০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাঙ্গাবালীতে আরও পাঁচ শতাধিক গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে ঘর

মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই, আর পাকা একটি ঘর ছিল যাদের দু’চোখের স্বপ্ন। তারাই পাচ্ছেন স্বপ্নের ঠিকানা, হচ্ছে নিজের বাড়ি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গলবার পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর পাঁচ শতাধিক পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। সঙ্গে দুই শতক জমি।

প্রশাসনের তথ্যমতে, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায় এ উপজেলায় নির্মাণাধীন ৬১৮টি ঘরের মধ্যে নির্মিত ৫২০টি ঘর এবার হস্তান্তর করা হবে । মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশে জমি ও ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর রাঙ্গাবালীতে উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে ঘরের চাবি ও জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

ঈদের আগেই উপহারের এসব ঘর পাওয়া ওইসব পরিবারগুলোর ঈদ আনন্দে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। উপকারভোগীরা বলছেন, মুজিববর্ষে তাদের স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা। দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় উপকারভোগীদেরই একজনের সঙ্গে, নাম নার্গিস বেগম (৪০)। পেশায় গৃহকর্মী। যার ছিল না এক টুকরো জমি কিংবা মাথা গোঁজার জন্য ঘর। অন্যের বাড়ি আর ভাড়া বাসায়ই কেটেছে জীবন। তিনি এ পর্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত একটি ঘর পেয়েছেন। তার অনুভূতি জানতে চাইলে আনন্দঅশ্র চোখে নার্গিস বেগম বলেন, ‘মানুষের বাসায় কাজ করতাম। নিজের কোন জায়গা জমি ঘর আছিল না। ভাড়া ঘরে থাকতাম। ছেলে সন্তান নিয়া অনেক কষ্ট করছি। ওদের (সন্তানদের) মন ছোট থাকতো। এখন প্রধানমন্ত্রী আমারে ঘর দিছে। আমি অনেক খুশি।’

একই ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া মান্নান হাওলাদার (৭০) বলেন, ‘আমার আগের জীবন আছিল খুবই কষ্টের। ভাঙা ঘরে ছিলাম। আমার মা শেখ হাসিনা আমারে ঘর দেওনে (দেয়ায়) আমি খুশি। আমি তার জন্য অনেক অনেক দোয়া করি।’ নার্গিস ও মান্নানের মত এমন অনুভূতি ঘর পাওয়া অনেকেরই। তাদের ভাষ্য, একটি ঘর তাদের জীবন বদলে দিবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা পরিষদ চত্তরে তৃতীয় পর্যায় নির্মিত মুজিববর্ষের ঘরের চাবি ও জমির দলিলপত্র হস্তান্তর করা হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের এমপি এবং সভাপতিত্ব করবেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক স্যার।

উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারের জন্য এ উপজেলায় মোট এক হাজার ৮৮৫টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে প্রথম পর্যায় ৪৯১, দ্বিতীয় পর্যায় ৭৭৬ ও তৃতীয় পর্যায় ৬১৮টি ঘর বরাদ্দ হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ২০ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান

রাঙ্গাবালীতে আরও পাঁচ শতাধিক গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে ঘর

প্রকাশিত : ০৮:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২

মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই, আর পাকা একটি ঘর ছিল যাদের দু’চোখের স্বপ্ন। তারাই পাচ্ছেন স্বপ্নের ঠিকানা, হচ্ছে নিজের বাড়ি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গলবার পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর পাঁচ শতাধিক পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। সঙ্গে দুই শতক জমি।

প্রশাসনের তথ্যমতে, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায় এ উপজেলায় নির্মাণাধীন ৬১৮টি ঘরের মধ্যে নির্মিত ৫২০টি ঘর এবার হস্তান্তর করা হবে । মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশে জমি ও ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর রাঙ্গাবালীতে উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে ঘরের চাবি ও জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

ঈদের আগেই উপহারের এসব ঘর পাওয়া ওইসব পরিবারগুলোর ঈদ আনন্দে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। উপকারভোগীরা বলছেন, মুজিববর্ষে তাদের স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা। দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় উপকারভোগীদেরই একজনের সঙ্গে, নাম নার্গিস বেগম (৪০)। পেশায় গৃহকর্মী। যার ছিল না এক টুকরো জমি কিংবা মাথা গোঁজার জন্য ঘর। অন্যের বাড়ি আর ভাড়া বাসায়ই কেটেছে জীবন। তিনি এ পর্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত একটি ঘর পেয়েছেন। তার অনুভূতি জানতে চাইলে আনন্দঅশ্র চোখে নার্গিস বেগম বলেন, ‘মানুষের বাসায় কাজ করতাম। নিজের কোন জায়গা জমি ঘর আছিল না। ভাড়া ঘরে থাকতাম। ছেলে সন্তান নিয়া অনেক কষ্ট করছি। ওদের (সন্তানদের) মন ছোট থাকতো। এখন প্রধানমন্ত্রী আমারে ঘর দিছে। আমি অনেক খুশি।’

একই ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া মান্নান হাওলাদার (৭০) বলেন, ‘আমার আগের জীবন আছিল খুবই কষ্টের। ভাঙা ঘরে ছিলাম। আমার মা শেখ হাসিনা আমারে ঘর দেওনে (দেয়ায়) আমি খুশি। আমি তার জন্য অনেক অনেক দোয়া করি।’ নার্গিস ও মান্নানের মত এমন অনুভূতি ঘর পাওয়া অনেকেরই। তাদের ভাষ্য, একটি ঘর তাদের জীবন বদলে দিবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা পরিষদ চত্তরে তৃতীয় পর্যায় নির্মিত মুজিববর্ষের ঘরের চাবি ও জমির দলিলপত্র হস্তান্তর করা হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের এমপি এবং সভাপতিত্ব করবেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক স্যার।

উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারের জন্য এ উপজেলায় মোট এক হাজার ৮৮৫টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে প্রথম পর্যায় ৪৯১, দ্বিতীয় পর্যায় ৭৭৬ ও তৃতীয় পর্যায় ৬১৮টি ঘর বরাদ্দ হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর