০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

হলুদ-সবুজ তরমুজে সাফল্য এনে দিলো গৌরীপুরের ৩৭ কৃষককে

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে হলুদ আর সবুজ রঙের তরমুজ! ক্ষেতের আইলে (দুটি ক্ষেতের মাঝের সরুপথ) তরমুজ চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন ১৪জন কৃষক। আর ২৩জন করেছেন পরিত্যক্ত জমিনে। ভিন্নরঙের এ তরমুজ দেখতে ক্ষেতে উৎসুক জনতার ভিড়ও বাড়ছে। বাড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার-প্রচারণা।

অচিন্তপুর ইউনিয়নের খালিজুড়ি গ্রামের কৃষক চান মিয়া জানান, পুকুরের পাড়ে কয়েকটা বীজ পুঁতে রেখেছিলাম। সেখানে হলুদ রঙের তরমুজ হয়েছে। এ্যাডরা বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কর্মী শিখা দেবনাথ জানান, আমরা কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তি, তথ্য ও পণ্য তুলে দিচ্ছি। আমার অধিনে ১১জন এ তরমুজ চাষ করেছে। বাজারে চাহিদাও ব্যাপক, দামও ভালো পাচ্ছেন।

এদিকে রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, সাধারণ তরমুজের সঙ্গে এ্যাডরা বাংলাদেশের কর্মীরা হলুদ রঙের তরমুজের বীজ দিয়েছিলো। সবুজ আর হলুদ এখন একসঙ্গে ঝুলছে, দেখতে খুব ভালো লাগছে। কৃষাণী কুলসুম আক্তার বলেন, সব সবুজের মাঝে যখন হলুদ রঙের তরমুজ তখন আমাদের ভুল ধারণা হয়েছিলো। যে সবুজ তরমুজে পোকার আক্রমণে হলুদ হয়ে গেছে। এখত তো দেখি, হলুদ আর হলুদ। ইয়ারপুর গ্রামের কৃষাণী সায়েদা আক্তার জানান, আমাকে বীজ দিয়েছিলো। ফলন ভালো হয়েছে। এখন হলুদ তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করে ক্ষেতে। এ্যাডরার সমাজ উন্নয়নকর্মী সুমাইয়া আক্তার সুমি জানান, সাধারণ তরমুজের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি মিষ্টি হলুদ বর্ণের তরমুজে। ফলে ক্রেতাদের কাছেও বেশ সমাদৃত। প্রথমবারের মতো চাষ হওয়ায় কৃষাণ-কৃষাণীদের মাঝেও ব্যাপক উৎফুল্ল দেখা গেছে।

কমিউনিটি এম্পাওয়ারমেন্ট প্রজেক্ট (সিইপি) ফেইস-২ এর কৃষি সুপারভাইজার মো. এনামুল হক বলেন, বিদেশি জাতের হলুদ তরমুজটি বারোমাসই চাষ করা যায়। রং বদলালেও এই তরমুজের স্বাদ কিন্তু বদলায়নি বরং এ তরমুজ আরো মিষ্টি ও সুস্বাদু। তিনি আরো বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে এ উপজেলার ৩৭জন চাষী এবছর চাষ করেছিলো। ফলন ভালো হওয়ায় পরবর্তীতে এর চাষাবাদ আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার বাবুল সি গমেজ বলেন, আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রত্যেকটি অকৃষি ও কৃষি ভূমি সুষম ব্যবহার ও উন্নত ফসল উৎপাদনে কারিগরীসহ সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি। হলুদ তরমুজও এ প্রকল্পের একটি অংশ। প্রত্যেকটি মানুষকে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য তাদেরকে উদ্ধুদ্ধকরণ করা হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ২০ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান

হলুদ-সবুজ তরমুজে সাফল্য এনে দিলো গৌরীপুরের ৩৭ কৃষককে

প্রকাশিত : ০৬:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে হলুদ আর সবুজ রঙের তরমুজ! ক্ষেতের আইলে (দুটি ক্ষেতের মাঝের সরুপথ) তরমুজ চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন ১৪জন কৃষক। আর ২৩জন করেছেন পরিত্যক্ত জমিনে। ভিন্নরঙের এ তরমুজ দেখতে ক্ষেতে উৎসুক জনতার ভিড়ও বাড়ছে। বাড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার-প্রচারণা।

অচিন্তপুর ইউনিয়নের খালিজুড়ি গ্রামের কৃষক চান মিয়া জানান, পুকুরের পাড়ে কয়েকটা বীজ পুঁতে রেখেছিলাম। সেখানে হলুদ রঙের তরমুজ হয়েছে। এ্যাডরা বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কর্মী শিখা দেবনাথ জানান, আমরা কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তি, তথ্য ও পণ্য তুলে দিচ্ছি। আমার অধিনে ১১জন এ তরমুজ চাষ করেছে। বাজারে চাহিদাও ব্যাপক, দামও ভালো পাচ্ছেন।

এদিকে রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, সাধারণ তরমুজের সঙ্গে এ্যাডরা বাংলাদেশের কর্মীরা হলুদ রঙের তরমুজের বীজ দিয়েছিলো। সবুজ আর হলুদ এখন একসঙ্গে ঝুলছে, দেখতে খুব ভালো লাগছে। কৃষাণী কুলসুম আক্তার বলেন, সব সবুজের মাঝে যখন হলুদ রঙের তরমুজ তখন আমাদের ভুল ধারণা হয়েছিলো। যে সবুজ তরমুজে পোকার আক্রমণে হলুদ হয়ে গেছে। এখত তো দেখি, হলুদ আর হলুদ। ইয়ারপুর গ্রামের কৃষাণী সায়েদা আক্তার জানান, আমাকে বীজ দিয়েছিলো। ফলন ভালো হয়েছে। এখন হলুদ তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করে ক্ষেতে। এ্যাডরার সমাজ উন্নয়নকর্মী সুমাইয়া আক্তার সুমি জানান, সাধারণ তরমুজের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি মিষ্টি হলুদ বর্ণের তরমুজে। ফলে ক্রেতাদের কাছেও বেশ সমাদৃত। প্রথমবারের মতো চাষ হওয়ায় কৃষাণ-কৃষাণীদের মাঝেও ব্যাপক উৎফুল্ল দেখা গেছে।

কমিউনিটি এম্পাওয়ারমেন্ট প্রজেক্ট (সিইপি) ফেইস-২ এর কৃষি সুপারভাইজার মো. এনামুল হক বলেন, বিদেশি জাতের হলুদ তরমুজটি বারোমাসই চাষ করা যায়। রং বদলালেও এই তরমুজের স্বাদ কিন্তু বদলায়নি বরং এ তরমুজ আরো মিষ্টি ও সুস্বাদু। তিনি আরো বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে এ উপজেলার ৩৭জন চাষী এবছর চাষ করেছিলো। ফলন ভালো হওয়ায় পরবর্তীতে এর চাষাবাদ আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার বাবুল সি গমেজ বলেন, আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রত্যেকটি অকৃষি ও কৃষি ভূমি সুষম ব্যবহার ও উন্নত ফসল উৎপাদনে কারিগরীসহ সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি। হলুদ তরমুজও এ প্রকল্পের একটি অংশ। প্রত্যেকটি মানুষকে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য তাদেরকে উদ্ধুদ্ধকরণ করা হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর