১১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

গল্পটি বিস্ময়কর প্রেমের

গত রাতের কথা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। দৈনিক সমকাল সম্পাদক প্রিয় সারওয়ার ভাইর পঁচাত্তরতম জন্মোৎসব। দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংসদের স্পীকার, প্রায় সব সেরা মন্ত্রীদের উপস্থিতি।

পূজা সেনগুপ্তের নৃত্য আর রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার অপূর্ব সঙ্গীত। অনুষ্ঠান জমে উঠলো সঙ্গে সঙ্গে।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য সারওয়ার ভাইকে বিচিত্র রঙে এঁকে তুললো। এলো আমার পালা। বলতে তো হবেই।

সাধ ছিল, সারওয়ার ভাইর হাতে সবচেয়ে সুন্দর ফুলের তোড়াটি আমি তুলে দেবো। উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরের ফুলের বাজারে গেলাম। দোকানিরা অনেকেই আমায় চেনেন। তারা ছুটে এসে আমায় ঘিরে ধরলেন। বলতে লাগলেন, সবচেয়ে সুন্দর ফুলের তোড়া আমার দোকানেই পাবেন।

একজন নেতা ধরণের বিক্রেতা হাক দিলেন, মোর বাড়ি বানরিপারা। ব্যাচা-বেচি বন্ধ। জুয়েল ভাইরে মুই ফুল দিমু। মাগনা। ধন্যবাদ ভাই । আপনার নিজের কেনা দামটা কিন্তু নিতেই হবে। বিনাপয়সায় নেবোনা।

পছন্দের তোড়াটাতে আরো বাহারী সব ফুলে সাজাতে সাজাতে বললেন, অ্যাতো সুন্দার ফুলগুলা আপনে ক্যারে দেবেন? গোলাম সারোয়ার ভাইরে। ওরে আল্লা, মোর অ্যাতো ভাইগ্গো!

কেন? আরে, হে তো মোর পাশের বাড়ির মানু। তার আইজ জন্মদিন।

হেরে খালি কবেন, “মোল্লা বাড়ির ইনুচ এইডা দেছে।” আর কিছু কওয়া লাগবেনা। অনেক চেষ্টা করেও তার হাতে বা পকেটে একটা টাকাও ঢোকাতে পারলামনা।

আবেগে তাকে বুকের মধ্যে চেপে ধরলাম। এর চেয়ে বড়ো উপহার কি পৃথিবীতে আর আছে? (লেখকের ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

গল্পটি বিস্ময়কর প্রেমের

প্রকাশিত : ০৮:০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ এপ্রিল ২০১৮

গত রাতের কথা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। দৈনিক সমকাল সম্পাদক প্রিয় সারওয়ার ভাইর পঁচাত্তরতম জন্মোৎসব। দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংসদের স্পীকার, প্রায় সব সেরা মন্ত্রীদের উপস্থিতি।

পূজা সেনগুপ্তের নৃত্য আর রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার অপূর্ব সঙ্গীত। অনুষ্ঠান জমে উঠলো সঙ্গে সঙ্গে।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য সারওয়ার ভাইকে বিচিত্র রঙে এঁকে তুললো। এলো আমার পালা। বলতে তো হবেই।

সাধ ছিল, সারওয়ার ভাইর হাতে সবচেয়ে সুন্দর ফুলের তোড়াটি আমি তুলে দেবো। উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরের ফুলের বাজারে গেলাম। দোকানিরা অনেকেই আমায় চেনেন। তারা ছুটে এসে আমায় ঘিরে ধরলেন। বলতে লাগলেন, সবচেয়ে সুন্দর ফুলের তোড়া আমার দোকানেই পাবেন।

একজন নেতা ধরণের বিক্রেতা হাক দিলেন, মোর বাড়ি বানরিপারা। ব্যাচা-বেচি বন্ধ। জুয়েল ভাইরে মুই ফুল দিমু। মাগনা। ধন্যবাদ ভাই । আপনার নিজের কেনা দামটা কিন্তু নিতেই হবে। বিনাপয়সায় নেবোনা।

পছন্দের তোড়াটাতে আরো বাহারী সব ফুলে সাজাতে সাজাতে বললেন, অ্যাতো সুন্দার ফুলগুলা আপনে ক্যারে দেবেন? গোলাম সারোয়ার ভাইরে। ওরে আল্লা, মোর অ্যাতো ভাইগ্গো!

কেন? আরে, হে তো মোর পাশের বাড়ির মানু। তার আইজ জন্মদিন।

হেরে খালি কবেন, “মোল্লা বাড়ির ইনুচ এইডা দেছে।” আর কিছু কওয়া লাগবেনা। অনেক চেষ্টা করেও তার হাতে বা পকেটে একটা টাকাও ঢোকাতে পারলামনা।

আবেগে তাকে বুকের মধ্যে চেপে ধরলাম। এর চেয়ে বড়ো উপহার কি পৃথিবীতে আর আছে? (লেখকের ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)