নোয়াখালী হাতিয়ার দ্বীপ সরকারি কলেজের প্রভাষক আজগর হোসেনকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করে দ্বিতীয় দিনেও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকালে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার উপজেলা পরিষদ চত্তরে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গতকালও বিক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা একই স্থানে নিবাহী কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছিল।
বদ মেজাজী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী হাতিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের প্রত্যাহার দাবি আন্দোলনের অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবারও সকাল থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। এতে অংশগ্রহন করে হাতিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী। আন্দোলনের অংশ হিসাবে সকালে দ্বীপ সরকারী কলেজ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পরিষদ চত্তরে এসে শেষ হয়। পরে প্রায় ঘন্টা ব্যাপি মানববন্ধন করে ছাত্র-ছাত্রীরা। এতে বক্তব্য রাখেন সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নজরুল ইসলাম রাজু, জহির উদ্দিন স্বপন, সাজেদ উদ্দিন, শাকিল শামীম সহ অনেকে। বক্তারা বলেন, এই ইউএনও ইমরান হোসেনের হাতে শুধু সরকারি কলেজ শিক্ষকই নয়, তহসিলদার, অফিস কর্মচারী, প্রাইমারী শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রিকশাচালকসহ অসংখ্য ব্যক্তি লাঞ্ছিত হয়েছেন। আইনের লোক হয়েও তিনি সবসময় নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে সন্মানীত ও খেটে খাওয়া নিরিহ মানুষদের লাঞ্ছিত করছেন। আমরা অনতিবিলম্বে তাঁর প্রত্যাহার দাবি করছি। আমাদের দাবি মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা দিতে বাধ্য হবো।
জানাযায়, একটি জন্ম সনদের আবেদনে সত্যায়িত করার অপরাধে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের প্রভাষক আজগর হোসেনকে গত মঙ্গলবার বিকালে নিজ অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে। এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষককে একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে কলেজের উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহম্মেদ গিয়ে সরকারি কলেজ শিক্ষক আজগর হোসেনকে ইউএনওর কার্যালয় থেকে ছাড়িয়ে আনেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কলেজেরে ছাত্র-ছাত্রীরা মঙ্গলবার রাতেই সোশাল মিডিয়াতে ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অরুচিকর পোষ্ট দিতে থাকেন । পরদিন বুধবার সকাল থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নেমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়ে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী হাতিয়া উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের প্রত্যাহার আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এই বিষয়ে উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তার হাতে লাঞ্চিত কলেজ প্রভাষক আজগর হোসেন বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমার এলাকার একটি ছেলে এসে আমার কাছ থেকে একটি জন্ম সনদের আবেদন সত্যায়িত করে নেয়। তাতে বয়সের একটি গরমিল ছিল বলে পরে আমি জানতে পারি। এই বিষয়ে গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন আমাকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নেন। সত্যায়িত করার বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে বলার পর তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্ধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি তাঁর অফিসের কর্তব্যরত আনসারকে দিয়ে আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সবশেষে তিনি আমাকে দিয়ে জোর পূর্বক আমার ভুলের জন্য একটি লিখিত মুচলেকা নিয়ে নেন। খবর পেয়ে আমার কলেজের উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহম্মেদ গিয়ে আমাকে তাঁর কার্যালয় থেকে ছাড়িয়ে আনেন। এই ঘটনায় আমি খুবই অপমানিত হয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, কলেজের শিক্ষক আজগর হোসেন একটি ভুয়া জন্মসনদের আবেদনে সত্যায়িত করেছেন। এই বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে আরো উত্তেজিত হয়ে যায়। পরে তাঁর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে আমি ডেকে এনে বিষয়টি দেখায়। সেও বিষয়টি দেখে জন্ম সনদের আবেদনে সত্যায়িত করা টা ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। পরে তারা চলে যান। এখানে কাউকে লাঞ্ছি করা হয়নি।
এদিকে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন চলাকালীন বিপুল সংখ্যক পুলিশ রাস্তায় উপস্থিত ছিলেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।




















