নজিরবিহীনভাবে সৌদি আরবের বর্তমান রাজা সালমানের ছেলে এবং দেশটির সিংহাসনের মনোনীত উত্তরাধীকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘ইসরায়েলের নিজেদের ভূমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের ‘অধিকার’ আছে।’
আর কয়েক ঘণ্টা পরে সৌদি সংবাদমাধ্যম জানালো তারা বাবা রাজা সালমান ফিলিস্তিনিদের প্রতি সৌদি রাজপরিবারের সমর্থন জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন রাজা সালমান।
গত শুক্রবার ইসরায়েল-গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের এক বিক্ষোভ সমাবেশে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্পকে এ ফোন কলটি করেন সালমান।
ওই দিনই সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এর খবরে বলা হয়, ‘ফিলিস্তিন ইস্যুতে এবং জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারের বিষয়ে সৌদি আরবের অবস্থানে দৃঢ় আছেন রাজা সালমান।’
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিবৃতি আসার পর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বাদশা সালমানের প্রশংসা করে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন দেয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএফএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আব্বাস, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য সৌদি আরবের প্রশংসা করেন।
এর আগে গত সোমবারই মার্কিন সাময়িকী আটলান্টিক-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে যুবরাজ বিন সালমান বলেছিলেন, ‘নিজ ভূমিতে ইসরায়েলিদের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার আছে।’
যুবরাজকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নিজেদের পিতৃপুরুষের ভূমিতে একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বসবাসের সুযোগ ইহুদিদের আছে বলে তিনি মনে করেন কি না।
জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নিজেদের ভূমির ওপর ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলিদের পূর্ণ অধিকার আছে। আমাদের এখন একটি শান্তিচুক্তি দরকার যাতে সব পক্ষই স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক একটি সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে।’
সমালোচকরা বলছেন, যুবরাজের বক্তব্যে দখলদার ও নিপীড়নকারী ইসরায়েলে অধিকারকে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সাথে সমানভাবে তুলে ধরে প্রকৃত অর্থে নিপীড়নকে বৈধতা দিচ্ছেন তিনি। যেখানে মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিরীহ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি করে ১৭ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, সেখানে এসবের বিচার দাবি না করে ‘ইসরায়েলের অধিকার’ নিয়ে কথা বলার অর্থ হচ্ছে, সৌদি যুবরাজ হত্যাকারী তেলাবিবের পক্ষে দাঁড়ালেন।
সৌদি আরব ও ইসরায়েলের কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুতগতিতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটেছে। দুটি দেশই ইরানকে তাদের উভয়ের হুমকি বলে মনে করে।
সম্প্রতি ভারত থেকে ইসরায়েলের যাওয়ার জন্য ভারতীয় বিমানকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে রিয়াদ। এরপর ইসরায়েলি পর্যটনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেছেন, শিগগিরই ইসরায়েলি বিমানও সৌদির ওপর দিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাবে।
তেল আবিব ও রিয়াদের মধ্যে এমন উষ্ণতা ছড়ানোর সময় ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাদশাহ সালমান ও ছেলে যুবরাজ বিন সালমানের দুই ধরনের বক্তব্যকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্চ মাসের শেষের দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি তথ্য প্রকাশ করেছিলো, বিন সালমান তার মা ফাহদা বিনতে ফালাহ আল হাতলেনেকে দুই বছর ধরে গহবন্দি করে রেখেছেন। ছেলের ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণে বাঁধা হয়ে ওঠার শঙ্কায়ই মায়ের সাথে এমন আচরণ বলেও এনবিসির রিপোর্টে বলা হয়।

























