ঢাকা সকাল ৮:৫৪, বৃহস্পতিবার, ১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফকিরহাটে তেলের পর পেঁয়াজের বাজার অস্থির

ভোজ্যতেল সয়াবিনের দাম নিয়ে ক্রেতা-ভোগান্তির মধ্যেই হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে অস্থির হয়ে পড়েছে ফকিরহাটের পেঁয়াজের বাজার। দুই দিনের ব্যবধানে ৭৫ কেজির প্রতি বস্তা পেঁয়াজ ৭৫০ টাকা, ৬০ কেজি রোশনের বস্তা ১২০০ টাকা এবং কেজি প্রতি কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে হঠাৎ পেঁয়াজ রোশনের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ক্রেতার পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। এসময়ে ভবিষ্যতে দাম আরও বৃদ্ধির ভয়ে উদ্বিগ্ন ক্রেতাদের পেঁয়াজ কিনতে দোকানে ভিড় করতে দেখা গেছে। শুক্রবার সকালে ফকিরহাট বাজারের বিভিন্ন খুচরা পর্যায়ের কাঁচা বাজারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ (ছোট-বড় এক সাথে) ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে যা একদিন আগে ২৮ থেকে ৩০ টাকা ছিল। রোশন ২ দিনের ব্যবধানে ৫৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এছাড়া ৬০ টাকার কাচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে আলু, আদাসহ বিভিন্ন পণ্যের। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এভাবে হুটহাট দাম বাড়িয়ে অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের জিম্মি করছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন পিঁয়াজ কিনতে আসা একাধিক ক্রেতা। একই চিত্র উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলোতেও। বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসময় বেশিরভাগ দোকানে দ্রব্যের দৈনিক মূল্য তালিকা দেখা যায় নি। ফকিরহাট বাজারের পূর্ব মাথার খুচরা পর্যায়ের পেঁয়াজ বিক্রেতা ফেরদৌস শেখ, জামাল হোসেনসহ কয়েকজন দোকানদার জানান, কোন কারণ ছাড়াই প্রতি কেজি পেঁয়াজে ১২ থেকে ১৭ টাকা, রোশনে ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, আলুতে ৫ থেকে ৭ টাকা এবং মরিচে ৬০ টাকার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার করতে আসা বেসরকারি কলেজের শিক্ষক শেখ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সয়াবিনে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তার মধ্যে পেঁয়াজ রোশনের বাজার চড়া হতে শুরু করেছে। সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছি। দিন দিন প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে; হতাশায় পড়ে গেছি।’ পেশায় ভ্যান চালক মো. জুলু শেখ বলেন, ‘যা আয় করি তা যদি তেল-পেঁয়াজ কিনতেই চলে যায়, তাহলে ভাত খাবো কি করে? উচ্চমূল্যের কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি।’ দাম নিয়ন্ত্রণে তিনি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বাগেরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান বলেন, ‘নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। আমাদের আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবে দামের তালিকা দোকানে টানিয়ে না রাখলে জরিমানা করা হয়ে থাকে।’ ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ