০১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হকির প্রথম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ–উর–রহমান মোমিন আর নেই

আজ সোমবার দুপুরে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের প্রথম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ-উর-রহমান মোমিন। কিন্তু এই পরিচয়ের বাইরেও আরও অনেক পরিচয় রয়েছে খেলাপাগল এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের।

রাজধানীর বড় মগবাজারে তাঁর নিজ বাসভবনে ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া মাহমুদ–উর–রহমান। মগবাজার গাবতলা মসজিদে হয়েছে তাঁর প্রথম জানাজা। ওয়ারী ক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে মাহমুদ–উর–রহমানকে।

হকি ফেডারেশনের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ইউসুফ আলী মাহমুদ–উর–রহমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে তাঁর শরীরে অপারেশন হয়েছিল। এরপর শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। এ ছাড়া ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের জটিলতাও ছিল।’

হকি আর ফুটবল নিয়েই মূলত মাহমুদ–উর–রহমানের পুরো জীবন কেটেছে। ১৯৩৭ সালে সিলেটে জন্ম প্রথিতযশা এই ক্রীড়া সংগঠকের। কিন্তু খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু ১৯৫২ সাল থেকে। ওই সময় পুরান ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি স্কুলে হকিতে হাতেখড়ি। ১৯৫৪ সালে ছিলেন স্কুল দলের হকি অধিনায়ক। ওই বছরেই পাকিস্তানের পেশোয়ারে আন্তপ্রদেশ স্কুল হকি টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন আরমানিটোলা স্কুলের হয়ে। ১৯৫৫ সালে ঢাকা কলেজের অ্যাথলেটিকস সেক্রেটারি নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৫৭ সালে কলেজের টুর্নামেন্টে একই সঙ্গে হকি ও ফুটবল খেলেন মাহমুদ–উর–রহমান। ১৯৫২ সালে কামাল স্পোর্টিং ক্লাব ও ১৯৫৩ সালে মাহুতটুলী স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে ফুটবল খেলেছেন। এরপর ১৯৫৪–১৯৫৬ সালে প্রথম বিভাগে ফুটবল খেলেছেন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। ঢাকায় ১৯৫৬ সালে কলকাতা মোহামেডানের সঙ্গে একটা প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাদশের। ওই দলেও খেলেন মাহমুদ–উর–রহমান।

মাহমুদ-উর-রহমান প্রথম বিভাগ হকি খেলেছেন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে, ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত। এরপর ১৯৬১ সালে খেলেন ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের জার্সিতে। আর ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত খেলেন ওয়ারী ক্লাবের হয়ে।

১৯৬৩ সালে সাংগঠনিক ক্যারিয়ার শুরু মাহমুদ–উর–রহমানের। ওই বছর ঢাকায় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) ও কেনিয়া দলের মধ্যকার এক ম্যাচে প্রথম বাঙালি আম্পায়ার ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৬৯–৭০ সালে জাতীয় হকি দলের খেলা পরিচালনা করেন। ১৯৭০ সালে অন্তর্ভুক্ত হন আন্তর্জাতিক আম্পায়ারস প্যানেলে।

১৯৬৮ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন ওয়ারী ক্লাবের নির্বাচিত হকি সম্পাদক। এরপর ওয়ারী ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত টানা ১০ বছর। ১৯৬৯–৭০ এই দুই বছর ছিলেন ইস্ট পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের হকি সম্পাদক।

আর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে হয়েছেন হকি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন একাধারে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। ১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্টের সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

দেশের হকিতে মাহমুদ–উর–রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে। শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, হকি ফেডারেশন, ওয়ারী ক্লাব ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

হকির প্রথম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ–উর–রহমান মোমিন আর নেই

প্রকাশিত : ০৮:৪২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুলাই ২০২১

আজ সোমবার দুপুরে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের প্রথম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ-উর-রহমান মোমিন। কিন্তু এই পরিচয়ের বাইরেও আরও অনেক পরিচয় রয়েছে খেলাপাগল এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের।

রাজধানীর বড় মগবাজারে তাঁর নিজ বাসভবনে ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া মাহমুদ–উর–রহমান। মগবাজার গাবতলা মসজিদে হয়েছে তাঁর প্রথম জানাজা। ওয়ারী ক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে মাহমুদ–উর–রহমানকে।

হকি ফেডারেশনের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ইউসুফ আলী মাহমুদ–উর–রহমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে তাঁর শরীরে অপারেশন হয়েছিল। এরপর শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। এ ছাড়া ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের জটিলতাও ছিল।’

হকি আর ফুটবল নিয়েই মূলত মাহমুদ–উর–রহমানের পুরো জীবন কেটেছে। ১৯৩৭ সালে সিলেটে জন্ম প্রথিতযশা এই ক্রীড়া সংগঠকের। কিন্তু খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু ১৯৫২ সাল থেকে। ওই সময় পুরান ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি স্কুলে হকিতে হাতেখড়ি। ১৯৫৪ সালে ছিলেন স্কুল দলের হকি অধিনায়ক। ওই বছরেই পাকিস্তানের পেশোয়ারে আন্তপ্রদেশ স্কুল হকি টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন আরমানিটোলা স্কুলের হয়ে। ১৯৫৫ সালে ঢাকা কলেজের অ্যাথলেটিকস সেক্রেটারি নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৫৭ সালে কলেজের টুর্নামেন্টে একই সঙ্গে হকি ও ফুটবল খেলেন মাহমুদ–উর–রহমান। ১৯৫২ সালে কামাল স্পোর্টিং ক্লাব ও ১৯৫৩ সালে মাহুতটুলী স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে ফুটবল খেলেছেন। এরপর ১৯৫৪–১৯৫৬ সালে প্রথম বিভাগে ফুটবল খেলেছেন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। ঢাকায় ১৯৫৬ সালে কলকাতা মোহামেডানের সঙ্গে একটা প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাদশের। ওই দলেও খেলেন মাহমুদ–উর–রহমান।

মাহমুদ-উর-রহমান প্রথম বিভাগ হকি খেলেছেন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে, ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত। এরপর ১৯৬১ সালে খেলেন ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের জার্সিতে। আর ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত খেলেন ওয়ারী ক্লাবের হয়ে।

১৯৬৩ সালে সাংগঠনিক ক্যারিয়ার শুরু মাহমুদ–উর–রহমানের। ওই বছর ঢাকায় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) ও কেনিয়া দলের মধ্যকার এক ম্যাচে প্রথম বাঙালি আম্পায়ার ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৬৯–৭০ সালে জাতীয় হকি দলের খেলা পরিচালনা করেন। ১৯৭০ সালে অন্তর্ভুক্ত হন আন্তর্জাতিক আম্পায়ারস প্যানেলে।

১৯৬৮ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন ওয়ারী ক্লাবের নির্বাচিত হকি সম্পাদক। এরপর ওয়ারী ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত টানা ১০ বছর। ১৯৬৯–৭০ এই দুই বছর ছিলেন ইস্ট পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের হকি সম্পাদক।

আর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে হয়েছেন হকি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন একাধারে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। ১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্টের সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

দেশের হকিতে মাহমুদ–উর–রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে। শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, হকি ফেডারেশন, ওয়ারী ক্লাব ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর