১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

জামালপুরে মাটি ছাড়া সবজি চাষ

জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে মাটি বিহীন হাইড্রোপনিক সবজি চাষ পদ্ধতি  সম্প্রতি আবিস্কার করেছে কৃষি গবেষণার বিজ্ঞানীরা।  এই চাষ পদ্ধতি দেশের ক্রমবর্ধমান চাষ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও লাভজনক করে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করবে।এতে কমাবে চাষাবাদের খরচ, পাবে জিংক সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাদ্য। বাড়বে কৃষি উদ্দ্যোক্তা, সৃৃষ্টি হবে বাজার, ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ভুমিকা রাখবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতি।
সম্প্রতি জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা মুলক হাইড্রোপনিক বা মাটি বিহীন, সারা বছরের চাষ পদ্ধতি আবিস্কার করেছে। এটি মুলত নারিকেলের ছোবরা টবের মধ্যে রেখে চারা বপন করে । নিউট্রেশন নিয়মিত নলের সাহায্যে প্রতিটি চারার গোড়ায় খাদ্য সরবরাহ করে থাকে। এতে পুষ্টিকর সবজি উৎপাদন করতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিতে ১৪ ধরনের সবজি চাষ করা যায়। এখানে মুলত এক প্রকার ইলেকট্রিক ডিভাইস ও অ্যাপসের মাধ্যমে সকল গাছের আন্ত:পরির্চযার কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই পরির্চযার জন্য বাড়তি কোন লোকবল প্রয়োজন হয় না। ফলে চাষের জন্য বাড়তি খরচ নেই। এই হাইড্র্রোপনিক চাষ বাড়ীর ছাদে, পাহাড়ে অথবা যেসব এলাকায় পানির অভাব সেখানে চাষ করা যায়। নেট হাউজে অ্যাপস ভিত্তিক হাইড্রোপনিক কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই চাষ করা সম্ভব। বাগানের তাপমাত্রার আর্দ্রতা বেড়ে গেলে সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃষ্টি দিয়ে ঠান্ডা করে দিবে। গাছে কোন সমস্যা বা খাবার প্রয়োজন হলে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠাবে। মোবাইল অ্যাপস সাথে সাথে সেটি সমাধান করে দিবে। বাগানে না এসেও এই পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। বাগানে সব সময় অ্যাপসটি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে পরির্চযা করে সবজি, ফল খুব সুস্বাদু হয় এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা । হাইড্রোপনিক চাষের সকল ডিভাইস,বুকলেট, পদ্ধতি প্রয়োজনে প্রশিক্ষন দিয়ে  থাকবে জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।
বিভিন্ন জেলার কৃষি উদ্যোক্তারা হাইড্রোপনিক সবজি বাগান ঘুরে দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।  তারা অনেকেই সেড বেড থেকে চারা নিয়ে বাড়ীর ছাদে পরীক্ষামুলক লাগানোর কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উদ্ভাবক বৈজ্ঞানিক র্কমর্কতা মো, খায়রুল মাজেদ জানান,
অল্প খরচে এই পদ্ধতিতে চাষ করে অধিক লাভ করা যায়। হাইড্রোপনিক চাষের খাদ্য নিরাপদ । এ কারনে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে করোনা কালীন সময় শিশুদের জন্য বাড়তি জিংক সমৃদ্ধি সবজি পেতে মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে।
জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড, মো, মঞ্জুরুল কাদির জানান, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে অল্প জায়গাতে চাষ করা যায়, এখানে কীটনাশকের পরিমান ও পোকার আক্রমন কম থাকে। এই চাষ পদ্ধতিকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। আরো অল্প খরচে চাষ যোগ্য করতে আমাদের গবেষকরা কাজ করে যাচ্ছেন ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ
ট্যাগ :

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হচ্ছে আজ

জামালপুরে মাটি ছাড়া সবজি চাষ

প্রকাশিত : ০৭:৩২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুন ২০২১
জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে মাটি বিহীন হাইড্রোপনিক সবজি চাষ পদ্ধতি  সম্প্রতি আবিস্কার করেছে কৃষি গবেষণার বিজ্ঞানীরা।  এই চাষ পদ্ধতি দেশের ক্রমবর্ধমান চাষ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও লাভজনক করে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করবে।এতে কমাবে চাষাবাদের খরচ, পাবে জিংক সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাদ্য। বাড়বে কৃষি উদ্দ্যোক্তা, সৃৃষ্টি হবে বাজার, ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ভুমিকা রাখবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতি।
সম্প্রতি জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা মুলক হাইড্রোপনিক বা মাটি বিহীন, সারা বছরের চাষ পদ্ধতি আবিস্কার করেছে। এটি মুলত নারিকেলের ছোবরা টবের মধ্যে রেখে চারা বপন করে । নিউট্রেশন নিয়মিত নলের সাহায্যে প্রতিটি চারার গোড়ায় খাদ্য সরবরাহ করে থাকে। এতে পুষ্টিকর সবজি উৎপাদন করতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিতে ১৪ ধরনের সবজি চাষ করা যায়। এখানে মুলত এক প্রকার ইলেকট্রিক ডিভাইস ও অ্যাপসের মাধ্যমে সকল গাছের আন্ত:পরির্চযার কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই পরির্চযার জন্য বাড়তি কোন লোকবল প্রয়োজন হয় না। ফলে চাষের জন্য বাড়তি খরচ নেই। এই হাইড্র্রোপনিক চাষ বাড়ীর ছাদে, পাহাড়ে অথবা যেসব এলাকায় পানির অভাব সেখানে চাষ করা যায়। নেট হাউজে অ্যাপস ভিত্তিক হাইড্রোপনিক কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই চাষ করা সম্ভব। বাগানের তাপমাত্রার আর্দ্রতা বেড়ে গেলে সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃষ্টি দিয়ে ঠান্ডা করে দিবে। গাছে কোন সমস্যা বা খাবার প্রয়োজন হলে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠাবে। মোবাইল অ্যাপস সাথে সাথে সেটি সমাধান করে দিবে। বাগানে না এসেও এই পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। বাগানে সব সময় অ্যাপসটি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে পরির্চযা করে সবজি, ফল খুব সুস্বাদু হয় এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা । হাইড্রোপনিক চাষের সকল ডিভাইস,বুকলেট, পদ্ধতি প্রয়োজনে প্রশিক্ষন দিয়ে  থাকবে জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।
বিভিন্ন জেলার কৃষি উদ্যোক্তারা হাইড্রোপনিক সবজি বাগান ঘুরে দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।  তারা অনেকেই সেড বেড থেকে চারা নিয়ে বাড়ীর ছাদে পরীক্ষামুলক লাগানোর কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উদ্ভাবক বৈজ্ঞানিক র্কমর্কতা মো, খায়রুল মাজেদ জানান,
অল্প খরচে এই পদ্ধতিতে চাষ করে অধিক লাভ করা যায়। হাইড্রোপনিক চাষের খাদ্য নিরাপদ । এ কারনে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে করোনা কালীন সময় শিশুদের জন্য বাড়তি জিংক সমৃদ্ধি সবজি পেতে মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে।
জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড, মো, মঞ্জুরুল কাদির জানান, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে অল্প জায়গাতে চাষ করা যায়, এখানে কীটনাশকের পরিমান ও পোকার আক্রমন কম থাকে। এই চাষ পদ্ধতিকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। আরো অল্প খরচে চাষ যোগ্য করতে আমাদের গবেষকরা কাজ করে যাচ্ছেন ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ