১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

রায় পরবর্তী জবি ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

  • জবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : ১১:৩০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • 279

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা ও তারেক রহমানসহ অন্য আসামীদের দশ বছরের সাজা হওয়ায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগ।

এ রায়কে কেন্দ্র করে জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বুধবার সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাস ও বাহাদুর শাহ পার্কের আশপাশে অবস্থান নেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যাতে পুরান ঢাকায় কোনো ধরনের তৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য পাহারার ব্যবস্থা করে জবি ছাত্রলীগ।

তবে সারা দিনে ওই এলাকায় ছাত্রদলের কাউকে দেখা যায়নি। শুধু ছাত্রলীগের পাহারা নয়, অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয় ওই সব এলাকায়। সারা দিন গল্পগুজব করে কাটাতে হয়েছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলেও খালেদার রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কারণে অধিকাংশ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা। তাই সকাল থেকে একেবারে ফাঁকা ছিল ক্যাম্পাস। প্রশাসনিক কার্যক্রমও ছিল ঢিলেঢালা। তবে কয়েকটি বিভাগ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চালিয়ে গেছে। ক্যাম্পাসে শুধু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মিছিল আর মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে তারা।

এদিকে খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে সরকারের অতিরিক্ত খবরদারির কারণে পুরান ঢাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ ছিল না। যেন বা পুরান ঢাকায় অঘোষিত হরতাল চলছিল। গুলিস্তান টু সদরঘাট, গুলিস্তান টু মাওয়া, গুলিস্তান টু যাত্রাবাড়ি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোনো ধরনের গাড়ি বা বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। সিএনজি থেকে শুরু করে রিকশা, ভ্যানও হাতে গোনা কয়েকটি চলাচল করে। মানুষও অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই কম। দোকানপাট বন্ধ থাকায় মনে হচ্ছিল দেশে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। এমনকি দক্ষিণ বঙ্গের সাথে যোগাযোগের একমাত্র ব্যবস্থা লঞ্চ চলাচলও প্রায় বন্ধ ছিল। অন্যান্য দিন যেখানে প্রতিদিন সকালে ৬০-৭০টি লঞ্চ সদরঘাটে ভিড়ে, আজ সেখানে মাত্র ১০-১২টি লঞ্চ আসে।
সরকার ও প্রশাসন আশঙ্কা করলেও রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীদের।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার উপযুক্ত সাজা হওয়ায় জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ আনন্দিত। রায়ের আগে-পরে যেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পুরান ঢাকার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য আমরা গতকাল সন্ধ্যা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশে অবস্থান নিয়েছি।’

খালেদার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য ছাত্রলীগের  নেতাকর্মীদের  সতর্ক থাকতে বলেছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যে কোনো হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান

রায় পরবর্তী জবি ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

প্রকাশিত : ১১:৩০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা ও তারেক রহমানসহ অন্য আসামীদের দশ বছরের সাজা হওয়ায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগ।

এ রায়কে কেন্দ্র করে জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বুধবার সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাস ও বাহাদুর শাহ পার্কের আশপাশে অবস্থান নেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যাতে পুরান ঢাকায় কোনো ধরনের তৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য পাহারার ব্যবস্থা করে জবি ছাত্রলীগ।

তবে সারা দিনে ওই এলাকায় ছাত্রদলের কাউকে দেখা যায়নি। শুধু ছাত্রলীগের পাহারা নয়, অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয় ওই সব এলাকায়। সারা দিন গল্পগুজব করে কাটাতে হয়েছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলেও খালেদার রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কারণে অধিকাংশ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা। তাই সকাল থেকে একেবারে ফাঁকা ছিল ক্যাম্পাস। প্রশাসনিক কার্যক্রমও ছিল ঢিলেঢালা। তবে কয়েকটি বিভাগ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চালিয়ে গেছে। ক্যাম্পাসে শুধু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মিছিল আর মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে তারা।

এদিকে খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে সরকারের অতিরিক্ত খবরদারির কারণে পুরান ঢাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ ছিল না। যেন বা পুরান ঢাকায় অঘোষিত হরতাল চলছিল। গুলিস্তান টু সদরঘাট, গুলিস্তান টু মাওয়া, গুলিস্তান টু যাত্রাবাড়ি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোনো ধরনের গাড়ি বা বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। সিএনজি থেকে শুরু করে রিকশা, ভ্যানও হাতে গোনা কয়েকটি চলাচল করে। মানুষও অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই কম। দোকানপাট বন্ধ থাকায় মনে হচ্ছিল দেশে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। এমনকি দক্ষিণ বঙ্গের সাথে যোগাযোগের একমাত্র ব্যবস্থা লঞ্চ চলাচলও প্রায় বন্ধ ছিল। অন্যান্য দিন যেখানে প্রতিদিন সকালে ৬০-৭০টি লঞ্চ সদরঘাটে ভিড়ে, আজ সেখানে মাত্র ১০-১২টি লঞ্চ আসে।
সরকার ও প্রশাসন আশঙ্কা করলেও রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীদের।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার উপযুক্ত সাজা হওয়ায় জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ আনন্দিত। রায়ের আগে-পরে যেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পুরান ঢাকার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য আমরা গতকাল সন্ধ্যা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশে অবস্থান নিয়েছি।’

খালেদার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য ছাত্রলীগের  নেতাকর্মীদের  সতর্ক থাকতে বলেছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন।