০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাইকগাছায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

খুলনার পাইকগাছায় চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে সংশ্লিষ্টরা বলছে। ধান কাঁটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইতিমধ্য উজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১ হাজার ২৫ মেট্রিকটন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৫২ মেট্রিকটন ধান এবং ৭৩ মেট্রিকটন চাল। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে এ চাল সগ্রহ করা হবে। প্রতি মন ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮০ টাক। ধান উৎপাদনে সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে খরচ বেশি পড়ছে বলে জানিয়েছেন অনেক কৃষক। সে কারনে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, চলতি আমন মৌসুমে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭ হাজার ২২০ হেক্টর। কিন্তু উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় এ বছর আমন চাষ হয়েছে ১৭হাজার ২৫৩ হেক্টর জমিতে। অতিরিক্ত ৩৩ হেক্টর জমিতে বেশি আমন চাষ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে। উপজেলার হরিঢালী ৯৭৫ হেক্টর, কপিলমুনি ৯৬০ হেক্টর, লতা ১০০০ হেক্টর, দেলুটি ৪১৫০ হেক্টর, সোলাদানা ৯৭২ হেক্টর, লস্কর ১২৬০ হেক্টর, গদাইপুর ১২৯০ হেক্টর, রাড়–লী ১০৯০ হেক্টর, চাঁদখালী ২২০০ হেক্টর ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ২৮৫৬ হেক্টর এবং পৌরসভায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর, পুরাইকাটি, তকিয়ার অনেক কৃষক জানিয়েছেন সরকার ধানের ন্যায্য মূল্যে কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনলে একদিকে কৃষকের লোকসান হবে অন্যদিকে সরকারের ধান চাল সংগ্রে বাঁধাগ্রস্থ হবে। দেলুটি ইউনিয়নের নিশিত মজুমদার বলেন, এভাবে ধানের দাম কম থাকলে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান উৎপাদন করে কিন্তু তাদের কষ্টের মূল্য কৃষকরা পাচ্ছেন না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবছর বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই বললেই চলে সে কারণে ধানের ক্ষতি কম হয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় রোগবালাই কম হয়েছে। আর কিছু কিছু জাইগায় পানি সরবরাহের পথ বন্ধ থাকার কারনে জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হয়ে কিছু ধানের ক্ষতি হয়েছে। তার পরেও ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুঁটেছে। আগাম ধানের সকল রোগ সম্পর্কে কৃষকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, আলোচনাসভা ও আলোক ফাঁদ প্রদর্শন কার্যক্রম করায় কৃষকরা সতর্ক হয়েছে। তিনি আরো বলেন বিগত বছরের চেয়ে এবার আমন ধানের ফলন অনেক বেশি হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

পাইকগাছায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

প্রকাশিত : ০৮:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১

খুলনার পাইকগাছায় চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে সংশ্লিষ্টরা বলছে। ধান কাঁটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইতিমধ্য উজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১ হাজার ২৫ মেট্রিকটন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৫২ মেট্রিকটন ধান এবং ৭৩ মেট্রিকটন চাল। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে এ চাল সগ্রহ করা হবে। প্রতি মন ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮০ টাক। ধান উৎপাদনে সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে খরচ বেশি পড়ছে বলে জানিয়েছেন অনেক কৃষক। সে কারনে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, চলতি আমন মৌসুমে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭ হাজার ২২০ হেক্টর। কিন্তু উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় এ বছর আমন চাষ হয়েছে ১৭হাজার ২৫৩ হেক্টর জমিতে। অতিরিক্ত ৩৩ হেক্টর জমিতে বেশি আমন চাষ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে। উপজেলার হরিঢালী ৯৭৫ হেক্টর, কপিলমুনি ৯৬০ হেক্টর, লতা ১০০০ হেক্টর, দেলুটি ৪১৫০ হেক্টর, সোলাদানা ৯৭২ হেক্টর, লস্কর ১২৬০ হেক্টর, গদাইপুর ১২৯০ হেক্টর, রাড়–লী ১০৯০ হেক্টর, চাঁদখালী ২২০০ হেক্টর ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ২৮৫৬ হেক্টর এবং পৌরসভায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর, পুরাইকাটি, তকিয়ার অনেক কৃষক জানিয়েছেন সরকার ধানের ন্যায্য মূল্যে কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনলে একদিকে কৃষকের লোকসান হবে অন্যদিকে সরকারের ধান চাল সংগ্রে বাঁধাগ্রস্থ হবে। দেলুটি ইউনিয়নের নিশিত মজুমদার বলেন, এভাবে ধানের দাম কম থাকলে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান উৎপাদন করে কিন্তু তাদের কষ্টের মূল্য কৃষকরা পাচ্ছেন না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবছর বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই বললেই চলে সে কারণে ধানের ক্ষতি কম হয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় রোগবালাই কম হয়েছে। আর কিছু কিছু জাইগায় পানি সরবরাহের পথ বন্ধ থাকার কারনে জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হয়ে কিছু ধানের ক্ষতি হয়েছে। তার পরেও ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুঁটেছে। আগাম ধানের সকল রোগ সম্পর্কে কৃষকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, আলোচনাসভা ও আলোক ফাঁদ প্রদর্শন কার্যক্রম করায় কৃষকরা সতর্ক হয়েছে। তিনি আরো বলেন বিগত বছরের চেয়ে এবার আমন ধানের ফলন অনেক বেশি হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর