১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামিসহ ৪১ জনের নামে মামলা

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার উত্তর হোসেনপুর গ্রামে ভ্যান চালক আবদুস সালাম শেখকে (৫৫) রাতের আধাঁরে এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহতের চাচাতো ভাই ও পুর্বের দুই মার্ডার মামলার আসামী হেমায়েত হোসেন শেখ বাদি হয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব কাজীকে (৭৫) প্রধান আসামীসহ ৪১ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০/১২জনকে অজ্ঞাত আসামী করে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে । রোববার রাত ৯টা দিকে উপজেলার উত্তর হোসেনপুর গ্রামের বাইর ব্রিজের উত্তর পশ্চিম পাশে ফাঁকা স্থানে ভ্যান চালক আবদুস সালাম শেখকে (৫৫) উপর্যপরি কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় অজ্ঞাত হত্যাকারিরা।

খবর পেয়ে স্বজনরা ৩ঘন্টার পর রাজৈর হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালাম মারা যায়। নিহত আবদুস সালাম একই গ্রামের মৃতঃ আজিজ শেখের ছেলে । নিরীহ ভ্যান চালক সালাম হত্যাকান্ডের পর এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে কিছু সংখ্যক লুন্ঠিত মামালামাল উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসা কুড়ায়। তবে রাতের আধাঁরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৪১জনকে আসামি করে থানায় মামলা করার ঘটনাকে ঘিরে উপজেলার সর্বত্র আলোাচনা সমালোচনার ঝড় বইছে ।
পুলিশ, স্থানীয় ও ভূক্তভোগি পরিবার সূত্রে জানাযায়, রাজৈর উপজেলার উত্তর হোসেনপুর গ্রামের মৃতঃ আজিজ শেখের ছেলে তিন সন্তানের জনক নিরীহ ভ্যান চালক আবদুস সালাম শেখ (৫৫) রোববার রাত ৯টার দিকে চান্দের বাজারে যাত্রী নামিয়ে ভ্যান গাড়ী নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হোসেনপুর-কাচাবালি সড়কের বাইর ব্রিজের উত্তর পশ্চিম পাশে ফাঁকা স্থানে আসলে অজ্ঞাত দুবৃর্ত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি ভাবে কুপিয়ে সালামের পেট থেকে নারীভুরি বের করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত হওয়ার তিন ঘন্টা পর রাত ১২টার দিকে মুমুর্ষ অবস্থায় রাজৈর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে (সালাম) মারা যায়। এ হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে সুবিধাবাদীরা উত্তর হোসেনপুর এলাকার ফারুক শেখ, গিয়াসউদ্দিন মাতুব্বর ও এমদাদুল হক সহ প্রায় ২০টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং লুটপাট হওয়া কিছু সংখ্যক মালামাল উদ্ধার করে মালিককে ফিরিয়ে দেয়।
নিহত সালামের মা ভাসানী বেগম (৭০) জানান, দুটি হত্যাকান্ডের আসামি আয়নাল জামিনে বাড়ি এসে বলে এবার বড়টা কোরবানি দিতে হবে । এর পরই এ হত্যাকান্ডটি হয় । গ্রামের সকলের মুখে মুখে একই কথা আগের দুটি হত্যাকান্ডের মামলার আসামিরা ওই মামলা থেকে রক্ষা পেতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে ।
পুর্বের নিহত পরিবারের (দুটি হত্যাকান্ড) স্বজন শুকুর আলীর স্ত্রী খুশি বেগম ও তার মেয়ে সাগরী আক্তারের দাবি, প্রতিপক্ষ আয়নালের লোকজনই সালামকে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে আগের দুটি হত্যাকান্ডের মামলা থেকে রেহাই পেতে আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ।

এদিকে আয়নালের সমর্থক বিল্লাল শেখের দাবি শুকুর আলী খালাসীর লোকজন এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে । পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে কারনে একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে এবং কোন পক্ষ এ হত্যাকান্ডের সুবিধা ভোগ করবে? এটাই এখন উপজেলার সর্বত্র মুখ্য আলোচনা ।
তবে ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে বিবাদমান দুটি পক্ষ আয়নাল শেখ ও শুকুর আলী খালাসীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে শুকুর আলী খালাসীর পক্ষের দুইজন নিহত হয়েছিল ।

এ হত্যাকান্ডে আয়নালসহ ৮৪জনকে আসামী করে দায়ের করা মামলা চলমান রয়েছে। ওই দুটি হত্যাকান্ডের মামলার জের ধরে বিশেষ ফায়দা লোটার জন্য ষড়যন্ত্রকারিদল এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে এলাকাবাসি জানায়।
ওসি শেখ সাদিক জানায়, এব্যাপারে মঙ্গলবার রাতে নিহত সালামের চাচাতো ভাই হেমায়েত শেখ বাদী হয়ে ৪১জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০/১২জনকে অজ্ঞাত করে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামিসহ ৪১ জনের নামে মামলা

প্রকাশিত : ০৬:০০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০২১

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার উত্তর হোসেনপুর গ্রামে ভ্যান চালক আবদুস সালাম শেখকে (৫৫) রাতের আধাঁরে এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহতের চাচাতো ভাই ও পুর্বের দুই মার্ডার মামলার আসামী হেমায়েত হোসেন শেখ বাদি হয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব কাজীকে (৭৫) প্রধান আসামীসহ ৪১ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০/১২জনকে অজ্ঞাত আসামী করে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে । রোববার রাত ৯টা দিকে উপজেলার উত্তর হোসেনপুর গ্রামের বাইর ব্রিজের উত্তর পশ্চিম পাশে ফাঁকা স্থানে ভ্যান চালক আবদুস সালাম শেখকে (৫৫) উপর্যপরি কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় অজ্ঞাত হত্যাকারিরা।

খবর পেয়ে স্বজনরা ৩ঘন্টার পর রাজৈর হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালাম মারা যায়। নিহত আবদুস সালাম একই গ্রামের মৃতঃ আজিজ শেখের ছেলে । নিরীহ ভ্যান চালক সালাম হত্যাকান্ডের পর এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে কিছু সংখ্যক লুন্ঠিত মামালামাল উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসা কুড়ায়। তবে রাতের আধাঁরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৪১জনকে আসামি করে থানায় মামলা করার ঘটনাকে ঘিরে উপজেলার সর্বত্র আলোাচনা সমালোচনার ঝড় বইছে ।
পুলিশ, স্থানীয় ও ভূক্তভোগি পরিবার সূত্রে জানাযায়, রাজৈর উপজেলার উত্তর হোসেনপুর গ্রামের মৃতঃ আজিজ শেখের ছেলে তিন সন্তানের জনক নিরীহ ভ্যান চালক আবদুস সালাম শেখ (৫৫) রোববার রাত ৯টার দিকে চান্দের বাজারে যাত্রী নামিয়ে ভ্যান গাড়ী নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হোসেনপুর-কাচাবালি সড়কের বাইর ব্রিজের উত্তর পশ্চিম পাশে ফাঁকা স্থানে আসলে অজ্ঞাত দুবৃর্ত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি ভাবে কুপিয়ে সালামের পেট থেকে নারীভুরি বের করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত হওয়ার তিন ঘন্টা পর রাত ১২টার দিকে মুমুর্ষ অবস্থায় রাজৈর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে (সালাম) মারা যায়। এ হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে সুবিধাবাদীরা উত্তর হোসেনপুর এলাকার ফারুক শেখ, গিয়াসউদ্দিন মাতুব্বর ও এমদাদুল হক সহ প্রায় ২০টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং লুটপাট হওয়া কিছু সংখ্যক মালামাল উদ্ধার করে মালিককে ফিরিয়ে দেয়।
নিহত সালামের মা ভাসানী বেগম (৭০) জানান, দুটি হত্যাকান্ডের আসামি আয়নাল জামিনে বাড়ি এসে বলে এবার বড়টা কোরবানি দিতে হবে । এর পরই এ হত্যাকান্ডটি হয় । গ্রামের সকলের মুখে মুখে একই কথা আগের দুটি হত্যাকান্ডের মামলার আসামিরা ওই মামলা থেকে রক্ষা পেতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে ।
পুর্বের নিহত পরিবারের (দুটি হত্যাকান্ড) স্বজন শুকুর আলীর স্ত্রী খুশি বেগম ও তার মেয়ে সাগরী আক্তারের দাবি, প্রতিপক্ষ আয়নালের লোকজনই সালামকে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে আগের দুটি হত্যাকান্ডের মামলা থেকে রেহাই পেতে আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ।

এদিকে আয়নালের সমর্থক বিল্লাল শেখের দাবি শুকুর আলী খালাসীর লোকজন এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে । পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে কারনে একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে এবং কোন পক্ষ এ হত্যাকান্ডের সুবিধা ভোগ করবে? এটাই এখন উপজেলার সর্বত্র মুখ্য আলোচনা ।
তবে ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে বিবাদমান দুটি পক্ষ আয়নাল শেখ ও শুকুর আলী খালাসীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে শুকুর আলী খালাসীর পক্ষের দুইজন নিহত হয়েছিল ।

এ হত্যাকান্ডে আয়নালসহ ৮৪জনকে আসামী করে দায়ের করা মামলা চলমান রয়েছে। ওই দুটি হত্যাকান্ডের মামলার জের ধরে বিশেষ ফায়দা লোটার জন্য ষড়যন্ত্রকারিদল এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে এলাকাবাসি জানায়।
ওসি শেখ সাদিক জানায়, এব্যাপারে মঙ্গলবার রাতে নিহত সালামের চাচাতো ভাই হেমায়েত শেখ বাদী হয়ে ৪১জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০/১২জনকে অজ্ঞাত করে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ