দুই ওভারেই দুই ওপেনারের বিদায়ে বিশাল চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত ততক্ষণে ফিরে এসেছে বুমেরাং হয়ে। দলের এই বিপর্যয়ের মুখে প্রতিরোধ গড়েছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
কিন্তু অষ্টম ওভারে দলীয় পঞ্চাশ পূরণের ঠিক পরপরই আত্মঘাতী শটে সাজঘরের পথ ধরেছেন আফিফ। লেগস্পিনার শাদাব খানের বলে রিভার্স স্কুপ করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হয়েছেন তিনি। তার ব্যাট থেকে এসেছে একটি করে চার-ছয়ের মারে ২১ বলে ২০ রান।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ দশ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৬৪ রান। তিন নম্বরে নামা নাজমুল শান্ত অপরাজিত রয়েছেন ২১ বলে ২৮ রানে। নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে এসেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
প্রথম ম্যাচের মতো আজও টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অন্তত টপঅর্ডারে প্রমাণ হয়নি তার সিদ্ধান্তের যথার্থতা। কেননা ইনিংসের প্রথম দুই ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেছেন দুই ওপেনার।
শাহিন শাহ আফ্রিদির করা প্রথম ওভারের তিন বল ডট খেলে, পরেরটিতে সিঙ্গেল নিয়েছিলেন নাইম শেখ। লেগস্ট্যাম্পের ওপর করা চার নম্বর ডেলিভারিতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন আরেক ওপেনার সাইফ।
আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। তবে রিভিউ নিয়ে প্রথম সাফল্যের দেখা পায় পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে নিজের অভিষেকে ৮ বল খেলে ১ রান করতে পেরেছিলেন সাইফ। আজ ফিরেছেন প্রথম বলেই।
সাইফ আউট হওয়ার পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি নাইমও। তিনি সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ ওয়াসিমের করা দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ প্র্যাকটিস করিয়ে আউট হওয়ার আগে ২ রান করেন নাইম।
দুই ওভারে দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর তৃতীয় ওভারটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল। চার নম্বরে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নিজের মুখোমুখি প্রথম বলেই ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা মেরেছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। সেটি হয়তো পছন্দ হয়নি পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার শাহিনের।
ঠিক পরের বলে আলতো স্ট্রেইট ড্রাইভ করেন আফিফ। ফলো থ্রু-তে সেই বলটি ধরেই আফিফের গায়ে ছুঁয়ে মারেন শাহিন। যা আঘাত করে আফিফের পায়ের অরক্ষিত অংশে।
টিভি রিপ্লে’তে দেখা গেছে, শাহিন থ্রো করার আগে পপিং ক্রিজের ভেতরেই ছিলেন আফিফ। তার মধ্যে রান নেওয়ার কোনো ইচ্ছাও ছিল না। পুরোপুরি অযথাই সেই থ্রো-টি করেছেন শাহিন।
শাহিনের থ্রো-টি পায়ের অরক্ষিত অংশে লাগার সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে শুয়ে পড়েন আফিফ। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করছেন তিনি। মাটিতে পড়ে থাকা আফিফকে তুলতে এগিয়ে যান শাহিন নিজেও।
পরে দলের ফিজিও হুলিয়ান ক্যালেফেতো মাঠে এসে প্রাথমিক সেবা দেন আফিফকে। ব্যথানাশক স্প্রে করার পর উঠে দাঁড়ান চার নম্বরে নামা এ বাঁহাতি তরুণ ব্যাটার।
ঠিক পরের বলটিই আবার হয় বাউন্ডারি, তবে এবার লেগ বাই থেকে ৪ রান পায় বাংলাদেশ। সেই ওভার থেকে আসে সবমিলিয়ে ১২ রান। তিন ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৭ রান।
ঘটনাবহুল এই ওভারের পর পাওয়ার প্লে’র বাকি সময়টা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই। পরের তিন ওভারে বাংলাদেশ পায় আরও ১৯ রান। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি আফিফ ও শান্ত। ইনিংসের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ওভারে আসে একটি করে বাউন্ডারি।
পাওয়ার প্লে শেষে প্রথমবারের মতো আক্রমণে আনা হয় লেগস্পিনার শাদাব খানকে। তাকে দেখেশুনে খেলে ৬ রান নেন উইকেটে থাকা বাঁহাতি। শোয়েব মালিকের করা পরের ওভারে আরও এক চারের মারে আসে ৯ রান, যার সুবাদে পূরণ হয় দলীয় ফিফটি।
কিন্তু ঠিক পরের ওভারেই আউট হওয়ার জন্য যেন আত্মঘাতী পথ বেছে নেন আফিফ। শাদাবের স্ট্যাম্পের ওপর করা ডেলিভারি আগেই রিভার্স প্যাডেলের জন্য ব্যাট দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। খানিক ধীরে আসা সেই বল লাগে আফিফের ব্যাটের কানায়।
যার ফলে খানিক হাওয়ায় ভেসে সেটি জমা পড়ে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিশ্বস্ত গ্লাভসে, বিদায়ঘণ্টা বাজে আফিফের ২০ রানের ইনিংসের।

























