০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতে ৬ ঘণ্টায় নেমেছেন দেড় লাখ পর্যটক

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে এমনিতে স্থানীয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের সমাগম লেগে থাকে। তার ওপর পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। সব মিলিয়ে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা সময়ে সৈকতে নেমেছেন অন্তত দেড় লাখ পর্যটক। দিনের ১২-১৩ ঘণ্টায় একসঙ্গে তিন লাখ মানুষের এমন সমাগম অতীতে ঘটেনি। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৬ জন লাইফগার্ড কর্মীর হিমশিম খেতে হচ্ছে। সৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকেরা ছুটছেন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, টেকনাফ সমুদ্রসৈকত, নাফ নদীর মিয়ানমার সীমান্ত, ঐতিহাসিক প্রেমকাহিনির মাথিন কূপ, উখিয়ার পাথুরে সৈকত, রামুর বৌদ্ধপল্লি, চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট। শুক্রবার বেলা ১১টা। সৈকতের এক কিলোমিটারে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ, পা রাখার জায়গা নেই। পর্যটকেরা উত্তাল সমুদ্রে নেমে গোসলে ব্যস্ত, কেউ কেউ পানিতে হাতে খেলছেন ফুটবল, দ্রুতগতির নৌযানে ছুটছেন গভীর জলরাশিতে। প্রচণ্ড গরমে বঙ্গোপসাগরের শীতল লোনাজল যেন পর্যটকদের মনে শান্তির পরশ এনে দিচ্ছে। সুগন্ধা পয়েন্টে উত্তর ও দক্ষিণ দিকের কলাতলী, সিগাল, লাবনী পয়েন্টেও ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের সমাগম। সাগরে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত সি সেফ নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার এমনিতে স্থানীয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের সমাগম লেগে থাকে। তার ওপর পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। সব মিলিয়ে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা সময়ে সৈকতে নেমেছেন অন্তত দেড় লাখ পর্যটক। আজ দিনের ১২-১৩ ঘণ্টায় একসঙ্গে তিন লাখ মানুষের এমন সমাগম অতীতে ঘটেনি। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৬ জন লাইফগার্ড কর্মীর হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেলা ১১টার দিকে কলাতলী সৈকতে গোসলে নামে ঢাকার বেইলি রোডের বাসিন্দা সাজ্জাদুল হক। সঙ্গে স্ত্রী ও দুই কিশোরী মেয়ে। কারও গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল না। সাগরের বড় বড় ঢেউ তাঁদের ওপর আছড়ে পড়ছিল। লাইফগার্ড কর্মীরা তাঁদের গভীরে না যেতে অনুরোধ জানাচ্ছিলেন, বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করছিলেন। সাজ্জাদুল হক (৪৫) বলেন, করোনার দুই বছর পরিবার নিয়ে কোথাও যাওয়া হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এখন বন্ধ। তাই লোনা জলে শরীর ভেজাতে কক্সবাজার ছুটে আসা। কিন্তু এখানে যে মানুষের ঢল, পা রাখার জায়গা নেই। পর্যটকের গিজগিজ অবস্থা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, সৈকতে এখন পা রাখার জায়গা নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই শতাধিক ট্যুরিস্ট পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ পর্যটকদের পানির পিপাসা মেটাতে খাওয়া পানি সরবরাহ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ২০ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান

কক্সবাজার সৈকতে ৬ ঘণ্টায় নেমেছেন দেড় লাখ পর্যটক

প্রকাশিত : ০৮:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে এমনিতে স্থানীয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের সমাগম লেগে থাকে। তার ওপর পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। সব মিলিয়ে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা সময়ে সৈকতে নেমেছেন অন্তত দেড় লাখ পর্যটক। দিনের ১২-১৩ ঘণ্টায় একসঙ্গে তিন লাখ মানুষের এমন সমাগম অতীতে ঘটেনি। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৬ জন লাইফগার্ড কর্মীর হিমশিম খেতে হচ্ছে। সৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকেরা ছুটছেন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, টেকনাফ সমুদ্রসৈকত, নাফ নদীর মিয়ানমার সীমান্ত, ঐতিহাসিক প্রেমকাহিনির মাথিন কূপ, উখিয়ার পাথুরে সৈকত, রামুর বৌদ্ধপল্লি, চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট। শুক্রবার বেলা ১১টা। সৈকতের এক কিলোমিটারে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ, পা রাখার জায়গা নেই। পর্যটকেরা উত্তাল সমুদ্রে নেমে গোসলে ব্যস্ত, কেউ কেউ পানিতে হাতে খেলছেন ফুটবল, দ্রুতগতির নৌযানে ছুটছেন গভীর জলরাশিতে। প্রচণ্ড গরমে বঙ্গোপসাগরের শীতল লোনাজল যেন পর্যটকদের মনে শান্তির পরশ এনে দিচ্ছে। সুগন্ধা পয়েন্টে উত্তর ও দক্ষিণ দিকের কলাতলী, সিগাল, লাবনী পয়েন্টেও ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের সমাগম। সাগরে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত সি সেফ নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার এমনিতে স্থানীয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের সমাগম লেগে থাকে। তার ওপর পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। সব মিলিয়ে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা সময়ে সৈকতে নেমেছেন অন্তত দেড় লাখ পর্যটক। আজ দিনের ১২-১৩ ঘণ্টায় একসঙ্গে তিন লাখ মানুষের এমন সমাগম অতীতে ঘটেনি। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৬ জন লাইফগার্ড কর্মীর হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেলা ১১টার দিকে কলাতলী সৈকতে গোসলে নামে ঢাকার বেইলি রোডের বাসিন্দা সাজ্জাদুল হক। সঙ্গে স্ত্রী ও দুই কিশোরী মেয়ে। কারও গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল না। সাগরের বড় বড় ঢেউ তাঁদের ওপর আছড়ে পড়ছিল। লাইফগার্ড কর্মীরা তাঁদের গভীরে না যেতে অনুরোধ জানাচ্ছিলেন, বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করছিলেন। সাজ্জাদুল হক (৪৫) বলেন, করোনার দুই বছর পরিবার নিয়ে কোথাও যাওয়া হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এখন বন্ধ। তাই লোনা জলে শরীর ভেজাতে কক্সবাজার ছুটে আসা। কিন্তু এখানে যে মানুষের ঢল, পা রাখার জায়গা নেই। পর্যটকের গিজগিজ অবস্থা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, সৈকতে এখন পা রাখার জায়গা নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই শতাধিক ট্যুরিস্ট পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ পর্যটকদের পানির পিপাসা মেটাতে খাওয়া পানি সরবরাহ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর