আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য নড়াইল জেলায় ৩৪ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা।
গত বছর কোরবানি ঈদে জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ১০ হাজার গরু ও ছাগল বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেছে জেলার চাষিরা। গত বছর ভারত থেকে নড়াইলে কোরবানির হাটে পশু কম আমদানি করায় দেশি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। খামারিরাও ভালো লাভ করেছিল।
তাই এই বছরও কোরবানিকে সামনে রেখে লাভের আশায় জেলাতে কোরবানির চাহিদার তুলনায় ১২ হাজার দেশি গরু ও ছাগল মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। কিন্ত মহামারি করোনা বাড়তে থাকায় দুচিন্তায় পড়েছে জেলার চার হাজার খামারি ও কৃষক।
জেলা প্রানি সম্পদ অফিস সুত্রে জানা গেছে, বছর দশেক আগে থেকে নড়াইলের কৃষকেরা ও খামারিরা কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে দেশিয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে।
এ বছর জেলার চার হাজার এক’শ জন খামারি ৩৪ হাজার ৮’শ ৫৮ টি গরু, ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজা করেছে। যার মধ্যে ২০ হাজার ৭’শ ৯২ টি দেশি গরু, ১৩ হাজার ৯’শ ৭৩ টি ছাগল এবং ৯৩ টি ভেড়া রয়েছে।
গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার ৩’শ ২৬ টি পশু বেশি মোটাতাজা করেছে জেলার চাষিরা। এ বছরও তিনটি উপজেলার মধ্যে নড়াইল সদরে বেশি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।
নড়াইল জেলা প্রানি সম্পদ সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে চলতি বছর জেলায় তুলনা মূলক কোরবানির চাহিদা বেশ কম। এ বছর কোরবানি ঈদে জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে সব (গরু, ছাগল ও ভেড়া) মিলিয়ে সর্বচ্চ ২২ হাজার। জেলার খামারিরা যে পরিমান পশু মোটাতাজা করেছে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ১২ হাজার পশু (গরু ও ছাগল) বিভিন্ন জেলায় যোগান দিতে পারবে।
স্থানীয় খামারিরা জানান, গত বছর ভারত থেকে গরু আমদানি কম করায় স্থানীয় গরুর চাহিদা ছিল বেশি। তাই জেলার গরু খামারিরা ভালো লাভ করেছে। ১ম ঢেউ এর পর করোনার প্রকপ অনেকটা কমে যাওয়ায় চলতি বছর জেলার অনেক খামারি গত বারের তুলনায় আরও বেশি গরু মোটাতাজা করছে।
শেষ সময়ে করোনার বাড়তে থাকায় এতে দুচিন্তায় পড়েছে জেলার খামারি ও কৃষকেরা। মরিচপাশা গ্রামের খামারি মুজিবুলের দাবি সারাদেশে লকডাউন থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে কোরবানি পশু বহনকারী যানবহন যেন এর আওতায় না থাকে।
খামারি ও চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় মোট যে পশু মোটাতাজা করা হয় তার ৬০ ভাগ মোটাতাজা করছে খামারিরা আর বাকি ৪০ ভাগ গরু মোটাতাজা করছে জেলার সাধারণ কৃষকেরা। প্রতিটা কৃষকের গোয়াল ঘরে তাদের হালের গরুর পাশাপাশি একটি দুটি করে মোটাতাজা করণ গরু রয়েছে। আর এসকল গরু কোরবানিকে সামনে রেখে মোটাতাজা করছে তারা।
মাইজপাড়া হাটের ইজারাদাররা জানান, প্রতি বছর কোরবানি ঈদে বিভিন্ন জেলা থেকে গরু কিনতে নড়াইলে আসেন ব্যবসায়ীরা। আসছে ঈদে করোনার কারাণে অন্য কোন জেলা থেকে ব্যাবসায়ীরা আসবে কিনা জানিনা। বাইরের জেলা থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা না আসলে হাটে বেচাকেনা জমবেনা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে খামারি, কৃষক, ইজারাদার, ব্যাবসায়ীসহ সবাই।
নড়াইল জেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান জানান, বছর দশেক পূর্বে নড়াইলের চাষিরা অল্প পরিসরে গরু মোটাতাজা করত। সে সময় সরকার বিদেশ থেকে ঈদের সময় গরু আমদানি করায় জেলার অনেক খামারি ও কৃষকেরা গরুর নায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
৩-৪ বছর সরকার বিদেশ থেকে গরু আমদানি না করায়, জেলার স্থানীয় কৃষকের গরুর চাহিদা ছিল অনেক বেশি। স্থানীয় খামারি ও কৃষকেরা লাভবান হয়েছে বেশ। তাই এবছরও অনেক কৃষক গরু মোটাতাজা করেছে। এবছর করোনার কারণে কোরবানির চাহিদা কিছুটা কম থাকবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, করোনার দুর্যোগময় মুহূর্তে কোরবানির পশু ঘরে থেকেই মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কিভাবে সহজে বেচাকেনা করা যাবে এই বিষয়ে দ্রুত একটি মিটিং করে সিন্ধান্ত নেয়া হবে।




















