বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) তত্ত্বাবধায়ক পরিদর্শক, সহকারী হ্যাচারি কর্মকর্তা, সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা পদসহ ফিশারিজ সংশ্লিষ্ট পদসমূহে নিয়োগের ক্ষেত্রে মাৎস্যবিজ্ঞানে ডিগ্রিধারীদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার দুপুরে যবিপ্রবির প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ববিদালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২৩ ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন মৎস্য অধিদপ্তরের নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত মৎস্য অধিদপ্তরাধীন ১০ম গ্রেডের ফিশারিজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেখানে প্রাণিবিদ্যা ও মৎস্য ডিপ্লোমাধারীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হলেও মাৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের আবেদনের কোন সুযোগ রাখা হয়নি। অথচ এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তত্ত্বাবধায়ক পরিদর্শক, সহকারী হ্যাচারি কর্মকর্তা, সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা পদসমূহে মোট ২০১টি শূন্য পদের নিয়োগে প্রাণিবিদ্যা ও মৎস্য ডিপ্লোমাধারীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, ১০ম গ্রেডের মোট ১১টি পদে এমন অসামঞ্জস্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী, নবম গ্রেডের ২৫টি পদে ফিশারিজ-এর পাশাপাশি প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকদেরও আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ ১০ম গ্রেডে প্রাণিবিদ্যায় গ্রাজুয়েটদের সুযোগ দেওয়া হলেও ফিশারিজ স্নাতকদের আবেদন করার যোগ্যতা দেওয়া হয়নি। মৎস্য বিষয়ক পদ হলেও মাৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের এইসব পদে আবেদনের সুযোগ না থাকায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে জানানো হয়, ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিশারিজ স্নাতক ডিগ্রি দেওয়া হয়। নতুন আরও ৫ বিশ্ববিদ্যালয় এ ফিশারিজ ডিগ্রি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর ১০০০-এর বেশি ফিশারিজ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে। কিন্তু জব সেক্টর সীমিত হওয়ায় ১০/১১ তম গ্রেডের ব্যাংক কিংবা অডিটরের মত নন-টেকনিক্যাল পদের পিছনে আমাদের ছুটতে হয়। এমনকি অনেকে জব না পেয়ে ১৩ তম গ্রেডের জবেও জয়েন করছে। অথচ আমাদের নিজস্ব টেকনিক্যাল জবেই আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয় না, নিজের টেকনিক্যাল সেক্টরে জবের স্বল্পতায় ফিশারিজ স্নাতকরা অন্য সেক্টরের জবে জয়েন করতে বাধ্য হচ্ছে, অন্য দিকে ফিশারিজ বড় সংখ্যাক ছাত্রী শিক্ষার্থী, যাদের কিনা প্রাইভেট মৎস্য সেক্টরের জবে জয়েন করার যোগ্যতাই দেওয়া হয় না, Requirement এ লিখা থাকে Only Male candidate should apply, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বেকারদের বেশির ভাগই থাকে নারী শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের নবম গ্রেডে নিয়োগে গত চার বছরে ১০০ পোস্টও বিসিএস-এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসেনি। আর বিএফআরআই-এ গত ৪ বছরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়েছে ৬৩ পদের। যেখানে প্রতি বছর ১০০০-এর বেশি ফিশারিজ স্নাতক ডিগ্রিধারী বের হয়। ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের দক্ষতার কারণেই বাংলাদেশ আজ স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম, বদ্ধ জলাশয়ের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম, তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ। বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশে ৮৬ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। দেশের জিডিপিতে মৎস্য সম্পদের অবদানের হার ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তাই কর্মক্ষেত্রে যদি ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের বঞ্চিত করা হয় তা হবে দেশের অর্থনীতির উপর আঘাত। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে টেকনিক্যাল পদসমূহে মাৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের সুযোগ প্রদান এবং নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে নতুন পদ সৃজন এবং সুগঠিত অগ্রানোগ্রাম বাস্তবায়নের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় এফএমবি বিভাগের চেয়ারম্যান অ্যধাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সুব্রত মণ্ডল, অধ্যাপক ড. আমিনুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মীর মোশাররফ হোসেন, ড. মঞ্জুরুল হক, সহকারী অধ্যাপক পূজা বৈদ্য, সৈয়দা মাকসুদা ইয়াসমিন, প্রভাষক অনুশ্রী বিশ্বাস মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর






















