নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের আবাসিক হলটি বেহালদশায় পরিণত হয়েছে। একসময় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটিতে রূপগঞ্জসহ দেশের দূর-দুরান্ত থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে থেকে লেখাপড়া করতো। কিন্তু নানা জটিলতায় গত এক যুগ ধরে ছাত্রাবাসটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যতœ আর অবহেলার কারণে তৎকালীন জমিদারদের (বর্তমানে ছাত্রাবাস) ভবনটি জ¦রাজীর্ণদশায় রূপ নিয়েছে। খসে পড়ছে ছাঁদ ও দেয়ালের পলেস্তরা। রাতে-দিনে বসে মাদকসেবীদের আখঁড়া। ফলে যেকোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮৮৬ সালে তৎকালীন রামরতন ব্যাণার্জী মুড়াপাড়ায় জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। জমিদার বাড়ির পাশেই পাইক-পেয়াদের থাকার জন্য আলাদাভাবে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন। জমিদাররা দেশ ছেড়ে চলে গেলে ১৯৬৬ সালে জমিদার বাড়িটি মুড়াপাড়া কলেজের কার্যক্রম শুরু করে। তৎকালীন সময়ে সোনারগাঁও, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় একমাত্র কলেজ থাকায় শিক্ষার্থীরা এ কলেজে লেখাপড়া করতো। দূরদুরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে ঐ সময়কার কলেজ কর্তৃপক্ষ জমিদারদের পাইক-পেয়াদের ভবনটিতে ছাত্রদের আবাসিক হল হিসাবে ব্যবহার করার অনুমতি দেন।
মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাত্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন যেখানে-সেখানে কলেজ হওয়া, যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ার কারণে মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরদুরান্তের ছাত্র কমে গেছে। তবে এখনো অনেক ছাত্র দূরদুরান্ত থেকে আসে। ছাত্রাবাস না থাকায় তারা কষ্ট করেই আসা যাওয়া করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, এ ছাত্রাবাসে দূরদুরান্ত আসা ছাত্ররা স্থানীয় ছাত্রদের অত্যাচারেই থাকেনি। এখন ছাত্রাবাস পরিত্যক্ত। দিনে বখাটেদের আনাগোনা। রাতে চলে মদ-গাঁজা, ফেন্সিডিলের আসারসহ নানা অপকর্ম। তারা বলেন, ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ছে। ভবনে বট পাকুড়ে, ফনীমনসাসহ নানা গাছ জন্ম নিয়ে স্যাঁতস্যাতে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ভবনের দরজা-জানালা কিছুই নেই। সবকিছু খুলে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরের দল। খুলে নিয়ে যাচ্ছে ভবনের ইট-পাথরও। একসময়কার ছাত্রাবাসটি এখন ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। তবে ছাত্রাবাসটি অবহেলা ও অযতেœর কারণে বেহালদশায় পরিনত হচ্ছে। ছাত্রাবাসটি মেরামত করা হলেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এখানে থেকে লেখপড়া করতে পারবে। ছাত্রাবাসটি পূনরায় মেরামত করার দাবি জানান স্থানীয়রা।
সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার দাস বলেন, ছাত্রাবাসটি সরকারি মুড়াপড়া কলেজের নামে লিজ হিসেবে নেওয়া ছিল। পরে লীজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পূনরায় লিজের আবেদন করা হয়েছে। নতুন করে লিজ পেয়েছি।
খুব শিগগিরই সংকার কাজ করবো বলে জানিয়েছেন কলেজ কতৃপক্ষ। তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী ও উপজেলার নির্বাহী অফিসারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কলেজ কতৃপক্ষ । সরকারি ভাবে বরাদ্দ পেলে আমরা কাজ করতে পারবো।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















