০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসিয়ানের ঘনিষ্ঠ হতে চায় বাংলাদেশ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনসের (আসিয়ান) সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। রাজনৈতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছে। জোটের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে এরই মধ্যে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। মূলত, আসিয়ান জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে চায় ঢাকা। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বহুমাত্রিকতা যোগ করে এসব দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে অধিক পরিমাণ বিনিয়োগ আনতে চায়। একই সঙ্গে আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুফল পেতে চায় বাংলাদেশ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। মূলত, আসিয়ান জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে চায় ঢাকা। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বহুমাত্রিকতা যোগ করে এসব দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে অধিক পরিমাণ বিনিয়োগ আনতে চায়। একই সঙ্গে আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুফল পেতে চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস বলেন, ‘আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমরা সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাচ্ছি। আরও শক্তিশালী সম্পর্ক চাই। কারণ, আসিয়ান একটি বড় ব্লক। আমরা এ জোটের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে চাই। ওদের সঙ্গে অনেকভাবে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো যায়; রাজনৈতিক, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক পাওয়ার ব্লকে এনগেজমেন্ট বাড়ানো যায়।

 

তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি এনগেজমেন্ট বাড়াতে আমরা বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করছি, অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। জোটের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের আমদানি সম্পর্ক আছে; কিন্তু রফতানি বেশি নেই, সেটি বাড়াতে চাই। রফতানি বাড়াতে সেসব দেশের সঙ্গে আমরা পিটিআই, এফটিআই করতে চাচ্ছি। রোহিঙ্গা সংকট তো থাকছেই। জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আরও সহযোগিতা বাড়ানো যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে যেমন- থিঙ্ক ট্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চাই। মূল কথা এনগেজমেন্ট বাড়াতে চাই।’

প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ব্যাখ্যায় সচিব মাশফি বলেন, ‘প্রতিরক্ষা মানে এই নয় যে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনব। এ সহযোগিতা হতে পারে দুই দেশের সেনাপ্রধানদের সফর। নৌ-জাহাজের বিনিময়, ট্রেনিং অফিসারদের বিনিময় এবং ডিফেন্স ডায়ালগও হতে পারে। অনেকভাবে ডিফেন্স এনগেজমেন্ট বাড়ানো যেতে পারে।’

কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে আসিয়ানকে ‘ডায়নামিক জোট’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বহু আগেই এ ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে আসিয়ানে ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে ঢাকার কূটনৈতিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান। বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনৈতিকভাবে আসিয়ানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে এ জোট থেকে অন্যান্য ফোরামের সমর্থন পাবে বাংলাদেশ। এছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সুবিধা পাওয়া যাবে।

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

আসিয়ানের ঘনিষ্ঠ হতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০৪:০৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনসের (আসিয়ান) সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। রাজনৈতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছে। জোটের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে এরই মধ্যে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। মূলত, আসিয়ান জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে চায় ঢাকা। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বহুমাত্রিকতা যোগ করে এসব দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে অধিক পরিমাণ বিনিয়োগ আনতে চায়। একই সঙ্গে আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুফল পেতে চায় বাংলাদেশ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। মূলত, আসিয়ান জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে চায় ঢাকা। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বহুমাত্রিকতা যোগ করে এসব দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে অধিক পরিমাণ বিনিয়োগ আনতে চায়। একই সঙ্গে আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুফল পেতে চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস বলেন, ‘আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমরা সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাচ্ছি। আরও শক্তিশালী সম্পর্ক চাই। কারণ, আসিয়ান একটি বড় ব্লক। আমরা এ জোটের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে চাই। ওদের সঙ্গে অনেকভাবে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো যায়; রাজনৈতিক, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক পাওয়ার ব্লকে এনগেজমেন্ট বাড়ানো যায়।

 

তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি এনগেজমেন্ট বাড়াতে আমরা বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করছি, অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। জোটের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের আমদানি সম্পর্ক আছে; কিন্তু রফতানি বেশি নেই, সেটি বাড়াতে চাই। রফতানি বাড়াতে সেসব দেশের সঙ্গে আমরা পিটিআই, এফটিআই করতে চাচ্ছি। রোহিঙ্গা সংকট তো থাকছেই। জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আরও সহযোগিতা বাড়ানো যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে যেমন- থিঙ্ক ট্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চাই। মূল কথা এনগেজমেন্ট বাড়াতে চাই।’

প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ব্যাখ্যায় সচিব মাশফি বলেন, ‘প্রতিরক্ষা মানে এই নয় যে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনব। এ সহযোগিতা হতে পারে দুই দেশের সেনাপ্রধানদের সফর। নৌ-জাহাজের বিনিময়, ট্রেনিং অফিসারদের বিনিময় এবং ডিফেন্স ডায়ালগও হতে পারে। অনেকভাবে ডিফেন্স এনগেজমেন্ট বাড়ানো যেতে পারে।’

কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে আসিয়ানকে ‘ডায়নামিক জোট’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বহু আগেই এ ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে আসিয়ানে ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে ঢাকার কূটনৈতিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান। বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনৈতিকভাবে আসিয়ানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে এ জোট থেকে অন্যান্য ফোরামের সমর্থন পাবে বাংলাদেশ। এছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সুবিধা পাওয়া যাবে।