০৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিকআপ চালকের বেপরোয়া গাড়ির একসিডেন্ট একই পরিবারের পাঁচজনের নিহত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মৃত বাবার শ্রদ্ধা শেষে ফেরার পথে বেপরোয়া গতির পিকআপের চাপায় পাঁচ সহোদর ভাই এর নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক পিকআপের চালক সহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুল’কে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান,গত ০৮ ফেব্রুয়ারী ভোরবেলা কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট নামক স্থানে একটি পিকআপের চাপায় একই পরিবারের ০৪ সহোদর ভাই, অনুপম সুশীল (৪৬),নিরুপম সুশীল (৪০), দীপক সুশীল (৩৫) চম্পক সুশীল (৩০) ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে।
এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে অপর সহোদর ভাই স্বরণ সুশীল (২৪)। একই দূর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয় তাদের সহোদর ভাই রক্তিম সুশীল এবং বোন হীরা সুশীল।বর্তমানে রক্তিম সুশীল চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।

জানা যায়,গত ৩০ জানুয়ারি নিহতদের পিতা সুরেশ চন্দ্র সুশীল বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। গত ০৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ হিসেবে পূজা শেষ করে তারা ০৯ ভাই-বোন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মালুমঘাট বাজারের নিকট রাস্তা পার হবার অপেক্ষায় ছিলো। এ সময় ভোর ৫ টার দিকে কক্সবাজারমুখী বেপরোয়া গতিতে একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূলসড়ক থেকে নেমে গিয়ে তাদের চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নির্মম এ ঘটনায় নিহতদের ভাই প্লাবন সুশীল (২২) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পিকআপ চালককে আসামী করে কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
কমান্ডার মঈন আরও বলেন, র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে গত ১১ ফেব্রুয়ারি মাধ্য রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পিকআপ চালক সহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুল (২২) কে গ্রেফতার হয়।

গ্রেফতারের পর পিকআপ চালক সাইফুল নিহতদেরকে গাড়ি চাপা দেওয়ার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি র‍্যাব কর্মকর্তাদের নিকট স্বীকার করে।

র‍্যাবের মূখপাত্র আরও জানান,ঐদিন তারেক ও রবিউল নামক দুইজনকে নিয়ে চকরিয়া থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সবজি বোঝাই পিকআপ নিয়ে রওনা করে সাইফুল। রাস্তায় অধিক কুয়াশা থাকা সত্তেও চালক সাইফুল দ্রুত কক্সবাজার পৌঁছে সবজি ডেলিভারি দেয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে পিকআপটি চালায়। অধিক কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে মালুমঘাট বাজারের নার্সারি গেটের সামনে রাস্তা পাড় হওয়ার জন্য অপেক্ষারতদেরকে চালক সাইফুল দূর থেকে লক্ষ্য করতে পারেনি। গাড়ীর অধিক গতি থাকার কারণে কাছাকাছি এসে লক্ষ্য করলেও গাড়িটি সে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে দূর্ঘটনাটি সংঘটিত করে। দূর্ঘটনার সময় তার সাথে পিকআপ মালিকের ছেলে তারেক ও ভাগিনা রবিউল ছিল।
দূর্ঘটনার পর পিকআপ মালিকের পরামর্শে সাইফুল পালিয়ে যায়।

এসময় আরও জানা যায়, পিকআপ চালক সাইফুল এর কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। সে দীর্ঘ ০২ বছর যাবত পিকআপ, চাঁন্দের গাড়ী ও ৩ টন ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি চালিয়ে আসছিলো। দূর্ঘটনার ০১ সপ্তাহ আগে সে ঐই পিকআপটি মালিকের কাছ থেকে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি ভিত্তিতে চালানো শুরু করে।
আটককৃত পিকআপটির গত ০৪ বছর যাবত ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন এবং ০৩ বছর যাবত রুট পারমিট মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। দূর্ঘটনা পর থেকেই পিকআপের মালিক, তার ছেলে তারেক ও ভাগিনা রবিউল আত্মগোপনে রয়েছে।মামলাটির পরবর্তী তদন্তের জন্য কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় হস্তান্তর প্রকিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

পিকআপ চালকের বেপরোয়া গাড়ির একসিডেন্ট একই পরিবারের পাঁচজনের নিহত

প্রকাশিত : ০৯:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মৃত বাবার শ্রদ্ধা শেষে ফেরার পথে বেপরোয়া গতির পিকআপের চাপায় পাঁচ সহোদর ভাই এর নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক পিকআপের চালক সহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুল’কে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান,গত ০৮ ফেব্রুয়ারী ভোরবেলা কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট নামক স্থানে একটি পিকআপের চাপায় একই পরিবারের ০৪ সহোদর ভাই, অনুপম সুশীল (৪৬),নিরুপম সুশীল (৪০), দীপক সুশীল (৩৫) চম্পক সুশীল (৩০) ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে।
এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে অপর সহোদর ভাই স্বরণ সুশীল (২৪)। একই দূর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয় তাদের সহোদর ভাই রক্তিম সুশীল এবং বোন হীরা সুশীল।বর্তমানে রক্তিম সুশীল চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।

জানা যায়,গত ৩০ জানুয়ারি নিহতদের পিতা সুরেশ চন্দ্র সুশীল বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। গত ০৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ হিসেবে পূজা শেষ করে তারা ০৯ ভাই-বোন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মালুমঘাট বাজারের নিকট রাস্তা পার হবার অপেক্ষায় ছিলো। এ সময় ভোর ৫ টার দিকে কক্সবাজারমুখী বেপরোয়া গতিতে একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূলসড়ক থেকে নেমে গিয়ে তাদের চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নির্মম এ ঘটনায় নিহতদের ভাই প্লাবন সুশীল (২২) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পিকআপ চালককে আসামী করে কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
কমান্ডার মঈন আরও বলেন, র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে গত ১১ ফেব্রুয়ারি মাধ্য রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পিকআপ চালক সহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুল (২২) কে গ্রেফতার হয়।

গ্রেফতারের পর পিকআপ চালক সাইফুল নিহতদেরকে গাড়ি চাপা দেওয়ার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি র‍্যাব কর্মকর্তাদের নিকট স্বীকার করে।

র‍্যাবের মূখপাত্র আরও জানান,ঐদিন তারেক ও রবিউল নামক দুইজনকে নিয়ে চকরিয়া থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সবজি বোঝাই পিকআপ নিয়ে রওনা করে সাইফুল। রাস্তায় অধিক কুয়াশা থাকা সত্তেও চালক সাইফুল দ্রুত কক্সবাজার পৌঁছে সবজি ডেলিভারি দেয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে পিকআপটি চালায়। অধিক কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে মালুমঘাট বাজারের নার্সারি গেটের সামনে রাস্তা পাড় হওয়ার জন্য অপেক্ষারতদেরকে চালক সাইফুল দূর থেকে লক্ষ্য করতে পারেনি। গাড়ীর অধিক গতি থাকার কারণে কাছাকাছি এসে লক্ষ্য করলেও গাড়িটি সে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে দূর্ঘটনাটি সংঘটিত করে। দূর্ঘটনার সময় তার সাথে পিকআপ মালিকের ছেলে তারেক ও ভাগিনা রবিউল ছিল।
দূর্ঘটনার পর পিকআপ মালিকের পরামর্শে সাইফুল পালিয়ে যায়।

এসময় আরও জানা যায়, পিকআপ চালক সাইফুল এর কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। সে দীর্ঘ ০২ বছর যাবত পিকআপ, চাঁন্দের গাড়ী ও ৩ টন ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি চালিয়ে আসছিলো। দূর্ঘটনার ০১ সপ্তাহ আগে সে ঐই পিকআপটি মালিকের কাছ থেকে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি ভিত্তিতে চালানো শুরু করে।
আটককৃত পিকআপটির গত ০৪ বছর যাবত ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন এবং ০৩ বছর যাবত রুট পারমিট মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। দূর্ঘটনা পর থেকেই পিকআপের মালিক, তার ছেলে তারেক ও ভাগিনা রবিউল আত্মগোপনে রয়েছে।মামলাটির পরবর্তী তদন্তের জন্য কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় হস্তান্তর প্রকিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ