০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আসছেন নরেন্দ্র মোদি, কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়িত সাতক্ষীরা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে ঘিরে অপরূপ সাজে সাজানো হচ্ছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা। সেই সাথে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িত পুরা সাতক্ষীরা। গেরুয়া রঙের আল্পনায় নান্দনিক রূপে সেজেছে যশোরেশ্বরী কালিমন্দির। মন্দিরের প্রবেশ দ্বার থেকে শুরু করে রাস্তা-ঘাট সব কিছুই চিত্তাকর্ষক করে সংস্কার করা হচ্ছে। বিশ্রামাগার, পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবাগুলোর প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে। এসব পরিষেবাগুলো নির্বিঘ্ন করতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত যশোরেশ্বরী কালিমন্দির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। তার সফরকে কেন্দ্র করে গোটা শ্যামনগরে জোরদার নিরাপত্তাবলয় তৈরিসহ পরিদর্শনস্থল ও আশপাশের এলাকাকে রীতিমতো নান্দনিক সাজে সাজানো হচ্ছে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিনিয়ত প্রস্তুতির খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে কোন ত্রুটি রাখতে চায় না ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ। তার আগমন থেকে পরিদর্শনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। ইতোমধ্যে সেখানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লাহ খন্দকার, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার রাজেশ কুমার রায়না, জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালসহ প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া শ্যামনগরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখে সাধারণের চলাচলের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে গত সোমবার সার্বিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষনে আসেন র‌্যাবের মহা পরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহা পরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার,র‌্যাব ৬ কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল রওশনুল ফিরোজ।
সফরসঙ্গীসহ নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণের লক্ষ্যে ঈশ্বরীপুর এ সোবহান বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ পার্শ্ববর্তী স্থানে প্রায় ছয়টি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হচ্ছে। হেলিকপ্টার অবতরণের পর যেসব রাস্তা দিয়ে তিনি মন্দির এলাকায় যাবেন, সেসব রাস্তা নতুনভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যরা দিনরাত কাজ করছেন। মন্দিরের দুটি অতিথি কক্ষ সজ্জিত করার পাশাপাশি বিকল্প বিশ্রামাগারসহ শৌচাগার নির্মাণেরও কাজ চলছে। ইতোমধ্যে মন্দির ও প্রাচীরের রঙের কাজসহ প্রাচীরের ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মন্দিরের প্রবেশদ্বারে পুরোনো বটতলা অংশে ইট-পাথরের মিশ্রণে সৌন্দর্যমণ্ডিত চাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। মন্দিরের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্তের যাবতীয় ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে মন্দিরের শোভা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীর পাশাপাশি বিশিষ্টজনেরা ইতোপূর্বে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শন করলেও কোনো দেশের সরকার প্রধানের এটাই প্রথম শ্যামনগরে আগমন। সে জন্য রীতিমতো উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে শ্যামনগরসহ গোটা সাতক্ষীরায়। নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঘিরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ প্রতিদিন প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা যশোরেশ্বরী মন্দির এলাকার যাবতীয় খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হেলিকপ্টার থেকে অবতরণের পর হতে মন্দির পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ রঙিন কাপড়ে মুড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মন্দির এলাকায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্দিরের সেবায়েত চট্টোপাধ্যায় পরিবারের অন্যতম সদস্য জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, বছরের কার্তিক মাসে মন্দিরে কালিপূজা অনুষ্ঠানের পাশাপাশ পাঠা বলি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এছাড়া সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার সেখানে পূজার ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কালিপূজার সময় সেখানে সাত দিনব্যাপী মেলা বসে। মূলত যশোরেশ্বরী কালিমন্দির বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ ছাড়িয়ে সব শ্রেণির মানুষের আগমন ঘটে এখানে। তবে অনেকে বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্যামনগরে আগমনকে কেন্দ্র করে মাতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে মতুয়া সম্প্রদায়ের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেবলমাত্র শ্যামনগর উপজেলায় রয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ২৭ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির এ মন্দির সফর যথেষ্ট ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক মহল।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেবিদ্বারের বারুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়

আসছেন নরেন্দ্র মোদি, কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়িত সাতক্ষীরা

প্রকাশিত : ০৬:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে ঘিরে অপরূপ সাজে সাজানো হচ্ছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা। সেই সাথে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িত পুরা সাতক্ষীরা। গেরুয়া রঙের আল্পনায় নান্দনিক রূপে সেজেছে যশোরেশ্বরী কালিমন্দির। মন্দিরের প্রবেশ দ্বার থেকে শুরু করে রাস্তা-ঘাট সব কিছুই চিত্তাকর্ষক করে সংস্কার করা হচ্ছে। বিশ্রামাগার, পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবাগুলোর প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে। এসব পরিষেবাগুলো নির্বিঘ্ন করতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত যশোরেশ্বরী কালিমন্দির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। তার সফরকে কেন্দ্র করে গোটা শ্যামনগরে জোরদার নিরাপত্তাবলয় তৈরিসহ পরিদর্শনস্থল ও আশপাশের এলাকাকে রীতিমতো নান্দনিক সাজে সাজানো হচ্ছে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিনিয়ত প্রস্তুতির খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে কোন ত্রুটি রাখতে চায় না ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ। তার আগমন থেকে পরিদর্শনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। ইতোমধ্যে সেখানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লাহ খন্দকার, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার রাজেশ কুমার রায়না, জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালসহ প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া শ্যামনগরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখে সাধারণের চলাচলের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে গত সোমবার সার্বিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষনে আসেন র‌্যাবের মহা পরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহা পরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার,র‌্যাব ৬ কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল রওশনুল ফিরোজ।
সফরসঙ্গীসহ নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণের লক্ষ্যে ঈশ্বরীপুর এ সোবহান বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ পার্শ্ববর্তী স্থানে প্রায় ছয়টি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হচ্ছে। হেলিকপ্টার অবতরণের পর যেসব রাস্তা দিয়ে তিনি মন্দির এলাকায় যাবেন, সেসব রাস্তা নতুনভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যরা দিনরাত কাজ করছেন। মন্দিরের দুটি অতিথি কক্ষ সজ্জিত করার পাশাপাশি বিকল্প বিশ্রামাগারসহ শৌচাগার নির্মাণেরও কাজ চলছে। ইতোমধ্যে মন্দির ও প্রাচীরের রঙের কাজসহ প্রাচীরের ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মন্দিরের প্রবেশদ্বারে পুরোনো বটতলা অংশে ইট-পাথরের মিশ্রণে সৌন্দর্যমণ্ডিত চাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। মন্দিরের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্তের যাবতীয় ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে মন্দিরের শোভা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীর পাশাপাশি বিশিষ্টজনেরা ইতোপূর্বে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শন করলেও কোনো দেশের সরকার প্রধানের এটাই প্রথম শ্যামনগরে আগমন। সে জন্য রীতিমতো উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে শ্যামনগরসহ গোটা সাতক্ষীরায়। নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঘিরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ প্রতিদিন প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা যশোরেশ্বরী মন্দির এলাকার যাবতীয় খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হেলিকপ্টার থেকে অবতরণের পর হতে মন্দির পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ রঙিন কাপড়ে মুড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মন্দির এলাকায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্দিরের সেবায়েত চট্টোপাধ্যায় পরিবারের অন্যতম সদস্য জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, বছরের কার্তিক মাসে মন্দিরে কালিপূজা অনুষ্ঠানের পাশাপাশ পাঠা বলি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এছাড়া সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার সেখানে পূজার ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কালিপূজার সময় সেখানে সাত দিনব্যাপী মেলা বসে। মূলত যশোরেশ্বরী কালিমন্দির বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ ছাড়িয়ে সব শ্রেণির মানুষের আগমন ঘটে এখানে। তবে অনেকে বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্যামনগরে আগমনকে কেন্দ্র করে মাতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে মতুয়া সম্প্রদায়ের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেবলমাত্র শ্যামনগর উপজেলায় রয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ২৭ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির এ মন্দির সফর যথেষ্ট ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক মহল।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ