০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

টিসিবির লাইন দেখলেই বোঝা যায় মানুষ কেমন আছে: জি এম কাদের

শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এমপি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো নেই। তারা সীমাহীন অর্থনৈতিক কষ্টে আছেন। সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝে না, হতদরিদ্রের ভাষা বোঝে না। তারা শুধু নিজেদের আর নেতাদের নাম জাহির করে।

শনিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, সরকার বলছে দেশ অনেক এগিয়েছে, মানুষের আয় বেড়েছে। দেশের প্রবৃদ্ধি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে। কিন্তু, টিসিবির ট্রাকের পাশে মানুষের লাইন দেখলেই বোঝা যায় মানুষ কতটা ভালো আছেন। এখন অনেকেই প্যান্ট-শার্ট পরে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। টিসিবির পণ্য কিনতে এক কিলোমিটার লাইন, দিনের শেষে অনেকেই খালি হাতে বাসায় ফেরেন।

তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। টিসিবির পণ্য দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এমন বাস্তবতায় সরকার রেশনিং চালু করতে পারে।

সরকারি দলের লোকজন অর্থনৈতিকভাবে ভালো আছেন একথা উল্লেখ করে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তারা লুটপাট, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দলবাজি আর দখলের রাম রাজত্ব কায়েম করেছে। মানুষ কারো কাছে বিচার দিতে পারে না। মানুষ জানে না কার কাছে গেলে কোন প্রতিকার মিলবে।

কাদের বলেন, এসব নেতাদের মধ্যে কারো কারো আয় বেড়েছে লাখ-লাখ টাকা অথচ বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের আয় কমেছে। তাই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির বিষয়টি এখন আছে কাগজে কলমে। এর সুফল পাচ্ছে না দেশের সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দেশের মানুষ বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়।

প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে এ কথা উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সোনার বাংলাকে নরক বানিয়েছে। তাদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার। একটি দল যে কোনো মূল্যে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায়। আর অন্য দলটি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার লোভে তাদের সামনে দেশ ও দেশের মানুষ মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। আমরা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি, আমরা দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে চাই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে। তারা উৎসবের নির্বাচন আতঙ্কে পরিণত করেছে। নির্বাচনের নাম শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাই সাধারণ জনগণ এখন আর ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না। দেশের মানুষকে নির্বাচনমুখী করতে হবে। দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশের মানুষ সুশাসন ভোগ করবে। জাতীয় পার্টি করে যারা অন্য দলের দালালি করবে তাদের জায়গা আর জাপায় হবে না এমন হুঁশিয়ারি দেন জি এম কাদের।

তিনি বলেন, যারা ব্যক্তি স্বার্থে অন্য দলের দালালি করবে তাদের কঠিন শাস্তি পেতে হবে। জাপা কোনো দলের বি-টিম নয়। জাতীয় পার্টি শুধু তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করবে, যারা ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করবে না। যারা ক্ষমতায় গিয়ে সুশাসন, আইনের শাসন, মানুষের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করবে তাদের সাথেই জাতীয় পার্টির বন্ধুত্ব হবে। তিনি বলেন, মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্যই আমাদের রাজনীতি।

পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর নাখোশ আর বিএনপিকে বিশ্বাস করে না। গণমানুষের অধিকার নিয়ে মাঠে নামলেই দেশের সুশীল সমাজ জাতীয় পার্টির সঙ্গে থাকবে। দেশের মানুষ দুর্নীতি ও দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। একটি চক্র সিন্ডিকেট করে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। অথচ সরকার তাদের বিরুদ্ধে কিছুই বলছে না। ইউক্রেন যুদ্ধের দোহাই দিচ্ছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলের কো- চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশিদ, সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, এসএম ফয়সাল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, শেরীফা কাদের এমপি প্রমুখ।

সম্মেলনে আগামী দুই বছরের জন্য জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ-এর জন্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপিকে সভাপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

টিসিবির লাইন দেখলেই বোঝা যায় মানুষ কেমন আছে: জি এম কাদের

প্রকাশিত : ০৭:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২

শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এমপি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো নেই। তারা সীমাহীন অর্থনৈতিক কষ্টে আছেন। সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝে না, হতদরিদ্রের ভাষা বোঝে না। তারা শুধু নিজেদের আর নেতাদের নাম জাহির করে।

শনিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, সরকার বলছে দেশ অনেক এগিয়েছে, মানুষের আয় বেড়েছে। দেশের প্রবৃদ্ধি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে। কিন্তু, টিসিবির ট্রাকের পাশে মানুষের লাইন দেখলেই বোঝা যায় মানুষ কতটা ভালো আছেন। এখন অনেকেই প্যান্ট-শার্ট পরে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। টিসিবির পণ্য কিনতে এক কিলোমিটার লাইন, দিনের শেষে অনেকেই খালি হাতে বাসায় ফেরেন।

তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। টিসিবির পণ্য দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এমন বাস্তবতায় সরকার রেশনিং চালু করতে পারে।

সরকারি দলের লোকজন অর্থনৈতিকভাবে ভালো আছেন একথা উল্লেখ করে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তারা লুটপাট, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দলবাজি আর দখলের রাম রাজত্ব কায়েম করেছে। মানুষ কারো কাছে বিচার দিতে পারে না। মানুষ জানে না কার কাছে গেলে কোন প্রতিকার মিলবে।

কাদের বলেন, এসব নেতাদের মধ্যে কারো কারো আয় বেড়েছে লাখ-লাখ টাকা অথচ বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের আয় কমেছে। তাই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির বিষয়টি এখন আছে কাগজে কলমে। এর সুফল পাচ্ছে না দেশের সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দেশের মানুষ বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়।

প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে এ কথা উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সোনার বাংলাকে নরক বানিয়েছে। তাদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার। একটি দল যে কোনো মূল্যে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায়। আর অন্য দলটি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার লোভে তাদের সামনে দেশ ও দেশের মানুষ মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। আমরা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি, আমরা দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে চাই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে। তারা উৎসবের নির্বাচন আতঙ্কে পরিণত করেছে। নির্বাচনের নাম শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাই সাধারণ জনগণ এখন আর ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না। দেশের মানুষকে নির্বাচনমুখী করতে হবে। দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশের মানুষ সুশাসন ভোগ করবে। জাতীয় পার্টি করে যারা অন্য দলের দালালি করবে তাদের জায়গা আর জাপায় হবে না এমন হুঁশিয়ারি দেন জি এম কাদের।

তিনি বলেন, যারা ব্যক্তি স্বার্থে অন্য দলের দালালি করবে তাদের কঠিন শাস্তি পেতে হবে। জাপা কোনো দলের বি-টিম নয়। জাতীয় পার্টি শুধু তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করবে, যারা ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করবে না। যারা ক্ষমতায় গিয়ে সুশাসন, আইনের শাসন, মানুষের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করবে তাদের সাথেই জাতীয় পার্টির বন্ধুত্ব হবে। তিনি বলেন, মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্যই আমাদের রাজনীতি।

পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর নাখোশ আর বিএনপিকে বিশ্বাস করে না। গণমানুষের অধিকার নিয়ে মাঠে নামলেই দেশের সুশীল সমাজ জাতীয় পার্টির সঙ্গে থাকবে। দেশের মানুষ দুর্নীতি ও দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। একটি চক্র সিন্ডিকেট করে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। অথচ সরকার তাদের বিরুদ্ধে কিছুই বলছে না। ইউক্রেন যুদ্ধের দোহাই দিচ্ছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলের কো- চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশিদ, সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, এসএম ফয়সাল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, শেরীফা কাদের এমপি প্রমুখ।

সম্মেলনে আগামী দুই বছরের জন্য জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ-এর জন্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপিকে সভাপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ