০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ভেড়ামারায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন

ভেড়ামারা পৌরসভা সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ সকাল ৮টার সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি সূচনা করা হয়।

আজ ১০ জানুয়ারি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের এই দিনে তিনি পাকিস্তানের বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে বিজয় পূর্ণতা পায়।

স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ১০ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় পৌঁছানোর পর আনন্দে উদ্বেল লাখ লাখ মানুষ বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। বিকেল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় দশ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ‘স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ’ ঘোষনার পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তাঁকে বন্দী করে রাখা হয় পাকিস্তানের কারাগারে।

বাঙালি যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক চাপে শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

জাতির পিতাকে মুক্তি দিয়ে পাকিস্তান থেকে লন্ডনের একটি বিমানে উঠিয়ে দেন। লন্ডনে পৌঁছে বঙ্গবন্ধু বৃটিশ প্রধান মন্ত্রী এ্যাওয়ার্ড হিথ এর সংগে বৈঠক করেন। লন্ডন হতে একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু দিল্লি পৌছেন ১০ই জানুয়ারি সকালে।

দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্য গন এবং তিন বাহিনীর প্রধান গন বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেন।

১০ই জানুয়ারি দুপুরে বিশেষ একটি বিমানে বঙ্গবন্ধু দিল্লি থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য রওয়ানা করেন এবং ১:৪০ টার সময় ঢাকায় (তেজগাঁও বিমানবন্দর) পৌঁছান। সেদিন সারাদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ছুটে আসেন তাদের নেতাকে এক নজর দেখার জন্য।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মিরসরাইয়ে ছেলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করলো বৃদ্ধ বাবাকে

ভেড়ামারায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন

প্রকাশিত : ০৫:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জানুয়ারী ২০২২

ভেড়ামারা পৌরসভা সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ সকাল ৮টার সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি সূচনা করা হয়।

আজ ১০ জানুয়ারি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের এই দিনে তিনি পাকিস্তানের বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে বিজয় পূর্ণতা পায়।

স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ১০ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় পৌঁছানোর পর আনন্দে উদ্বেল লাখ লাখ মানুষ বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। বিকেল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় দশ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ‘স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ’ ঘোষনার পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তাঁকে বন্দী করে রাখা হয় পাকিস্তানের কারাগারে।

বাঙালি যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক চাপে শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

জাতির পিতাকে মুক্তি দিয়ে পাকিস্তান থেকে লন্ডনের একটি বিমানে উঠিয়ে দেন। লন্ডনে পৌঁছে বঙ্গবন্ধু বৃটিশ প্রধান মন্ত্রী এ্যাওয়ার্ড হিথ এর সংগে বৈঠক করেন। লন্ডন হতে একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু দিল্লি পৌছেন ১০ই জানুয়ারি সকালে।

দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্য গন এবং তিন বাহিনীর প্রধান গন বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেন।

১০ই জানুয়ারি দুপুরে বিশেষ একটি বিমানে বঙ্গবন্ধু দিল্লি থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য রওয়ানা করেন এবং ১:৪০ টার সময় ঢাকায় (তেজগাঁও বিমানবন্দর) পৌঁছান। সেদিন সারাদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ছুটে আসেন তাদের নেতাকে এক নজর দেখার জন্য।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর