মাদারীপুরে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর মরহুম আছমত আলী খান সম্পর্কে কটুক্তিপূর্ন বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির মাঠ। সপ্তাহ খানেক ধরে চলছে আওয়ামী লীগ দু‘গ্রুপের পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি।
এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এসব কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের ফুলতলা বাজার এলাকায় পাশাপাশি স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করে আওয়ামী লীগের দুই গ্র“প। মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লার পদত্যাগ ও দল থেকে বহিস্কারের দাবীতে সমাবেশ করে আওয়ামী লীগের এক গ্র“প। এতে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউর রহমান তালুকদার।
বক্তব্য রাখেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এমপি,কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য শাকিলুর রহমান সোহাগ তালুকদার, শাজাহান খান এমপির স্থানীয় প্রতিনিধি আফম ফুয়াদ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য আসিফ খান, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা হাসান পল্লবী, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন সাহা, উপজেলা যুবরীগের আহবায়ক রেদওয়ানুল হক রেজন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মুন্না প্রমুখ।
অপর দিকে ভিন্ন স্থানে বৈরাগী বাজারের পাইকপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা গ্রুপের কর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশ করে। এ সমাবেশে সাহাবুদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ন বক্তব্য দেয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী শেখ, রাজৈর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল-আমিন মোল্লা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ইউসুফ আলী মিয়া, আবু বকর খান, দিলীপ মিয়া প্রমুখ।

সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এমপি বলেন, ‘গত ২৫ মে রাজৈর উপজেলার শান্তি নিকেতন কেন্দ্রে ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লা মাদারীপুরের সর্বস্তরের জনগণের প্রাণপ্রিয় নেতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আছমত আলী খানের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা ও স্বাধীনতা পদক নিয়ে কটুক্তি করেন। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
শাহাবুদ্দিন মোল্লার এই অশালীন, ঔদ্ধত্যপূর্ণ, শিষ্টাচার বর্হিভূত ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় আমরা তার প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ দাবি করেন। তার এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।’ মূলত এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অব্যাহত ভাবে দু‘গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করায় রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুরে জেলা আওয়ামী লীগ দুটি গ্রুপে বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং অন্যটির নেতৃত্ব দেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ



















