০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ফেনীতে অস্তিত্ব সংকটে ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথ,দখল হয়ে যাচ্ছে ৮টি স্টেশন ও সম্পত্তি

ফেনীর অস্তিত্ব সংকটে ফেনী-বিলোনীয়া রেল পথ। দীর্ঘ ২৫ বছর পরিত্যক্ত থাকায় লাইনের অনেক স্থানে লোহার পাত ও স্লিপার চুরি হয়ে যাচ্ছে।স্টেশন ভবনগুলোয় আগাছা জন্মে ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।দরজা-জানালাগুলো কে বা কাহারা খুলে নিয়ে গেছে। এছাড়া রেললাইনের ওপর দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা বসিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।এতে দখল হয়ে গেছে রেল বিভাগের রক্ষিত আটটি স্টেশন ঘর, সরঞ্জামাদি ও বিভিন্ন সম্পত্তি।এব্যাপারে লাকসাম জিআরপি থানায় ২৫-৩০টি মামলা হলেও জমি উদ্ধারে কার্যত কোনো তৎপরতা নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্ট বিভাগের। এদিকে ২০১৯ সালে পুনরায় এ রেলপথ চালু করার জন্য সমীক্ষা হলেও কিছুদিন পর থেকেই অদৃশ্য কারনে উদ্যোগটি থেমে আছে।রেলপথটি দ্রুত চালুর দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। রেল চলাচল না থাকায় পথটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্টদের কোনো তদারকি না থাকায় এ রেলপথ দখলদারদের কবলে পড়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি নির্মাণ করে। ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থান বিলোনিয়া থেকে ২৭ কিলোমিটারের এ পথে বন্ধুয়া, দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবক্স মুন্সীর হাট, নতুন মুন্সীর হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনিয়ায় স্টেশন স্থাপন করা হয়। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এক সময় এ রেলপথ ছিল ফেনী থেকে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়ার যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র মাধ্যম। ১৯৭১ সালের পর রেল যোগাযোগের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় কদর কমে যায় এ রেলপথের। ব্যাপক লোকসানের কারণে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ বন্ধ ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রযুক্তিক অর্থনীতির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ দেয়া হয়েছে ভারতের হায়দরাবাদের আরভে অ্যাসোসিয়েটস আর্কিটেক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্ট কোম্পানিকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ফেনী জেলা প্রশাসককে পরিত্যক্ত ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের জন্য দুই লেন পুনঃস্থাপনে প্রযুক্তিক অর্থনীতির সম্ভাব্য সমীক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই সময়ে রেললাইনজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতকরণসহ আনুষাঙ্গিক কিছু কাজ করে সমীক্ষা দল। পরে জরিপ প্রতিবেদনটি তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হলেও আর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার জানান, ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিলোনিয়া স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে। ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সফিকুর রহমান জানান, বন্ধ থাকা ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ চালুর বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ রয়েছে। সে বিষয়ে এরই মধ্যে সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া ।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

ফেনীতে অস্তিত্ব সংকটে ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথ,দখল হয়ে যাচ্ছে ৮টি স্টেশন ও সম্পত্তি

প্রকাশিত : ০৩:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২২

ফেনীর অস্তিত্ব সংকটে ফেনী-বিলোনীয়া রেল পথ। দীর্ঘ ২৫ বছর পরিত্যক্ত থাকায় লাইনের অনেক স্থানে লোহার পাত ও স্লিপার চুরি হয়ে যাচ্ছে।স্টেশন ভবনগুলোয় আগাছা জন্মে ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।দরজা-জানালাগুলো কে বা কাহারা খুলে নিয়ে গেছে। এছাড়া রেললাইনের ওপর দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা বসিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।এতে দখল হয়ে গেছে রেল বিভাগের রক্ষিত আটটি স্টেশন ঘর, সরঞ্জামাদি ও বিভিন্ন সম্পত্তি।এব্যাপারে লাকসাম জিআরপি থানায় ২৫-৩০টি মামলা হলেও জমি উদ্ধারে কার্যত কোনো তৎপরতা নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্ট বিভাগের। এদিকে ২০১৯ সালে পুনরায় এ রেলপথ চালু করার জন্য সমীক্ষা হলেও কিছুদিন পর থেকেই অদৃশ্য কারনে উদ্যোগটি থেমে আছে।রেলপথটি দ্রুত চালুর দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। রেল চলাচল না থাকায় পথটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্টদের কোনো তদারকি না থাকায় এ রেলপথ দখলদারদের কবলে পড়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি নির্মাণ করে। ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থান বিলোনিয়া থেকে ২৭ কিলোমিটারের এ পথে বন্ধুয়া, দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবক্স মুন্সীর হাট, নতুন মুন্সীর হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনিয়ায় স্টেশন স্থাপন করা হয়। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এক সময় এ রেলপথ ছিল ফেনী থেকে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়ার যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র মাধ্যম। ১৯৭১ সালের পর রেল যোগাযোগের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় কদর কমে যায় এ রেলপথের। ব্যাপক লোকসানের কারণে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ বন্ধ ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রযুক্তিক অর্থনীতির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ দেয়া হয়েছে ভারতের হায়দরাবাদের আরভে অ্যাসোসিয়েটস আর্কিটেক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্ট কোম্পানিকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ফেনী জেলা প্রশাসককে পরিত্যক্ত ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের জন্য দুই লেন পুনঃস্থাপনে প্রযুক্তিক অর্থনীতির সম্ভাব্য সমীক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই সময়ে রেললাইনজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতকরণসহ আনুষাঙ্গিক কিছু কাজ করে সমীক্ষা দল। পরে জরিপ প্রতিবেদনটি তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হলেও আর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার জানান, ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিলোনিয়া স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে। ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সফিকুর রহমান জানান, বন্ধ থাকা ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ চালুর বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ রয়েছে। সে বিষয়ে এরই মধ্যে সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া ।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ