ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হাওরাঞ্চলে পানিতে তলিয়ে থাকা জমির ধান পঁচতে শুরু করেছে। এই পঁচা ধানের মধ্যে থেকে কিছু ভালো ধান পাওয়া যায় কিনা সেই আশায় পানির নিচ থেকে পঁচা ধানই কাটার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। তবে কৃষকদের দাবি পচা ধান নিজের জন্যে নয়, গরুর খাবারের জন্যে কেটে আনছেন। রোদে শুকিয়ে যদি গরুকে খাওয়ানো যায় এজনই তারা পঁচা ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে হাওরের ধান ৭০ থেকে ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তারা হাওর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করছেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে উপজেলার মেদির হাওর, আকাশি হাওর ও বালিয়াজুরি বিলের কমপক্ষে সাড়ে ৩ শত হেক্টর জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে হাওরের পানি অপরিবর্তিত থাকায় ইতোমধ্যেই পানির নিচে থাকা আধাপাকা ধানে পচন ধরেছে।
বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা এখন নিজের গরুর খাবারের জন্য পচা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা অজয় ঋষি জানান, বানিয়াজুরি বিলে তার ৮কানি ধানি জমি (৩০ শতকে ১ কানি) রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তার ৮ কানি জমির ধানই পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি না
কমায় আধাপাকা ধানে এখন পঁচন ধরেছে। নিজের খাওয়ার আশি ছেড়ে দিয়ে গরুর খাবারের জন্য পঁচা ধান এখন পানির নীচ থেকে কেটে আনছেন। কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, তার ৯কানি জমি ও পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন আর ধানের খোঁজে হাওরে যাই না। তিনি বলেন, এই ধান আর কোন কাজে লাগবেনা। নিজের ভাগ্যকে আল্লাহতায়ালার হাতে ছেড়ে দিয়েচি।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ আবু সালেম ও তমা রানী দেব বলেন, কৃষকদেরকে হাওরের ধান ৭০ থেকে ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে হাওর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে।
তালিকা চুড়ান্ত হলে তাদেরকে বিশেষ প্রণোদনার দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মেহেদী হাসান খান শাওন, জানান, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রনয়ন করা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















