ব্যস্ততম পাকা সড়কের জরাজীর্ণ সেতু ভেঙে করা হবে নতুন পিএসসি গার্ডার সেতু। তাইতো সড়ক ভেঙে বড় পুকুর কাটা হয়েছে। সেই পুকুরের মাটি দিয়ে জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক নির্মাণ করে লাপাত্তা ঠিকাদার। সেখানে নেই কোন সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড। নেই দুর্ঘটনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা।
তারপর আবার বৃষ্টিতে ধ্বসে গেছে সড়কটি। তবুও প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে লম্বা যানযট। যানববাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে চরম বিপাকে পড়েছে জনগণ। এক কথায় সেতু ও সড়কটি এখন জনগণের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন সেতুটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাধীন লালন বাজার-পান্টি বাজার সড়কের ঐতিহ্যবাহী পান্টি বাজারের ডাকুয়া নদীর উপর অবস্থিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের খোঁজ নেই। অথচ সেতু থেকে সড়ক বিচ্ছিন্ন করে পুকুর কেটেছে। পুকুরের মাটি দিয়ে কোনমতে বিকল্প কাঁচা সড়ক নির্মাণ করে পালিয়েছে ঠিকাদার। হঠাৎ বৃষ্টিতে সড়কের কয়েকটি স্থান ধ্বসে গেছে। এতে জরাজীর্ণ সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে যানযট সুষ্টি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পারাপার হচ্ছে জনগণ। ঘটছে দুর্ঘটনা।
শনিবার দুপুরে নির্মাণাধীন সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুইপারে প্রায় কয়েক কিলোমিটার যানযট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে মানুষ। বিকল্প সড়কের কয়েকটা স্থান ধ্বসে গেছে। সেতুর দুইপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে রড, পাথর ও যন্ত্রপাতি রেখেছে। চরম ভোগান্তিতে চলাচল করছে মানুষ।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ডাকুয়া নদীর দুইপার ঘেষে ঐতিহ্যবাহী পান্টি বাজার। উপজেলার দ্বিতীয় শহর বলা হয় পান্টিকে। উপজেলার চাদপুর, বাগুলাট, পান্টি ও যদুবয়রা ইউনিয়নের প্রায় লাখো মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার একাংশ কুষ্টিয়া শহরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এই সড়ক।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য সড়ক কেটে ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার। যোগাযোগ রক্ষার জন্য কাটা সড়কের মাটি দিয়ে জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টিতে সড়ক ধ্বসে গেছে। সৃষ্টি হচ্ছে যানযট। যানবহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চলাচলকারীরা।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, পান্টি বাজার এলাকায় ডাকুয়া নদীর ওপর প্রায় ৮১ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজের অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর। যার চুক্তিমূল্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৭২ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা। ই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি করার অনুমোদন পাই কুষ্টিয়ার ত্রিমোহনীর ডন – রুমানা – জেভি। চুক্তি অনুয়ায়ী ২০২১ সালের ১৭ আগষ্ট কাজ শুরু হয়ে শেষ করা কথা রয়েছে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর।
স্থানীয় ভ্যান চালক সিরাজ হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে রাম ভেঙে গেছে। গাড়িঘোড়া চলতে পারছেনা। তাই জ্যাম বাঁধে গেছে। মানুষের খুব ভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিৎ।
সেতুর সাথেই চা বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম তিনি বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে এই পথ দিয়ে। আর ঈদের জন্য আরো বেশি মানুষ চলছে। কিন্তু ঈদের দিনের বৃষ্টিতে সড়ক ভেঙে গেছে। এছাড়াও সড়কে সৃষ্টি হয়েছে কাঁদা। এখন আর চলা যাচ্ছেনা সড়ক দিয়ে। জনগণের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ দেখার লোক নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলেন, ‘ কয়েকমাস হলো এখানে দুর্ভোগ। কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। ঈদের সময় ভিড় বেশি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানযট হচ্ছে। কিন্তু জনগণের ভোগান্তি দেখার লোক নেই।
পান্টি গোলাবাড়ি বাজারের সভাপতি মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, ৩/৪ মাস পার হলো সড়ক কাঁটা হয়েছে। কিন্তু কাজের কোনো খোঁজ নেই। কিছু মালামাল ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার। ড্রাইভেশন রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। চলাচলের অযোগ্য। দ্রত এ সমস্যার সমাধান না হলে ঐতিহ্য হারাবে পান্টি বাজার। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন বলেন, ঈদের দিন থেকে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদারের অবহেলায় সরকারের উন্নয়ন অ¤øান হচ্ছে। জনগণের কাছে বদনামী হচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের কাছে বিনীত অনুরোধ দ্রæত দূর্ভোগ নিরসন করা হোক।
সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ফারুক আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, বৃষ্টিতে বিকল্প সড়ক ধ্বসে গেছে। জনবল সংকটে মেরামতে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রæতই মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। ‘ তিনি আরো বলেন, ‘নির্মাণ এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। যার কারণে সেতু নির্মাণে দেরি হচ্ছে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা হবে। ‘
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, বিকল্প সড়ক মেরামতের জন্য ঠিকাদারকে বলা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, দুর্ভোগ নিরোসনের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হচ্ছে।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















