বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে জুড়ে পাকা ধান। পাকা ধান নিয়ে কৃষকের মনে প্রশান্তি নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর শ্রমিক সংকটের মুখে অশান্তিতে রয়েছেন রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষক। মাঠের পর মাঠ জুড়ে পাঁকা ধান ঝড় হাওয়ায় ও বৃষ্টির পানিতে ক্ষেতে পড়ে গেছে। কোন কোন ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পনিতে ডুবে আছে পাকা ধান। ডুবে থাকা পাকা ধানের চারাতে পচন ধরেছে এমনকি পাকা ধানে গাছ বের হতে শুরু করেছে। এ ধান কাটা নিয়ে কৃষকরা ছুটাছুটি কররেও শ্রমিক সংকটে হতাশায় ভুগছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। ঈদ শেষ হলেও কাটছেনা শ্রমিক সংকট। ফলে জমিতে পাকা ধান থাকলেও ঘরে তুলতে পারছেন না শ্রমিক সংকটে।
বাজারে ধান ১১শ’ থেকে ১১শ” ৫০ টাকা মন প্রতি দরে বিক্রি হলেও ধান কাটা শ্রমীকরা ধান কাটতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় বোরো ধানের চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ১১১ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে উপজেলার কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জিরাসাইল, ব্রি-২৮, ২৯, ৫০, ৫৮,৮১,৮৫,৮৭,৮৯,৯২ জাতের ধান বেশী চাষ করেছে। বিঘা প্রতি ২১-২২ মণ ফলন হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে পাকা ধান ঘরে তুলতে কৃষকরা কাটামাড়াই পুরোদাম শুরু করলেও শ্রমিক সঙ্কটে বোরো ধান কাটামাড়াই ব্যহত হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, প্রতিবছর এই সময়ে বোরো ধান কাটতে পাশ্ববর্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা দলবেধে আসতেন। তবে এবার শ্রমিকরা ধান কাটতে না এসে অন্য কাজ করছেন। শ্রমিকরা বলছেন, ধান কাটা কাজের চেয়ে অন্য কাজে লাভ বেশী হওয়ায় তারা ধান কাটার কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক তেনু মন্ডল বলেন, জমিতে ধান পেকে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারনে ধান কাটতে পারিনি। পাকা ধান ঝড় হাওয়ায় ও বৃষ্টির পানিতে পড়ে গেছে। ২ /১ দিনের মধ্যে ধান কাটতে না পারলে ধানের ক্ষতি হয়ে যাবে। ঈদের আগে ধান পড়ে গেছে।
গোপালপুর গ্রামের কৃষক নয়ন বলেন, জমিতে পাকাধান, শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শলি প্রতি ৬ থেকে ৭ হ্যাটা ধান দিতে চাইলেও শ্রমিকরা ধান কাটতে চাচ্ছে না। বেশীর ভাগ জমির ধান ঈদের সময় ঝড় হাওয়া ও বৃষ্টিতে পড়ে গেছে। ধান কাটতে না পারলে চরম ক্ষতি হয়ে যাবে।
গোদাগাড়ী উপজেলার মাধবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় জমিতে পড়ে থাকা ধান শ্রমিকদের কাটতে দেখা যায়। তবে ধান কাটার পর বোঝা করে নিচ্ছে । ধানের চারা (আউর) তৈরী হচ্ছে না।
জমিতে পাকা ধান কাটার সময় কথা হয় মাধবপুর গ্রামের শ্রমিক সেতাফুরের সাথে, তিনি বলেন আমরা জমি থেকে ধান কাটার পর মাড়াই করে ২৪ মন ধানে মালিককে দিচ্ছি ২০ মন করে আর আমরা নিচ্ছি ৪ মন করে।
এদিকে বেশ কিছু কৃষক ও শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানাযায়, ধান কাটা শ্রমিকেরাও ধানের আবাদ করেছে। যার ফলে নিজের জমির ধান কাটা বাদ দিয়ে কৃষকের জমির ধান কাটতে চাচ্ছে না শ্রমিকরা। এখন ধান কাটার ভরা মৌসুম। সব এলাকায় এক সাথে ধান কাটা শুরু হওয়ায় এবং বাইরে থেকে শ্রমিক না আসায় এ শ্রমিক সংকট।
কৃষকরা বলছে, ধান পেকে মাঠে পড়ে রয়েছে। দ্রæত ঘরে তোলা দরকার। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে পাঁকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। দ্রত পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষতি হয়ে যাবে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আবুল হসেন বলেন, ধানের এখনো ক্ষতি হয়নি। ঝড় বৃষ্টিতে যে ধান পড়ে গেছে সময় মত কাটতে না পারলে সামান্য ক্ষতি হতে পারে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে ১ সপ্তাহের মধ্যে প্রায় পকা ধান কটা শেষ হয়ে যাবে। তবে শ্রমীক সংকট দুর করতে এলাকার কৃষকদের যৌথ উদ্দ্যোগে ধান কাটা মাড়াই মেশিনের ব্যাবস্থা করতে হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















