০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বিলুপ্তির পথে টুল-পিঁড়িতে বসে চুল দাড়ি কাটা

হারিয়ে যেতে বসেছে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের (নাপিত) চুল / দাড়ি কাটার এ দৃশ্য। বর্তমানে শহর ও গ্রামের হাটবাজার গুলোতে রয়েছে এসি ও নন-এসি সেলুন, আছে পার্লার। সে সব সেলুন ও পার্লারে চুল / দাড়ি কাটার জন্য রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। তবে কালক্রমে হারিয়ে যেতে বসেছে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের চুল / দাড়ি কাটার দৃশ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য অনেক পেশার মতোই নরসুন্দরের এই পেশা ও প্রায় বিলুপ্তির পথে। তারপরও হঠাৎ হঠাৎ গ্রামাঞ্চল / চরাঞ্চলের হাটবাজারে চোখে পড়ে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরের কর্মযজ্ঞ। ভ্রাম্যমাণ এ সব নরসুন্দররা চুল / দাড়ি ছাঁটার যন্ত্রপাতি নিয়ে বসেন ্ঐ সকল হাটবাজার গুলোতে। হাটবাজারে আসা ক্রেতারাই নরসুন্দরদেও (নাপিত) ‘কাস্টমার’। স¤প্রতি সরজমিনে নবীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীঘড় হাটে ঘুরে দেখা যায়, চুল ও দাড়ি কাটার কাজ করছে নরসুন্দররা, তাদের সংখ্যা ৫-৭ জন। নাপিতরা কাস্টমারদের পিঁড়ি বা টুলে বসিয়ে চুল / দাড়ি কাটছেন। খরচ কম হওয়ায় কাস্টমারদের সমাগম ছিল ভাল। নরসুন্দরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন হাটবাজারে খোলা আকাশের নিচে বসে চুল / দাড়ি কেটে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তারা চুল কাটতে ২০-২৫ টাকা এবং শেভ বা দাড়ি ঠিক করতে ১০-১৫ টাকা নেন। উপজেলার শাহবাজপুর গ্রাম থেকে হাটে আসা রমজান বলেন, “ছোট বেলায় বাবার সঙ্গে হাটে এসে এই ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের কাছে চুল কাটাতাম। এখন আমি সন্তানদের এনে চুল কাটাচ্ছি”। তিনি বলেন, ‘আমি দিনমজুর সেলুনে চুল ও দাড়ি কাটাতে গেলে ৫০ থেকে ৮০ টাকা লাগে। আর এখানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকায় কাটানো যায়। বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক বলেন, এলাকার অনেক মানুষই ভ্রাম্যমাণ এই নরসুন্দরদের দিয়ে চুল/দাড়ি কাটান। তাদের কাছে অনেক কম টাকায় চুল/দাড়ি কাটানো যায়। নরসুন্দর উত্তম বলেন, ‘এ পেশায় আমার দাদা ছিলেন, দাদার মৃত্যুর পরে বাবাও ছিলেন এ পেশায়। বাবার কাছ থেকেই আমার এ পেশায় হাতেখড়ি। বাবার মৃত্যুর পরে আমি হাল ধরেছি। তিনি বলেন, শ্রীঘড় হাট সপ্তাহে শনিবার দিন বসে, হাটে অনেক মানুষের সমাগম হয়। প্রতিটি হাটে চুল ও দাড়ি কেটে ৬০০-৮০০ টাকা আয় হয়, এ আয় দিয়েই আমার সংসার চলে। তবে নরসুন্দর শ্রীনাথ বললেন ভিন্ন কথা, তিনি বলেন- যারা এক সময় আমার বাপ-দাদার নিকট চুল ও দাড়ি কেটেছেন তাদের সন্তানরা এখন বেশির ভাগই শহরমুখী। কেউ জীবিকার সন্ধানে আবার কেউ কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। সুবীর চন্দ্র শীল বলেন, ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের সেলুন নেই, তারা হাটবাজারে কাস্টমারদের চুল ও দাড়ি কাটেন। তারা সামান্য পুঁজি খাটান বলে ২০-২৫ টাকার মধ্যে চুল ও দাড়ি কেটে দেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ২০ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান

বিলুপ্তির পথে টুল-পিঁড়িতে বসে চুল দাড়ি কাটা

প্রকাশিত : ০৫:১১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মে ২০২২

হারিয়ে যেতে বসেছে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের (নাপিত) চুল / দাড়ি কাটার এ দৃশ্য। বর্তমানে শহর ও গ্রামের হাটবাজার গুলোতে রয়েছে এসি ও নন-এসি সেলুন, আছে পার্লার। সে সব সেলুন ও পার্লারে চুল / দাড়ি কাটার জন্য রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। তবে কালক্রমে হারিয়ে যেতে বসেছে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের চুল / দাড়ি কাটার দৃশ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য অনেক পেশার মতোই নরসুন্দরের এই পেশা ও প্রায় বিলুপ্তির পথে। তারপরও হঠাৎ হঠাৎ গ্রামাঞ্চল / চরাঞ্চলের হাটবাজারে চোখে পড়ে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরের কর্মযজ্ঞ। ভ্রাম্যমাণ এ সব নরসুন্দররা চুল / দাড়ি ছাঁটার যন্ত্রপাতি নিয়ে বসেন ্ঐ সকল হাটবাজার গুলোতে। হাটবাজারে আসা ক্রেতারাই নরসুন্দরদেও (নাপিত) ‘কাস্টমার’। স¤প্রতি সরজমিনে নবীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীঘড় হাটে ঘুরে দেখা যায়, চুল ও দাড়ি কাটার কাজ করছে নরসুন্দররা, তাদের সংখ্যা ৫-৭ জন। নাপিতরা কাস্টমারদের পিঁড়ি বা টুলে বসিয়ে চুল / দাড়ি কাটছেন। খরচ কম হওয়ায় কাস্টমারদের সমাগম ছিল ভাল। নরসুন্দরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন হাটবাজারে খোলা আকাশের নিচে বসে চুল / দাড়ি কেটে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তারা চুল কাটতে ২০-২৫ টাকা এবং শেভ বা দাড়ি ঠিক করতে ১০-১৫ টাকা নেন। উপজেলার শাহবাজপুর গ্রাম থেকে হাটে আসা রমজান বলেন, “ছোট বেলায় বাবার সঙ্গে হাটে এসে এই ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের কাছে চুল কাটাতাম। এখন আমি সন্তানদের এনে চুল কাটাচ্ছি”। তিনি বলেন, ‘আমি দিনমজুর সেলুনে চুল ও দাড়ি কাটাতে গেলে ৫০ থেকে ৮০ টাকা লাগে। আর এখানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকায় কাটানো যায়। বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক বলেন, এলাকার অনেক মানুষই ভ্রাম্যমাণ এই নরসুন্দরদের দিয়ে চুল/দাড়ি কাটান। তাদের কাছে অনেক কম টাকায় চুল/দাড়ি কাটানো যায়। নরসুন্দর উত্তম বলেন, ‘এ পেশায় আমার দাদা ছিলেন, দাদার মৃত্যুর পরে বাবাও ছিলেন এ পেশায়। বাবার কাছ থেকেই আমার এ পেশায় হাতেখড়ি। বাবার মৃত্যুর পরে আমি হাল ধরেছি। তিনি বলেন, শ্রীঘড় হাট সপ্তাহে শনিবার দিন বসে, হাটে অনেক মানুষের সমাগম হয়। প্রতিটি হাটে চুল ও দাড়ি কেটে ৬০০-৮০০ টাকা আয় হয়, এ আয় দিয়েই আমার সংসার চলে। তবে নরসুন্দর শ্রীনাথ বললেন ভিন্ন কথা, তিনি বলেন- যারা এক সময় আমার বাপ-দাদার নিকট চুল ও দাড়ি কেটেছেন তাদের সন্তানরা এখন বেশির ভাগই শহরমুখী। কেউ জীবিকার সন্ধানে আবার কেউ কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। সুবীর চন্দ্র শীল বলেন, ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের সেলুন নেই, তারা হাটবাজারে কাস্টমারদের চুল ও দাড়ি কাটেন। তারা সামান্য পুঁজি খাটান বলে ২০-২৫ টাকার মধ্যে চুল ও দাড়ি কেটে দেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর