চট্টগ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এখন আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা মোরশেদের স্ত্রীর।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো পুলিশের সুপার নাইমা সুলতানা আজ রোববার সকালে বলেন, ব্যাংকার মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই আদেশ পেয়েছে। মামলার ডকিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র পিবিআই বুঝে নিচ্ছে। এরপর তদন্ত শুরু হবে।
শুরুতে মামলাটি তদন্ত করছিল নগরের পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ। পরে নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে। এখন তদন্তের দায়িত্ব পেল পিবিআই।
গত ৭ এপ্রিল নগরের পাঁচলাইশ থানার হিলভিউ আবাসিক এলাকার বাসায় মোরশেদ চৌধুরী আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি চার পৃষ্ঠার একটি ‘সুইসাইড’ নোট লিখে যান। তার একটি অংশে লেখা ছিল, ‘আরেকটু দেখি, আরেকটু দেখি করতে করতে দেনার গর্তটা অনেক বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে। যারা কোনো টাকাই পেত না, তাদের দিতে গিয়ে এখন সত্যিকারের দেনায় জর্জরিত। বেঁচে থাকলে এ দেনা আরও বাড়বে। তা ছাড়া পরিচিতগুলোই এখন চেপে ধরেছে বেশি। এই লোড আমি আর নিতে পারছি না, সত্যি পারছি না।’
মোরশেদের আত্মহত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। মামলায় মোরশেদের দুই ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, পারভেজ ইকবাল চৌধুরীসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও আটজন আসামি রয়েছেন।
মামলার আসামি পারভেজ ইকবালের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আরাফাত হোসেন নামের একজনকে গত ২৭ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আরাফাত জামিনের আবেদন করেছিলেন। তাঁর এই আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান ভার্চুয়াল শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, আসামি আরাফাতের জামিনের আবেদন করা হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার বিরোধিতা করা হয়। আদালত আরাফাতের জামিন আবেদন নাকচ করেন।
মামলার বাদী ইসরাত জাহান বলেন, ‘আসামিদের হুমকি ও চাপে আমার স্বামী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তাঁকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। পিবিআইয়ের তদন্তে যেন আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।’
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
























