ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় খাবারের দোকানগুলো বেশি দাম রাখছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, মেলায় বরাদ্দ দেওয়া দোকানের বাইরে অন্য কোথাও খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। এই একচেটিয়া সুবিধার কারণে দোকানগুলো বাইরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দাম রাখছে।
অবশ্য মেলায় খাবারের দোকানের জন্য নির্ধারিত মূল্যতালিকা বেঁধে দিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। এই নির্ধারিত মূল্যের বাইরে যদি কোনো অতিরিক্ত টাকা রাখা হয়, সে ক্ষেত্রে জরিমানার কথা বলছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর বেঁধে দেওয়া দামই অনেক বেশি। তার ওপরেও কেউ কেউ বেশি দাম রাখছেন। বেশি দাম রাখা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করায় এর আগে গত শুক্রবার রাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দোকানকে জরিমানাও করেছেন।
গতকাল সোমবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় আসা সাধারণ মানুষ খাবারের দাম নিয়ে অনেকটাই ক্ষুব্ধ। বেশি দাম রাখায় অনেকেই দোকানে ঢুকে আবার বেরিয়েও যাচ্ছেন। মেলায় সাধারণত অন্যান্য জায়গার চেয়ে কম দাম হয়, কিন্তু এখানকার খাবারের দোকানগুলো অতিরিক্ত দাম রাখছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ।
মেলায় আসা নুর আহসার শিমুল অভিযোগ করেন, ‘আমি আমার মায়ের জন্য ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে একটি কোন আইসক্রিম কিনেছি, যার দাম রেখেছে ৪০ টাকা কিন্তু বাইরে এই আইসক্রিমের দাম সর্বোচ্চ ২৫ টাকা।
জাবের বললেন, এখানে খাবার খেলে অন্য জায়গার চেয়ে দ্বিগুণ দাম দিতে হয়। ছেলের জন্য একটা ভেজিটেবল রোল ৪০ টাকায় কিনেছি। এর দাম বড়জোর ২০ টাকা হওয়া উচিত।
আরমান বলেন,পুরো মেলাটা অনেক জায়গা নিয়ে। তাই ঘুরে দেখতে দেখতে ক্ষুধা লেগে যায়। কিন্তু এখানে একটি চিকেন পেটিস ৫০ টাকা।
জাহাঙ্গীর বলেন,মেলা কর্তৃপক্ষ একটা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু এই দামই তো অনেক বেশি হয়ে যায়। ফুচকা খেলাম দাম রেখেছে ৮০ টাকা। কিন্তু মেলার বাইরে এক প্লেট ফুচকা ৪০ টাকা।
অবশ্য দোকানের কর্মীরা খাবারের দাম নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মী বলেন,আমরা এখানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর নির্ধারিত দাম নিচ্ছি। এর বাইরে আমরা বেশি টাকা নিচ্ছি না। আর আমরা অনেক টাকা দিয়ে এখানে দোকান নিয়েছি, তাই একটু বেশি যদি না নিই, সে ক্ষেত্রে তো লোকসান হবে।
আরেকটি খাবারের দোকানের একজন কর্মকর্তা দাবি করলেন, তাঁদের দোকানে নির্ধারিত দামই রাখা হচ্ছে, কিন্তু কয়েকটা দোকানে নির্ধারিত দামের চেয়ে একটু বেশি রাখছে।
এ ব্যাপারে ইপিবির সচিব ও বানিজ্যমেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন,আমরা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি এবং ঘরোয়া আকারে লিখে ফুড কুডে আসলে দেখতে পারবেন লিষ্ট টানানো আছে। কেউ অতিরিক্ত টাকা নিলে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করলে সাথে সাথে একাসন হবে। এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের ১০ জন্য অফিসার বসে থাকে এখানে। কেউ যদি অভিযোগ করেন তাহলে ২৫% টাকাও ফেরত দেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ



















