০৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

না’গঞ্জে দশ বছরের শিশুকে ধান ক্ষেতে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা: চারজন গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে রিমন নামে দশ বছর বয়সের একটি শিশুকে ধান ক্ষেতে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনার মূল হোতা সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

রবিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার দুপুরে পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার কৃষক বিল্লাল হোসেনের ছেলে স্থানীয় পরমেশ্বরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুনায়েদ হাসান রিমনের সাথে গ্রামের সমবয়সী ছেলেদের মধ্যে ঝগড়া হয়।

পরে বিষয়টি পারিবারিক বিরোধে রূপ নেয়। এর জের ধরে শিশু রিমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার পরিবারের প্রতিপক্ষের লোকজন। গত ১৭ এপ্রিল দুপুরে রিমন স্কুল থেকে বাসায় ফিরে পাড়ার বন্ধুদের সাথে বাইরে খেলতে যায়।

পরে বন্ধুরা বাড়িতে ফিরে আসলেও রিমন নিখোঁজ থাকে। তার পরিবারের স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও রিমনের কোন সন্ধান মেলেনি । ঘটনার পরদিন ১৮ এপ্রিল সকালে বাড়ির অদূরে একটি ধান ক্ষেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় রিমনের লাশ উদ্ধার হয়।

পিবিআইপুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় নিহত রিমনের বাবা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২৩ এপ্রিল তদন্তভার পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি ছায়াতদন্ত শুরু করে জেলা পিবিআই।

প্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন তারা। রবিবার সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত চারজনকে।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারের পর আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশু রিমনকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধান ক্ষেতে নিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

এদিকে হত্যাকান্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছেন নিহত রিমনের স্বজনরা।

নিহত রিমনের মা রওশন আরা বলেন, প্রতিবেশি সাত বছরের শিশু তানজিনের সাথে ঝগড়াকে কেন্দর করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তানজিনের চাচা আল আমি তাকে দেখে নেবার হুমকিও দেয়।

এর জের ধরেই আমার শিশু ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে আলামীন ও তার সহযোগিরা মিলে হত্যা করেছে। আমি সরকারের কাছে খুনীদের ফাঁস্যার বিচার চাই।

হত্যাকান্ডের মূল হোতাসহ আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করায় পিবিআইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান নিহত রিমনের বাবা বিল্লাল হোসেন।

তিনি বলেন, পিবিআই ফোর্সের সদস্যরা রাত দিন পরিশ্রম করে আমার ছেলের খুনীদের গ্রেফতার করেছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নাই।

পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃদের মধ্যে ইমন নামে এক আসামি এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবব্দি দিয়েছে।

রবিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট শামছুর রহমানের আদালতে তার এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

লাশের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পিবিআই পুলিশ সুপার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ২০ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান

না’গঞ্জে দশ বছরের শিশুকে ধান ক্ষেতে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা: চারজন গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৭:২০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে রিমন নামে দশ বছর বয়সের একটি শিশুকে ধান ক্ষেতে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনার মূল হোতা সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

রবিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার দুপুরে পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার কৃষক বিল্লাল হোসেনের ছেলে স্থানীয় পরমেশ্বরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুনায়েদ হাসান রিমনের সাথে গ্রামের সমবয়সী ছেলেদের মধ্যে ঝগড়া হয়।

পরে বিষয়টি পারিবারিক বিরোধে রূপ নেয়। এর জের ধরে শিশু রিমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার পরিবারের প্রতিপক্ষের লোকজন। গত ১৭ এপ্রিল দুপুরে রিমন স্কুল থেকে বাসায় ফিরে পাড়ার বন্ধুদের সাথে বাইরে খেলতে যায়।

পরে বন্ধুরা বাড়িতে ফিরে আসলেও রিমন নিখোঁজ থাকে। তার পরিবারের স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও রিমনের কোন সন্ধান মেলেনি । ঘটনার পরদিন ১৮ এপ্রিল সকালে বাড়ির অদূরে একটি ধান ক্ষেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় রিমনের লাশ উদ্ধার হয়।

পিবিআইপুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় নিহত রিমনের বাবা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২৩ এপ্রিল তদন্তভার পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি ছায়াতদন্ত শুরু করে জেলা পিবিআই।

প্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন তারা। রবিবার সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত চারজনকে।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারের পর আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশু রিমনকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধান ক্ষেতে নিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

এদিকে হত্যাকান্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছেন নিহত রিমনের স্বজনরা।

নিহত রিমনের মা রওশন আরা বলেন, প্রতিবেশি সাত বছরের শিশু তানজিনের সাথে ঝগড়াকে কেন্দর করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তানজিনের চাচা আল আমি তাকে দেখে নেবার হুমকিও দেয়।

এর জের ধরেই আমার শিশু ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে আলামীন ও তার সহযোগিরা মিলে হত্যা করেছে। আমি সরকারের কাছে খুনীদের ফাঁস্যার বিচার চাই।

হত্যাকান্ডের মূল হোতাসহ আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করায় পিবিআইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান নিহত রিমনের বাবা বিল্লাল হোসেন।

তিনি বলেন, পিবিআই ফোর্সের সদস্যরা রাত দিন পরিশ্রম করে আমার ছেলের খুনীদের গ্রেফতার করেছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নাই।

পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃদের মধ্যে ইমন নামে এক আসামি এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবব্দি দিয়েছে।

রবিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট শামছুর রহমানের আদালতে তার এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

লাশের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পিবিআই পুলিশ সুপার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর