মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম পর্যায় উপহার দেয়া ৪৮টি ঘরের অধিকাংশে ৬মাসের মাথায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে করে চরম আতংক বিরাজ করছে ঘরে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর মধ্যে। খুবই নিচু জায়গায় নদী ও খালের পাড়ে প্রকল্প তৈরী করায় স্বাভাবিক জোয়ারেই উঠছে পানি। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াতসহ দুর্গম এলাকায় ঘর নির্মাণ করার কারণে অনেকেই ঘরে বসবাস করতে চাচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে। পরিবারেরগুলোর অভিযোগ, নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসাইন বলছেন, মাটি সরে যাওয়ার কারণে ঘর ভেঙ্গে গেছে। বর্যার পরে আমরা ঠিক করে দিব।
গোসাইরহাট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পর গোসাইরহাট উপজেলার আলাওলপুর, কোদালপুর, ইদিলপুর ও নাগেরপাড়া ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া প্রথম পর্যায় মোট ৪৮টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে উপকারভোগীদের মাঝে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-২) ‘ক’ তালিকার গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাঝে এ ঘর উপহার দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর তৈরিতে বরাদ্ধ ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ৪৮টি ঘর গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। সেমি-পাকা দুই কক্ষ বিশিষ্ট এসব ঘরে একটি রান্না ঘর ও টয়লেট রয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ইদিলপুর ইউনিয়নের ৯নং মহিষকান্দি মৌজায় ৬৭শতাংশ জমির উপর ২২টি পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ২২ টি ঘর। অধিকাংশ পরিবার ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ ঘরেই দেখা দিয়েছে ফাটল। এর মধ্যে ১৪টি ঘর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ঘরগুলোর মেঝো, দেয়াল, পিলার, রান্না ঘর ও টয়লেটে ফাটল ধরেছে। দ‘ুটি ঘরের পিলার ধসে পড়েছে। দক্ষিণ পাশের্^র ১টি ঘরের পেছনের বারান্দার অংশ ভেঙ্গে পড়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো থেকে আশ্রয় নেয়াদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশ্রয় নেয়া মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সৈদুন নেছা বলেন, খুবই নিচু জায়গায় এ প্রকল্প করা হয়েছে। যেখানে স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতেই তলিয়ে যায়। আর তাদের যাতায়াত করতে হয় ঝুকিপূর্ণ দু‘টি বাঁশের সাঁকো দিয়ে। উপকারভোগী লুৎফা বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর দেয়ায় আমরা খুশি। কিন্তু ঘর নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। অধিকাংশ ঘরের মেঝে ও পিলার ফেটে গেছে। এসব ঘর বেশি দিন টিকবেনা। আমরা আতংকে আছি। ইদিলপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইউনুছ ঢালী ও স্থানীয় আলম বয়াতী বলেন, এখানের প্রায় সবগুলো ঘরের একই অবস্থা। কোন কোনটির পিলার ফেটে গেছে, কোনটির চাল দিয়ে পানি পড়ে, কোনটির মেঝোতে ফাটল ধরেছে। আবার কোনটির দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ইদিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন শিকারী বলেন, বালু ভরাট করার পর তড়িগড়ি করে কাজ করার কারণে কিছু ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে । তবে আমরা মান সম্মত কাজ করেছি । পরবর্তীতে এ গুলো আমরা ঠিক করে দিবো।
এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হুসাইন। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরী। গোসাইরহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায় কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটি নদী ও খালের পাড়ে নীচু জায়গায় হওয়াতে মাটি দেবে গেছে। ফলে কিছু ঘরের সমস্যা হয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আলমগীর হুসাইন বলেন, বর্ষার কারণে ঘরগুলো দেবে গেছে। বর্ষাকাল শেষ হলে এ গুলো ঠিক করে দেয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















