পায়ের চোটের জন্য মূল দলের ওবেদ ম্যাকয়ের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ায় সুযোগ আসে হোল্ডারের। আগের দিনই মাত্র আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটি দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি অনুমোদন করে। পরদিনই খেলতে নেমে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত হোল্ডার ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন ফিল্ডিংয়েও। মাহমুদ উল্লাহর অন্তত তা-ই মনে হচ্ছে। কারণ ডোয়াইন ব্রাভোর বলে লং অন সীমানায় হোল্ডারের নেওয়া লিটন কুমার দাসের ক্যাচটিকেই যে ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বললেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
যদিও এর আগে ব্যাটে-বলেও কম দুর্বার ছিলেন না হোল্ডার। ধীরগতির লো বাউন্সের উইকেটে শুরু থেকেই রান করতে হিমশিম খাওয়া ক্যারবীয়রা শেষের দিকে তোলে ঝড়। নিকোলাস পুরানের সেই ব্যাটিং তাণ্ডবের মাঝেই নেমে খেলেন দারুণ কার্যকর এক ইনিংস। মাত্র ৫ বলে দুই ছক্কায় ১৫ রানের হার না মানা ইনিংস খেলা হোল্ডার পরে বল হাতেও ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে নেন নাঈম শেখের উইকেট। তবে ম্যাচের পর এসবের কিছুই নয়, মাহমুদের কথায় মনে হওয়া স্বাভাবিক সমস্যা হয়ে গেছে আসলে হোল্ডারের উচ্চতায়। ৬ ফুট ৭ ইঞ্চির এই দীর্ঘদেহী বোলার না হয়ে যদি তাঁর চেয়েও খাটো কেউ তখন সীমানায় থাকতেন, তাহলে হয়তো লিটন আউটই হতেন না।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে বলা মাহমুদের কথায় সেরকম মনে হতেই পারে, ‘আসলে ৬ ফুট ৭ ইঞ্চির কেউ যখন সীমানায় থাকে, তখন মুশকিল হয়ে যায়। তাঁর মতো কেউ না থাকলে হয়তো ওটি ক্যাচ হতো না বা হতে পারত ছক্কাও।’ সেটি না হওয়ার দুঃখই বেশি বাজল বিশ্বকাপের শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যাওয়ার পর, ‘যে সময়টিতে আমরা ব্যাটিং করছিলাম, আমার আর লিটনের পার্টনারশিপটি ভালোই হচ্ছিল। রাসেলের করা শেষ ওভারটির আগে ব্রাভোর ওই বলে যদি ছক্কাটি হয়ে যেত, তাহলে আমরা অনেকটাই এগিয়ে যেতাম।’
হোল্ডারের নেওয়া ক্যাচেই না এগিয়ে বরং পেছায় বাংলাদেশ, ‘আমার মনে হয়, ওটা একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ম্যাচের। কারণ লিটনও খুব সেট ছিল। দুজন সেট ব্যাটারও যদি শেষ ওভারে থাকতে পারতাম, তাহলে দুজনের একজন শেষ ওভারে অন্তত একটি চার বা ছক্কা মারতে পারতাম। কিংবা ইতিবাচক কিছু হলেও আসত।’ লিটনের বিদায়ে সেই অঙ্ক এলোমেলো হয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচ জেতানোর আশা ছিল মাহমুদের। শেষ বলে জেতার জন্য দরকার ছিল ৪ রানের। কিন্তু রাসেলের ফুল লেন্থ বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে না পারা মাহমুদ নিজের দোষও স্বীকার করে নিলেন, ‘শেষ বলটি রাসেল ব্লক হোলে করবে, আমি জানতাম। যেহেতু লেগ সাইডে চারজন ফিল্ডার ছিল। আগের দুই বলে ভালো ইয়র্কার করেছে, আমি তুলতে পারিনি। তাই চিন্তা করছিলাম, ও যদি মিস করে (শেষ বলে), তাহলে আমি মিড অফ, কাভার, পয়েন্ট বা ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে মারতে পারব। এটি আমারই দোষ, আমি কাজে লাগাতে পারিনি।’
মাহমুদ না পারায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল সম্ভাবনাও শেষ। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ কেবলই নিয়ম রক্ষার। তবু সেই দুই ম্যাচ থেকেও অনেক কিছুই পাওয়ার আছে বলে মনে করেন মাহমুদ, ‘এখনো অনেক কিছুই পাওয়ার আছে আমাদের। যদিও সেমিফাইনালের আশা ক্ষীণ হয়ে গেছে, কিন্তু দুটি ম্যাচ তো এখনো বাকি। ওই দুই ম্যাচে যদি জিততে পারি, দলের জন্য তাহলে ভালো কিছু একটা হবে। আমরাও চেষ্টা করছি সবাই। মরিয়া হয়েই চেষ্টা করছি।’
সেই চেষ্টায় জয়ের সবচেয়ে কাছে যাওয়া গিয়েছিল ক্যারিবীয়দের বিপক্ষেই। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেল সীমানায় ৬ ফুট ৭ ইঞ্চির হোল্ডার থাকায়!

























