০৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সাতক্ষীরায় একসাথে যমজ বোনের পুলিশে চাকরী

সাতক্ষীরায় সবাইকে চমকে দিয়েছেন যমজ দুই বোন ফারজানা জাহান ও ফারহানা জাহান।পুলিশে চাকরি পেয়েছেন তারা একসাথে। এসএসসিতে একই ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা।

ফারজানা জাহান ও ফারহানা জাহান সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকড়াবাদ গ্রামের আসাদুল ইসলাম ও গৃহিণী রেহেনা পারভীনের মেয়ে।

২০২২ সালের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরীক্ষায় সাতক্ষীরার চূড়ান্ত ফলাফলে স্থান করে নিয়েছে যমজ বোন ফারজানা জাহান ও ফারহানা জাহান। সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় চতুর্থ ফারজানা জাহান এবং পঞ্চম হয়েছেন ফারহানা জাহান। গত বুধবার (২০ এপ্রিল) এ ফলাফল ঘোষণা করেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

মা রেহেনা পারভীন বলেন, আমি দর্জির কাজ করে সংসার চালিয়ে মেয়েদের লেখাপড়াও শিখিয়েছি। আমার তিনটা মেয়ে। বড় মেয়ে আফসানা জাহান গণিত বিষয়ে অনার্স পড়ছে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে। ছোট দুইটা যমজ। একইসঙ্গে লেখাপড়া, খেলাধুলা করে বেড়ে উঠেছে তারা। একসঙ্গে তারা পুলিশে চাকরি পাবে, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি।

২০২০ সালে গোয়ালডাঙ্গা ফকিরবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪.০৬ পেয়ে এসএসসি পাস করেছে তারা। বর্তমানে আশাশুনি মহিলা কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মা রেহেনা পারভীন আরও বলেন, ২০১৩ সালে আমার স্বামী আসাদুল ইসলাম রাজনীতির স্বীকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

তিনি বলেন, দর্জির কাজ থেকে উপার্জিত অর্থ ও সরকারি বিভিন্ন সহায়তায় সংসার চলে। দুই মেয়ের পুলিশে চাকরি হওয়ায় আমরা খুব খুশি। সংসারে আর অভাব-অনটন থাকবে না।

ফারজানা জাহান বলেন, ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল আমি পুলিশ হব। এখন পুলিশে চাকরি পেয়েছি। এবার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব।

ফারহানা জাহান বলেন, পুলিশ সদস্য নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছি। টাকা ছাড়াই পুলিশের চাকরি পেয়েছি আমরা। আবেদনসহ খরচ হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা করে দুই বোনের ২৪০ টাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বাবা আসাদুল ইসলাম বলেন, আমি এখন কোনো কাজকর্ম করতে পারি না, বাড়িতেই থাকি। গরিব পরিবারে সরকারি চাকরি খুব একটা হয় না। সেখানে দুই মেয়ে একসঙ্গেই মেধা তালিকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছে, এর থেকে আনন্দের কিছু হতে পারে না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও সাতক্ষীরা জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ফারহানা জাহান ও ফারজানা জাহান আশাশুনির যমজ বোন। তারা সাধারণ নারী কোটায় পুলিশ সদস্য পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। যারাই প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন সকলেই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আশুগঞ্জে গাঁজা উদ্ধার,দুই মাদক কারবারী গ্রেফতার

সাতক্ষীরায় একসাথে যমজ বোনের পুলিশে চাকরী

প্রকাশিত : ০৮:৫৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২

সাতক্ষীরায় সবাইকে চমকে দিয়েছেন যমজ দুই বোন ফারজানা জাহান ও ফারহানা জাহান।পুলিশে চাকরি পেয়েছেন তারা একসাথে। এসএসসিতে একই ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা।

ফারজানা জাহান ও ফারহানা জাহান সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকড়াবাদ গ্রামের আসাদুল ইসলাম ও গৃহিণী রেহেনা পারভীনের মেয়ে।

২০২২ সালের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরীক্ষায় সাতক্ষীরার চূড়ান্ত ফলাফলে স্থান করে নিয়েছে যমজ বোন ফারজানা জাহান ও ফারহানা জাহান। সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় চতুর্থ ফারজানা জাহান এবং পঞ্চম হয়েছেন ফারহানা জাহান। গত বুধবার (২০ এপ্রিল) এ ফলাফল ঘোষণা করেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

মা রেহেনা পারভীন বলেন, আমি দর্জির কাজ করে সংসার চালিয়ে মেয়েদের লেখাপড়াও শিখিয়েছি। আমার তিনটা মেয়ে। বড় মেয়ে আফসানা জাহান গণিত বিষয়ে অনার্স পড়ছে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে। ছোট দুইটা যমজ। একইসঙ্গে লেখাপড়া, খেলাধুলা করে বেড়ে উঠেছে তারা। একসঙ্গে তারা পুলিশে চাকরি পাবে, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি।

২০২০ সালে গোয়ালডাঙ্গা ফকিরবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪.০৬ পেয়ে এসএসসি পাস করেছে তারা। বর্তমানে আশাশুনি মহিলা কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মা রেহেনা পারভীন আরও বলেন, ২০১৩ সালে আমার স্বামী আসাদুল ইসলাম রাজনীতির স্বীকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

তিনি বলেন, দর্জির কাজ থেকে উপার্জিত অর্থ ও সরকারি বিভিন্ন সহায়তায় সংসার চলে। দুই মেয়ের পুলিশে চাকরি হওয়ায় আমরা খুব খুশি। সংসারে আর অভাব-অনটন থাকবে না।

ফারজানা জাহান বলেন, ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল আমি পুলিশ হব। এখন পুলিশে চাকরি পেয়েছি। এবার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব।

ফারহানা জাহান বলেন, পুলিশ সদস্য নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছি। টাকা ছাড়াই পুলিশের চাকরি পেয়েছি আমরা। আবেদনসহ খরচ হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা করে দুই বোনের ২৪০ টাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বাবা আসাদুল ইসলাম বলেন, আমি এখন কোনো কাজকর্ম করতে পারি না, বাড়িতেই থাকি। গরিব পরিবারে সরকারি চাকরি খুব একটা হয় না। সেখানে দুই মেয়ে একসঙ্গেই মেধা তালিকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছে, এর থেকে আনন্দের কিছু হতে পারে না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও সাতক্ষীরা জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ফারহানা জাহান ও ফারজানা জাহান আশাশুনির যমজ বোন। তারা সাধারণ নারী কোটায় পুলিশ সদস্য পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। যারাই প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন সকলেই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর