০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে মারপিটের শিকার বেরোবির দুই শিক্ষার্থী

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক) রশিদ না দিয়ে রোগি ভর্তির অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় হাসপাতালের কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীকে মারপিট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে রমেক কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত দুই শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার সাদুলাপুর উপজেলার কিশামত শেরপুর গ্রামের রহিমা বেগম দীর্ঘদিন থেকে কিডনি রোগে ভুগছেন। সপ্তাহে তিনদিন তাকে হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে হয়। কিন্তু রহিমা বেগম হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তির জন্য নিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছেলে। একজন হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষার্বষের রাশেদ করিম ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যলয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী রেয়াজুল ইসলাম। এই ঘটনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
বেরোবির শিক্ষার্থী রেয়াজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় মা হঠাৎ করে অসুস্থ হলে বড় ভাইসহ মাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে মাকে ভর্তির জন্য জরুরি বিভাগে টিকেট নিতে কর্তব্যরত এক কর্মচারীকে ১০০ টাকা দেয়া হয়। ওই কর্মচারী টাকা ফেরত না দিয়ে বলে ১০০ টাকা লাগবে। এ সময় তারা বলে রোগী ভর্তির জন্য টিকেটের মূল্য ৩০ টাকা তা হলে কেন ১০০ টাকা নিচ্ছেন। ১০০ টাকা নিলে রশিদ দেন। এ কথা বলার সাথে সাথে কর্মচারীরা বড় ভাই রাশেেেদর গালে থাপ্পড় মারে। এ সময় জরুরি বিভাগে থাকা অন্যান্য কর্মচারীরা এক যোগে রাশেদের উপর হামলা চালিয়ে কিল ঘুষি লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে কর্মচারী জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে আমাদেরকে শারীরিক নির্যাতন করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালের ১৫ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোস্তফা জামান চৌধুরীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে হাসপাতালের কর্মচারীরা দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বেরোবি প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থী মারপিটের বিষয়টি শোনার পর পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে বেরোবি’র সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিকালে ঘটনার সাথে জড়িত কর্মচারিদের বিচার ও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে মারপিটের শিকার বেরোবির দুই শিক্ষার্থী

প্রকাশিত : ০৪:৩০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুন ২০২১

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক) রশিদ না দিয়ে রোগি ভর্তির অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় হাসপাতালের কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীকে মারপিট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে রমেক কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত দুই শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার সাদুলাপুর উপজেলার কিশামত শেরপুর গ্রামের রহিমা বেগম দীর্ঘদিন থেকে কিডনি রোগে ভুগছেন। সপ্তাহে তিনদিন তাকে হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে হয়। কিন্তু রহিমা বেগম হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তির জন্য নিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছেলে। একজন হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষার্বষের রাশেদ করিম ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যলয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী রেয়াজুল ইসলাম। এই ঘটনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
বেরোবির শিক্ষার্থী রেয়াজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় মা হঠাৎ করে অসুস্থ হলে বড় ভাইসহ মাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে মাকে ভর্তির জন্য জরুরি বিভাগে টিকেট নিতে কর্তব্যরত এক কর্মচারীকে ১০০ টাকা দেয়া হয়। ওই কর্মচারী টাকা ফেরত না দিয়ে বলে ১০০ টাকা লাগবে। এ সময় তারা বলে রোগী ভর্তির জন্য টিকেটের মূল্য ৩০ টাকা তা হলে কেন ১০০ টাকা নিচ্ছেন। ১০০ টাকা নিলে রশিদ দেন। এ কথা বলার সাথে সাথে কর্মচারীরা বড় ভাই রাশেেেদর গালে থাপ্পড় মারে। এ সময় জরুরি বিভাগে থাকা অন্যান্য কর্মচারীরা এক যোগে রাশেদের উপর হামলা চালিয়ে কিল ঘুষি লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে কর্মচারী জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে আমাদেরকে শারীরিক নির্যাতন করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালের ১৫ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোস্তফা জামান চৌধুরীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে হাসপাতালের কর্মচারীরা দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বেরোবি প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থী মারপিটের বিষয়টি শোনার পর পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে বেরোবি’র সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিকালে ঘটনার সাথে জড়িত কর্মচারিদের বিচার ও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ