রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রেমতলী বাজার। এ বাজারের মাঝ খানে সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শত বছরেরও অধিক পুরনো ঐতিহ্যবাহি শোভা বর্ধনকারী নিম ও কড়াই গাছ দুটি রক্ষার দাবি এলাকা বাসীর। এলজিইডির রাস্তা সংস্কারের অজুহাতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল গাছ দুটি কাটার প্ররিকল্পনা করছে। এমনি স্কেভেটর দিয়ে গাছের গোড়ার মাটি কাটা হয়েছে। আর এই সুয়োগকে কাজে লাগাচ্ছে প্রভাবশালী মহলটি। এলাকার সাধারন জনগন শোভা বর্ধনকারী গাছ দুটি না কাটার দাবি জানিয়েছে। এলজিইডি প্রেমতলী বাজার থেকে শিয়ালা পর্যন্ত রাস্তার প্রস্থ বৃদ্ধিসহ সংস্কারের কাজ করলেও গাছ দুটি কাটার বিষয়ে তাদের কোন সিদ্ধান্ত নাই বলে জানিয়েছে গোদাগাড়ী এলজিইডি অফিস। অফিস সুত্র আরো জানায় গাছ কাটার বিষয়টি একটি গুজোব।
প্রেমতলী বাজারে গাছ দুটি শুধু শোভা বর্ধন করছে না। গাছ দুটির নিচে রয়েছে হিন্দু ধর্মাবলাম্বীদের শীতলা দেবীর মন্দির। শীতলা দেবীর প্রতিমা রয়েছে নিম গাছের গোড়াই। প্রতি বছর মাঘ মাসে মহা উৎসবের মধ্যে দিয়ে হিন্দু ধর্মের অনুসারিরা এই গাছ দুটির নিচে শীতলা দেবীর পুজা করে। শুধু মাঘ মাস নয় বছরের প্রতিটি সময় শীতলা দেবীর প্রতিমা নিম গাছের গোড়াই থাকে। গাছ দুটি কাটা পড়লে শীতলা দেবীর মন্দিরের ঐতিহ্য হারাবে।
গাছ দুটি শুধু প্রেমতলী বাজার ও শীতলা দেবির মন্দিরের শোভা বর্ধন করছেনা, ডালপালা বিস্তার করে বাজারের অনেক খানি জায়গা জুড়ে ছায়া দিচ্ছে। প্রেমতলী বাজারে আসা পথচারিসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ এই দুটি গাছের ছায়ায় আশ্রায় নেই।
রাস্তার প্রস্থ বৃদ্ধিসহ সংস্কারের কাজের অজুহাতে প্রভাবশালী মহলটি কড়াই গাছটি কাটার জন্য গত সোমবার স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এই আবেদনের প্রধান উদ্যোক্তা মাইনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি) রুহুল আমিন নয়নও তাঁর পক্ষে আবেদনে সই করেছেন।
খবরটি জানাজানি হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। এলাকার অসংখ্য প্রতিবাদী তরুণ ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে পরিবেশ রক্ষায় গাছ দুটির প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছেন। সওজ গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিবাদী কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
প্রেমতলী গ্রামের গোতম (৪৭) বলেন, জন্মের পর থেকে গাছ দুটির নিচে শীতলা দেবীর মন্দির দেখে আসছি। এমনকি এখনো নিম গাছের গোড়াই শীতলা দেবীর প্রতিমা রয়েছে। গাছ দুটির বয়স কত জানতে চাইলে তিনি বলেন শুনেছি ২ শ” বছরের কাছাকাছি।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় একটি মহল খুব সু²ভাবেই গাছ কাটার পরিকল্পনা করেছেন। স¤প্রতি প্রেমতলী থেকে খেতুর হয়ে শিয়ালা পর্যন্ত রাস্তাটি ১০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৬ ফুট করার কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের অযুহাতে প্রভাবশালী মহল দুই গাছের গোড়ায় দীর্ঘদিন ব্যবসা করা সবজি ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করেছেন। এখন প্রভাবশালী মহলটি বলছে, কড়াই গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কেটে ফেলতে হবে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। শুধু কয়েকটা ডালপালা চলে যাওয়ায় মাইনুল ইসলাম তার মার্কেটের ঊর্দ্ধমুখী স¤প্রসারণ করতে পারছেন না। তাই তিনি গাছটি কাটার চেষ্টা করছেন।
যোগাযোগ করা হলে মাইনুল ইসলাম বলেন, রাস্তার স¤প্রসারণের কাজ চলছে। এতে গাছের কিছু শেকড় কেটে গেছে। গাছটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই সেটি কেটে ফেলার জন্য তাঁরা সড়ক বিভাগে আবেদন করেছেন।
তবে রাস্তার কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোকেয়া কনস্ট্রাকশনের স্বত্তধিকারী মো. মুকুল বলেন, প্রেমতলী বাজারের ওই দুই গাছের স্থানে তাদের কোন কাজ নেই। তারা শুধু রাস্তার দুই পাশে তিন ফুট করে ছয়ফুট স¤প্রসারণ করছেন। তারা গাছের শেকড় কাটেননি। গাছের গোড়ার গোলচত্বর থেকে ব্যবসায়ীদের কারা উচ্ছেদ করেছে সেটি জানেন না বলেও জানান এই ঠিকাদার।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন নয়ন বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে যখন সবার স্বাক্ষর নেওয়া হয় তখন তাঁরও সই নেওয়া হয়। তবে এই গাছ কেউ কাটতে পারবে না।
গোদাগাড়ী উপজেলা এলজিইডি অফিসের সহকারী প্রকৌশলী রিপন বলেন, রাস্তার প্রস্থ বৃদ্ধি সংস্কারের সাথে গাছ দুটি কোন সর্ম্পক নাই। গাছ দুটি থাকবে। গাছ কাটার ক্ষমতা এ অফিসের নাই। গাছ কাটতে পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ, ডিসির অনুমতি লাগবে। গাছের গোড়ার মাটি খোড়া কেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাছের গোড়াই কিছু দোকান ছিল রাস্তার জন্য সমস্যা হচ্ছিল তাই দোকাল গুলো তুলতে গাছের গোড়ার মাটি কাটা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাস্তার কাজ শেষ হলে গাছ দুটির গোড়া গোল সুন্দর করে বাধিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। যাতে করে সাধারন মানুষ গাছের গোড়াই বিশ্রাম নিতে পারে।
সড়ক উপ-বিভাগ-১, রাজশাহীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ নাহিনুর রহমান বলেন, গাছ কাটার আবেদনের বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বলেন, এলজিইডি গাছ কাটতে পারবেনা। তবে কেউ যদি গাছ কাটার বিষয়ে আবেদন করে থাকে তাহলে এলাকাবাসীকে বলেন, গাছ না কাটার বিষয়ে আবেদন করতে। এখন পর্যন্ত প্রেমতলীর গাছ কাটার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তও হয়নি।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















