারকে নিয়ে জানার সারা জেলার আগ্রহ প্রবল। মুক্তিযুদ্ধের এ গবেষক সাংবাদিকতা ও রাজনীতিকের জন্যই হোক বা অন্য কারণ, সিনিয়র সাংবাদিক বাশারকে দেখতে এবং তার সম্পর্কে জানতে উৎসাহ কম-বেশি অনেকেই দেখিয়ে থাকেন। আর এই প্রবীন সাংবাদিক ও তার পরিবার যখন সূর্যমুখীর বাগানে, তখন তো নেটিজেনদের আগ্রহ চরমে উঠবেই।
সম্প্রতি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার ও তার স্ত্রী দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক দেবীদ্বারের সংবাদদাতা হুর বানু বাশার পলি তাদের নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন কয়েকটি ছবি। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বিস্তৃত সূর্যমুখী ফুলের বাগানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রবীন এ সাংবাদিক দম্পতি ও তার পরিবারের সদস্যরা। সূর্যমুখী ফুলের পাশাপাশি বাগানে দাঁড়িয়ে এ সাংবাদিক পরিবারের হাসি বাড়িয়ে দিচ্ছে বাগানের শোভা।
ছবিগুলো তোলা হয়েছে জেলার দেবীদ্বার পৌর এলাকার গুনাইঘর গ্রামের নন্দী বাড়ীর পূর্বপাশে ফসলের মাঠের দৃশ্য।
দিগন্ত বিস্তর সবুজ ফসলের মাঠ, তার বুকজুড়ে হলুদে রাঙ্গানো। এ যেন এক নতুন সূর্যের হাসি। দেবীদ্বার সদর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে অবস্থিত এই ফসলি মাঠে হলুদ ছড়ানো ‘সূর্যমূখী’ চাষ করা জমিকে ঘিরে এমন দৃশ্য। প্রতিদিন আশপাশ এলাকার নানা বয়সের মানুষ ছুটে আসছেন এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে।
পরিবার-পরিজন, প্রেমিক যুগল, বন্ধু-বান্ধব, সাংবাদিক পরিবারসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের পদভারে ওই এলাকা এখন সবার পরিচিত। ছুটির দিন বা কাজের ফাঁকে এক নজর সূর্যের হাসি দেখতে যেয়ে মনোরম পরিবেশের সাথে নিজেকে ক্যামেরা বন্দি, সেলফি তোলার চলে প্রতিযোগিতা।
সূর্যমূখী ক্ষেতের মালিক আবু তাহের (৫০) ওই গ্রামের মৃত. আব্দুল জলিলের ছেল। তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি পাহারায় থাকেন।
তিনি জানান, সকাল থেকে সারা দিন সূর্যমূখী ফসল দেখতে এবং ছবি তুলতে শত শত মানুষ এখানে ভিড় করেন। দিনভর পাহারায় থাকলেও আনন্দও লাগে। কারণ তার এ সূর্যমূখী ক্ষেত দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব সহ নানা বয়সী নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ভিড় করছেন। এ ক্ষেতকে ঘিরে গ্রামটিও অনেকের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে।
তবে এর মধ্যেও আছে শঙ্কা। কৃষক আবু তাহের বলেন, অন্যান্য ফসল নগদ বিক্রি করা যায়। বাজারজাত করার পূর্বেই জমি থেকেও ব্যবসায়ীরা ফসল কিনে নেয়। সূর্যমূখী আমাদের এ এলাকায় উৎপাদন কম হয়, কৃষকের মধ্যে এখনো আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি। সূর্যমূখীর তৈল সংগ্রহে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিতে হবে। ফসল ওঠার পর প্রক্রিয়াকরণে সহজ কিংবা লাভের হিসেব থেকেই চিন্তা করব, আগামীতে সূর্যমূখী চাষ করবেন কিনা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইদুজ্জামন জানান, পরীক্ষামূলক ‘সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআর আই কুমিল্লা’র তত্বাবধানে দেবীদ্বারের গুনাইঘর গ্রামে ‘সূর্যমূখীর ব্লক’ প্রদর্শনী করা হয়েছে। এর বিস্তার বৃদ্ধি, উপযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। ভোজ্য তেল সোয়াবিন নানা প্রক্রিয়াত কারণে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ছে। সুর্যমূখী ভোজ্য তৈল হিসেবে স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। অবশ্য এর ক্রচিং ইন্ডাস্ট্রিজ নোয়াখালীতে আছে। আমাদের এখানকার সূর্যমূখীর বীজ নোয়াখালীর ক্রচিং ইন্ডাস্ট্রিজে পাঠিয়ে ওখান থেকে পিষিয়ে তৈল বের করে আনতে হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















