নওগাঁর ধামইরহাটে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে কার্পাস জাতের তুলা। কথায় আছে মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্যের পরে রয়েছে বস্ত্রের স্থান। আর বরেন্দ্র অঞ্চলে এ কার্পাস তুলা চাষাবাদে খরচের তিন গুণ হারে লাভজনক ও ফলন ভালো হওয়ায় সফলতার আশা করছেন কৃষক। তুলা চাষে পরিবারে স্বচ্ছলতা বয়ে আনায় আগ্রহ নিয়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে কার্পাস তুলা।
জানা গেছে, তুলা উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া জোনের সহযোগীতায় উপজেলায় মোট ১শত হেক্টর জমিতে কার্পাস তুলা চাষ করা হয়েছে। কার্পাস তুলার বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে এড়ংংুঢ়রঁস যবৎনধপবঁস। দেশে কটন শিল্প অনেকদিক থেকে ভারত, পাকিস্থান, আমেরিকা, আফ্রিকা ও সুদানসহ বিভিন্ন দেশের তুলার উপরে নির্ভরশীল। আর এ নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন বার্ষিক ২৫মিলিয়ন টন।
নেউটা গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল ওহাব উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে আমি মোট তিন একর জমিতে কার্পাস তুলা চাষ করেছি। আগষ্ট মাসের শুরুর দিকে সে যতœ সহকারে তুলা বীজ বপণ করেছি। এখন অবধি আমার মোট ৭০ থেকে ৮০হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। চলতি মৌসুমে সর্বমোট ৭০মণ তুলা বিক্রয় করতে পারবেন তিনি। যার বাজার মূল্য প্রায় ২লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যে তুলা কিছু উঠতে শুরু করেছি আগামী মাসের মধ্যে তুলা সম্পুর্ণ গাছ থেকে উঠানো যাবে। তুলার বীজ লাগানোর প্রায় ৬মাসের মধ্যে গাছ থেকে এ তুলা সংগ্রহ করা যায়।
তিনি আরো জানান, তুলা গ্রীষ্মকালীন ফসল। জুন-জুলাই মাসের মধ্যে তুলা বীজ বপণ সম্পন্ন করা উচিৎ। তুলার ভালো ফলনের জন্য গড়ে তাপমাত্রা ২৪ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ৬৩৫থেকে ১হাজার ১৬মিলিমিটার পর্যন্ত হওয়া উত্তম। উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু জমিতে এ তুলা চাষ করা হয়েছে। এতে করে জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যয়ের চেয়ে আয়ের গুণ বেশি হওয়ায় আগ্রহ নিয়ে চাষাবাদ করা হয়েছে তুলা।
বগুড়া তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল জানান, তুলার মুল্য আন্তর্জাতিক বাজারের উপরে নির্ভরশীল হয়ে থাকে। চলতি বছরে তুলার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩হাজার ৪শত টাকা মণ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর



















