বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে একটি রিকশা পেয়ে মহাখুশি ভূমিহীন হতদরিদ্র বাবা সেই জয়নাল আবেদীন। বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নতুন সেই রিকশা নিযে বেড়িয়ে পড়েন রোজগারের আশায়।
জয়নাল আবেদীন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সরলখাঁ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। দুই ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রী আদুরী বেগমকে নিয়ে তার সংসার। বড় ছেলে রাসেল মিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। দ্বিতীয় সন্তান আনিসুর রহমান এসএসসিতে জিপিও-৫ নিয়ে লালমনিরহাট সরকারি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে এবং ছোট মেয়ে জুথি আক্তার পড়ছে স্থানীয় সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে। জানা যায়, রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে ৫ সদস্যের সংসারের খরচ চালাতেন জয়নাল। গত তিন মাস আগে ঋণের টাকায় কেনা ব্যাটারি চালিত রিকশাটি বিকল হয় যায়। ব্যাটারি নষ্ট হওয়ায় রিকশাটি চালানোর সক্ষমতা ছিল না জয়নালের।
আয় বন্ধ হলেও ঋণের কিস্তি ঠিকই গুনতে হয়েছে। এরপর কোনো উপায় না পেয়ে বিকল রিকশাটি ভাংড়ি হিসেবে বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করেন। ঋণের বোঝা মাথা থেকে নেমে পড়লেও সংসার আর ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বন্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে করোনার কারণে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ছেলেরাও বাড়িতে ফিরে তার মায়ের সঙ্গে স্থানীয় আবুল বিড়ি ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। এতে করে কোনো রকম চলছে তাদের সংসার। এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েরা আর আয় করতে পারবে না। বরং তাদের লেখাপড়ার খরচ যোগান দিতে হবে। এখন সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হওয়ায় হতাশায় ভুগছেন জয়নাল আদুরী দম্পতি। এজন্য সন্তানদের লেখাপড়া আর সংসারের খরচ মেটাতে হতদ্ররিদ্র বাবা জয়নাল খুঁজছেন সেই রিকশা। কিন্তু একটি ব্যাটারি চালিত রিকশা কিনতে ৪০ হাজার টাকা দরকার। রিকশা কেনার জন্য ঋণ করতে বিভিন্ন এনজিওতে ছুটেও কোথাও পাচ্ছেন না ঋণ। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে একটি রিকশা দাবি করেছেন তিনি। এ নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর “আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকায় লেখাপড়ার খরচ চালাতে জয়নালের চাওয়া একটি রিক্সা” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ প্রতিবেদন দেখে অনেকেই জয়নালের স্বপ্ন পুরনে এগিয়ে আসেন। ঢাকা উত্তরার ইউনুস আলী নামে একজন ২০ হাজার, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কুয়েত প্রবাসী ৪৫ হাজার, আরব আমিরাত প্রবাসী নাজির হোসেন ৭ হাজার ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন ৬হাজার টাকা বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে সহায়তা পাঠান। সেই ৭৮ হাজার টাকা থেকে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ৪৮ হাজার টাকায় স্বপ্ন পুরনের একটি রিকশা ক্রয় করেন জয়নাল আবেদীন। বাকী টাকায় একটি গাভি ক্রয় করে ঘরেই পালন করবেন তিনি। রিকশা পেয়ে তিনি সাংবাদিক ও সহায়তারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জয়নাল আবেদীন বলেন, রিকশার আয়ে সন্তানদের পড়ার ও সংসার খরচ মিটে যাবে। ইনশা’আল্লাহ আর দুঃচিন্তা থাকবে না। রিকশা কেনার পরে বাকী টাকায় একটি গাভি কিনবো। রিকশার আয় ও দুধ বিক্রির টাকায় দুঃখ ঘোচানোর যুদ্ধ করে যাবো। সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত এ যুদ্ধ চালাবো। যারা সহায়তা করেছেন আল্লাহ তাদের মঙ্গল করবেন। স্বপ্ন পুরনে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন তিনি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















