কিছুদিন পূর্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর করোনামুক্ত হয়ে বুধবার রাতে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত দুটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন ডিআইজি হাবিব। ডিআইজি হাবিবের দুটি ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো।
প্রথম স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ছিলাম দীর্ঘদিন। গত রাতে বাসায় ফিরে এসেছি। গত ১৫ দিনে এত বেশি শুভানুধ্যায়ী আমার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন, আল্লার কাছে প্রার্থনা করেছেন, সুস্থ হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার পাঠিয়েছেন; তাদের সবার নাম উল্লেখ করা ফেসবুকের এই সীমিত পরিসরে সম্ভব নয়। সবার প্রতি আমার ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
‘হাসপাতালের নিয়মের কারণে, অনেক প্রিয় মানুষ দেখতে এসেছেন, বেশিরভাগই দেখা করতে না পেরে ফিরে গেছেন। নিজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিকে তুচ্ছজ্ঞান করে, আমার প্রতি যে মমতা সবাই দেখিয়েছেন; সবার প্রতি আমি আমার আন্তরিক শুভকামনা জানাচ্ছি। যারা দেখা করতে এসে ফিরে গেছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের সহযোগিতার কারণেই হয়তো আমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে এসেছি।’
‘আমার অনেক প্রিয়, স্নেহাস্পদ ও শ্রদ্ধেয়জন আমার জন্য দোয়া করেছেন। অনেকে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন। মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনাদের দোয়া কবুল করেছেন। আপনাদের প্রতি আমি মোবারকবাদ জানাচ্ছি।’
‘আমি হয়তো সবার কথা লিখতে পারছি না। তবে সবাই জানবেন, আমি আপনাদের সবার নাম সযত্নে সংরক্ষণ করেছি। আপনাদের এই ভালোবাসা কোনোদিন ভুলে যাওয়ার নয়।’
দ্বিতীয় স্ট্যাটাসে ডিআইজি হাবিব লেখেন, ‘গত ১৫ দিন রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। কিছু সামাজিক যোগাযোগের সুযোগও হয়েছিল। তাদের মধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ছিলেন। তাদের সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন একটা বিষয় নিয়ে, সরকারি একটি হাসপাতাল কীভাবে এত পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক হতে পারে, কীভাবে এর সেবা এতটা আন্তরিকতায় পূর্ণ হতে পারে; ইত্যাদি আরও অনেক বিষয় নিয়ে। বিস্মিত হওয়ার পাশাপাশি তারা আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশের গর্ব- এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সবাইকে। তাদের মতামত আর কৃতজ্ঞতাবোধের সঙ্গে আমারও বুকটা গর্বে ভরে ওঠে।’
‘ব্যক্তিগতভাবে সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আজ সুস্থ হয়ে আমি হাসপাতাল থেকে ফিরে যাচ্ছি। সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি, অসাধারণ কিছু স্মৃতি সীমাহীন আত্মবিশ্বাস বিশেষ করে দূরদর্শী পুলিশি নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















