চলছে আষাঢ় মাস। খাল, বিল, জলাশয়, নদী নালায় আস্তে আস্তে পানি বাড়তে শুরু করেছে। তাই নৌকা তৈরির কারিগররা যেন এক প্রকার ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঠুক ঠুক শব্দে নৌকা তৈরির কারিগরদের চলছে কর্মযজ্ঞ।
এদিকে নৌকা তৈরিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া বাজার এলাকায় এক শিল্প গড়ে উঠেছে। তাদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় শৈল্পিক সৌন্দর্যে তৈরি হচ্ছে এক একটি নৌকা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের আগেই মোগড়া বাজার এলাকায় নৌকা তৈরি ও বিক্রির ধুম পড়ে যায়। এই বাজারে অন্ত:ত ১৫ জন ব্যবসায়ী ও কারিগর নিজে নৌকা তৈরিসহ বিক্রি করে আসছেন। আর এই নৌকা তৈরিকে কেন্দ্র করে এখানে অর্ধশতাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার তৈরি নৌকার কদর রয়েছে জেলা জুড়ে। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এ বাজারের নৌকা এখনো তার পূর্বের অবস্থান ধরে রেখেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আখাউড়া-ধরখার-সড়কের মোগড়া বাজার এলাকায় রাস্তার দু’পাশে বেশ কয়েকটি নৌকা তৈরি নিয়ে কারিগররা এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ হাতুর, করাত ও দা দিয়ে নৌকা তৈরি করছেন। কেউবা তৈরিকৃত নৌকাকে রোদে শুকানোর জন্য ফাঁকা জায়গায় এনে রেখেছেন। আবার কেউ বা রাস্তার পাশে বিক্রির জন্য তৈরিকৃত নৌকা সাজিয়ে রাখছেন।
এখানে সাধারণত কারিগররা ডিঙ্গি ও কোষা দুই ধরনের নৌকা তৈরি করেন। কোষা ১২ ফুট আর ডিঙ্গি নৌকা ১৫-১৬ ফুট দৈর্ঘে হয়ে থাকে। এসব নৌকা তৈরি হচ্ছে শিমুল, কাঁঠাল, মেহগনি, কড়ই, আমসহ অন্যান্য গাছের কাঠ দিয়ে। ঠুকঠুক শব্দে চলছে নৌকা তৈরির কাজ। তবে এখানে সবচাইতে কোষা নৌকার কদর বেশি রয়েছে বলে কারিগর ও বিক্রেতারা জানান। বনগজ গ্রামে ক্রেতা মিলন দাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই নৌকা দিয়ে মাছ শিকার থেকে শুরু করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পারাপার হতে হয়। সামনে আসছে বর্ষা তাই এখান থেকে একটি কোষা নৌকা ৫ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়। মোগড়া বাজারের নৌকার মান খুবই ভালো।
চান্দি গ্রামের আলফাজ মিয়া জানান, বর্ষা মৌসুমে নৌকা হল আমাদের একমাত্র নির্ভর যোগ্য সঙ্গী। নৌকা ছাড়া কিছুই ভাবা যায় না। প্রতি বছরই এই খানে নৌকা কিনতে আসা হয়।
মোগড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বলেন, গুণগত ও মান সম্মত নৌকা দীর্ঘ বছর ধরে তৈরি করে আসছে। বাজারে কোনো প্রকার সমস্যা নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় নিজ জেলা ছাড়া ও অন্য স্থান থেকে এখানে লোকজন নৌকা কিনতে আসছেন।




















