বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদ মাঠে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি, ঢাকা) মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জুবায়রা বেগম সাথী। সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা তারিক আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি।অনুষ্ঠানে কৃষকদের পক্ষ থেকে মতামত তুলে ধরেন কৃষক মোঃ হিবযুর রহমান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খামারবাড়ির (প্রশাসন ও অর্থ উইং) সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক আবু মোঃ এনায়েত উল্লাহ, ডিআই ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান, শেরপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল ড. সালমা লাইজু, ডিএই ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক মোঃ এনামুল হক, ডিএই ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কার্যালয়ের উপপরিচালক সালমা আক্তার, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমান, ডিএই ঢাকার সরকারি পরিচালক ড. মোঃ জাকির হোসেন এবং জগন্নাথপুর ও মোহনগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প পরিচালক ড. কে. এম. বদরুল হক। আলোচনায় বক্তারা বলেন, কৃষি আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক কৃষিযন্ত্র, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই কৃষি মেলার মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবেন, যা মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করে কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। কৃষক ভাইদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, এই কৃষি মেলার প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখবেন, নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কে জানবেন এবং তা নিজ নিজ জমিতে প্রয়োগ করবেন। এতে করে কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন এবং কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হয়। মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও কৃষি উপকরণ প্রদর্শনের জন্য মোট ২০টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কৃষক-কৃষানী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএস./





















