০৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতুতেই স্বস্তি

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আমলাভাঙা খালের ওপর একসময় বাঁশের সাঁকো ছিল। সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আমলাভাঙা খালের ওপর এই সাঁকো ছিল দুই গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার করতে হতো ঝুঁকি নিয়ে। এখানে সেতু নির্মাণের জন্য সরকারি কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছিলেন গ্রামবাসী। কিন্তু সাড়া মেলেনি। অবশেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে এখানে ৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠে সেতু নির্মাণ করে ফেলেছেন তাঁরা। রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে আমলাভাঙা খাল। খালের উত্তর পাড়ে দক্ষিণ কাজির হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর দক্ষিণ পাড়ে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন পরিষদ, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র, রাঙ্গাবালী হামিদিয়া রশিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ, কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে ২০০৮ সালে এলাকাবাসী আমলাভাঙা খালের প্রথম একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এর পর থেকে বাঁশের এই সরু সাঁকোই ছিল দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী মিলেই মেরামত করে সাঁকোটি ওপর দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে রাখছিলেন। পুরোনো সাঁকো পার হতে গিয়ে মানুষের পানিতে পড়ে ভিজে যাওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের এই নড়বড়ে সাঁকো পার হওয়া বেশ কষ্টকর ছিল। শুধু এই দুই গ্রামই নয়, এই সাঁকো দিয়ে দক্ষিণ কাজির হাওলা, উত্তর কাজিরহাওলা, গন্ডাদুলা, নিজ হাওলা, উনিশ নম্বর ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের অন্তত দুই হাজার মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতেন। সাঁকো দিয়ে পারাপারে ঝুঁকি থাকায় এলাকাবাসী সরকারিভাবে একটি সেতু নির্মাণের দাবি তোলেন। এলজিইডি কার্যালয়ে আবেদন করলেও সেখানে কোনো সেতু নির্মাণ করা হয়নি। দেড় মাস আগে নড়বড়ে সাঁকোটি খালে হেলে পড়ে গেলে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজের প্রভাষক নাজমুল মাসুদ ও দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ মোল্লা গ্রামবাসীকে সম্পৃক্ত করে বাঁশের সাঁকোর স্থলে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে তাঁরা স্বেচ্ছাশ্রমে ৩০০ ফুট দীর্ঘ এবং ২ ফুট প্রস্থের একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে ফেলেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রমজানে ১১ পণ্যের এলসি খোলা সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতুতেই স্বস্তি

প্রকাশিত : ০৮:০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আমলাভাঙা খালের ওপর একসময় বাঁশের সাঁকো ছিল। সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আমলাভাঙা খালের ওপর এই সাঁকো ছিল দুই গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার করতে হতো ঝুঁকি নিয়ে। এখানে সেতু নির্মাণের জন্য সরকারি কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছিলেন গ্রামবাসী। কিন্তু সাড়া মেলেনি। অবশেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে এখানে ৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠে সেতু নির্মাণ করে ফেলেছেন তাঁরা। রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে আমলাভাঙা খাল। খালের উত্তর পাড়ে দক্ষিণ কাজির হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর দক্ষিণ পাড়ে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন পরিষদ, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র, রাঙ্গাবালী হামিদিয়া রশিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ, কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে ২০০৮ সালে এলাকাবাসী আমলাভাঙা খালের প্রথম একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এর পর থেকে বাঁশের এই সরু সাঁকোই ছিল দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী মিলেই মেরামত করে সাঁকোটি ওপর দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে রাখছিলেন। পুরোনো সাঁকো পার হতে গিয়ে মানুষের পানিতে পড়ে ভিজে যাওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের এই নড়বড়ে সাঁকো পার হওয়া বেশ কষ্টকর ছিল। শুধু এই দুই গ্রামই নয়, এই সাঁকো দিয়ে দক্ষিণ কাজির হাওলা, উত্তর কাজিরহাওলা, গন্ডাদুলা, নিজ হাওলা, উনিশ নম্বর ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের অন্তত দুই হাজার মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতেন। সাঁকো দিয়ে পারাপারে ঝুঁকি থাকায় এলাকাবাসী সরকারিভাবে একটি সেতু নির্মাণের দাবি তোলেন। এলজিইডি কার্যালয়ে আবেদন করলেও সেখানে কোনো সেতু নির্মাণ করা হয়নি। দেড় মাস আগে নড়বড়ে সাঁকোটি খালে হেলে পড়ে গেলে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজের প্রভাষক নাজমুল মাসুদ ও দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ মোল্লা গ্রামবাসীকে সম্পৃক্ত করে বাঁশের সাঁকোর স্থলে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে তাঁরা স্বেচ্ছাশ্রমে ৩০০ ফুট দীর্ঘ এবং ২ ফুট প্রস্থের একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে ফেলেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর