করোনাভাইরাসের কারণে এক বছর বন্ধ থাকার পর পূর্বাচলের নতুন ঠিকানায় আবার শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা । তবে মেলার পনেরো দিনে জমে ওঠেনি মেলা প্রাঙ্গণ। উল্টো মেলায় আসা ব্যক্তিদের যাত্রাপথে পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। ক্রেতা-দর্শনার্থী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবহনসংকট, ভাঙাচোরা রাস্তা, করোনা পরিস্থিতি—মূলত এই তিন কারণে মেলায় লোকজনের আসার হার কম। তাই মেলা এখনো জমে ওঠেনি।
শনিবার মেলার পনেরো দিনে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ঢাকা ও আশপাশের অনেকেই গিয়েছিলেন মেলায়।
মেলায় অবস্থিত বিকাশের স্টলে কাজ করার কারণে মাসজুড়ে এই মেলায় আসা খিলখাও বাসিন্দা মেহেদী হাসান কিন্তু রাস্তার ধুলাবালু এখন তাঁর প্রধান চিন্তার কারণ।
মেহেদী বলেন, ৩০০ ফুট সড়ক থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী প্রদর্শন কেন্দ্র পর্যন্ত পুরো রাস্তায় কাজ চলছে। এ জন্য প্রচুর ধুলা থাকে এই এলাকায়। বাসে আসা-যাওয়া অনেক কষ্টকর।
রাস্তার এই দুর্ভোগের কথা জানান মেলায় আসা অন্যান্য ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।
উমানপ্রবাসী খোদেজা আর কয়েক দিন পরেই সেই দেশে ফিরে যাবেন। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ডেমরা থেকে সিএনজিতে মেলায় ঘুরতে এসেছেন তিনি। কিন্তু যাত্রাপথে ভোগান্তি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,আসার পথে অনেক বেশি ধুলাবালু সহ্য করতে হয়েছে এ রকম জানলে আসতাম না। তবে মূল ভেন্যুতে ধুলাবালু না থাকায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি। আছে পরিবহনসংকটও। মেলায় দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে প্রতিদিন ৩০টি বিআরটিসি বাস চলাচল করবে। পাশাপাশি ওই রুটে ব্যক্তিগত গাড়ি চললেও, অনুমতি না থাকায় অন্য কোনো বাস চলাচল করছে না। ফলে মূল ঢাকা থেকে মেলাস্থলে যেতে হলে সবাইকে আগে কুড়িল ফ্লাইওভারে বিআরটিসি টার্মিনালে যেতে হবে। সন্ধ্যার পরে ফেরার পথেও বাসসংখ্যা কম থাকায় পড়তে হয় ভোগান্তিতে। পথের এই জটিলতার কারণে মেলায় যাওয়া মানুষের সংখ্যা শনিবার কমই ছিল।
রাজধানীর সদরঘাট থেকে বন্ধুদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা সাওন বলেন,মেলার স্থান অনেক দূর হয়ে যায় আমাদের জন্য। যাঁদের গাড়ি আছে, তাঁদের হয়তো সুবিধা হবে, কিন্তু আমাদের অনেক ধুলাবালুর মধ্য দিয়ে কষ্ট করে আসতে হয়েছে।
বিআরটিসির খিলক্ষেত ডিপোর গাড়িচালক কামরুল হাসান জানান,সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিআরটিসির ৩০টি বাস মেলায় আসা যাত্রীদের আনা-নেওয়ার কাজ করছে। শনিবার মেলার পনেরো দিনে এসব বাসে করে যাত্রী মেলায় গেছেন। কিন্তু রাস্তায় ধুলার কারণে যাত্রীদের সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও কষ্ট হয়।
দেশে দেশে করোনাভাইরাসের অমিক্রন ধরনের বিস্তৃতির খবরেও শঙ্কিত অনেকে। গাজীপুর বাসিন্দা সুমন বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির খবরে তিনি উদ্বিগ্ন। তাই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে মেলায় এসেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের কাউকে আনেননি যদিও আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় যেতেন তিনি।
তবে মেলার স্টলের বিন্যাস আর পরিকল্পিত কাঠামো অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। যাতরাবাড়ি থেকে মেলায় আসা জয় ও ফারজানা বিভিন্ন স্টল ঘুরে জানান,মেলার ভেন্যু ও স্টলগুলো খুব গোছানো আর সুন্দর। ভেতরে ধুলাবালুও কম। তবে ছোটবেলায় বাণিজ্য মেলায় যে আনন্দ পেতাম নতুন এই স্থানে সেটা পাইনি। মেলায় অপরিষ্কার শৌচাগার নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা।
এবারের বাণিজ্য মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এক ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলায় প্রবেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ৪০ টাকার টিকিট কাটতে হবে। শিশুদের জন্য টিকিটের মূল্য ২০ টাকা।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ



















