১০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার’কে হত্যা করে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার’কে হত্যা করে গাজীপুর তথা বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল বিএনপি-জামাত সরকার।
সারাদেশেই আমাদের জনপ্রিয় নেতাদের হত্যা করা হয়েছিলো। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

শনিবার বিকেলে শহরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আয়োজনে স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, শহীদ আহ্সান উল্ল্যাহ মাস্টার গাজীপুরের জন্য, শ্রমিকদের জন্য অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন তার কাজের জন্য এখনো মানুষ তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ভালোবাসে এবং গাজীপুরেসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। তিনি শুধু গাজীপুরে নয় সারা বাংলাদেশে শ্রমিকদের জন্যও তিনি কাজ করে গেছেন। তার স্মৃতিচিহ্ন গাজীপুরের সব জায়গায় রেখে গেছেন। গাজীপুরে যাতে কোন সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে গাজীপুর রাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেজন্য তিনি কাজ অনেক করেছেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের বড় ছেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহ্সান রাসেল বলেন, আমার বাবা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ক্ষুন্ন হয় বা হবে এমন কোন কাজ আমি এখন পর্যন্ত করিনি। মাত্র পঁচিশ ছাব্বিশ বছর বয়সে আমি সংসদ সদস্য হয়েছি, তখন ইচ্ছা করলেই অনেক অবৈধ সম্পদ করতে পারতাম কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত কোন অবৈধ সম্পদ অর্জন করিনি। মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের সেবা করার জন্য তাই সাধারণ মানুষদের কে কোন কষ্ট দিয়ে আমরা কোন কাজ করবো না নৌকার ভোট নষ্ট করবো না।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, বীর মুক্তিযুদ্ধা শহীদ আহসান উল্লাহ স্যারের ছাত্র ছিলাম। আমি তাই এবছর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই আয়োজন করতে পারে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছি। কারণ স্যার এমন একজন নেতা ছিলেন গাজীপুরের মানুষের এখনও ঠিক একই পরিমাণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে হৃদয়ে আছেন আছেন। পরের বছরও সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হবে। স্যার আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষের সেবা করে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে। সেই শিক্ষা নিয়েই তার সুযোগ্য পুত্র যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষ সংগঠক হিসেবে আন্তর্জাতিক মন্ডলে পরিচিতি লাভ করেছেন খুব অল্প সময়ে। আমরাও এখন স্যারের সেই দেখানো পথ ও শিক্ষা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।

শাহাদাৎ বার্ষিকীতে গাজীপুরের সংরক্ষিত আসনের এমপি শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম সফিউল আজম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার জাকির হাসান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল, সহ-সভাপতি ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, প্যানেল মেয়র আব্দুল আলিম মোল্লা ও এ্যাড. আয়েশা আক্তারসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দোয়া অনুষ্ঠিত ও তবারক বিতরণ করা হয়।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (গাজীপুর- ২ গাজীপুর সদর-টঙ্গী) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দুবার সংসদ সদস্য, ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে দু’দফা পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য। জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আহসান উল্লাহ মাস্টার ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- (বিলস)-এর চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯২ সালে উপজেলা পরিষদ বিলোপের পর চেয়ারম্যান সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে উপজেলা পরিষদের পক্ষে মামলা করেন এবং দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি গ্রেফতার হন ও কারাভোগ করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি জোট সরকারের মদদপুষ্ট একদল সন্ত্রাসী নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার আইনে এ হত্যা মামলার রায় হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার’কে হত্যা করে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৯:০১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মে ২০২২

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার’কে হত্যা করে গাজীপুর তথা বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল বিএনপি-জামাত সরকার।
সারাদেশেই আমাদের জনপ্রিয় নেতাদের হত্যা করা হয়েছিলো। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

শনিবার বিকেলে শহরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আয়োজনে স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, শহীদ আহ্সান উল্ল্যাহ মাস্টার গাজীপুরের জন্য, শ্রমিকদের জন্য অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন তার কাজের জন্য এখনো মানুষ তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ভালোবাসে এবং গাজীপুরেসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। তিনি শুধু গাজীপুরে নয় সারা বাংলাদেশে শ্রমিকদের জন্যও তিনি কাজ করে গেছেন। তার স্মৃতিচিহ্ন গাজীপুরের সব জায়গায় রেখে গেছেন। গাজীপুরে যাতে কোন সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে গাজীপুর রাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেজন্য তিনি কাজ অনেক করেছেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের বড় ছেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহ্সান রাসেল বলেন, আমার বাবা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ক্ষুন্ন হয় বা হবে এমন কোন কাজ আমি এখন পর্যন্ত করিনি। মাত্র পঁচিশ ছাব্বিশ বছর বয়সে আমি সংসদ সদস্য হয়েছি, তখন ইচ্ছা করলেই অনেক অবৈধ সম্পদ করতে পারতাম কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত কোন অবৈধ সম্পদ অর্জন করিনি। মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের সেবা করার জন্য তাই সাধারণ মানুষদের কে কোন কষ্ট দিয়ে আমরা কোন কাজ করবো না নৌকার ভোট নষ্ট করবো না।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, বীর মুক্তিযুদ্ধা শহীদ আহসান উল্লাহ স্যারের ছাত্র ছিলাম। আমি তাই এবছর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই আয়োজন করতে পারে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছি। কারণ স্যার এমন একজন নেতা ছিলেন গাজীপুরের মানুষের এখনও ঠিক একই পরিমাণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে হৃদয়ে আছেন আছেন। পরের বছরও সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হবে। স্যার আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষের সেবা করে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে। সেই শিক্ষা নিয়েই তার সুযোগ্য পুত্র যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষ সংগঠক হিসেবে আন্তর্জাতিক মন্ডলে পরিচিতি লাভ করেছেন খুব অল্প সময়ে। আমরাও এখন স্যারের সেই দেখানো পথ ও শিক্ষা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।

শাহাদাৎ বার্ষিকীতে গাজীপুরের সংরক্ষিত আসনের এমপি শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম সফিউল আজম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার জাকির হাসান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল, সহ-সভাপতি ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, প্যানেল মেয়র আব্দুল আলিম মোল্লা ও এ্যাড. আয়েশা আক্তারসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দোয়া অনুষ্ঠিত ও তবারক বিতরণ করা হয়।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (গাজীপুর- ২ গাজীপুর সদর-টঙ্গী) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দুবার সংসদ সদস্য, ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে দু’দফা পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য। জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আহসান উল্লাহ মাস্টার ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- (বিলস)-এর চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯২ সালে উপজেলা পরিষদ বিলোপের পর চেয়ারম্যান সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে উপজেলা পরিষদের পক্ষে মামলা করেন এবং দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি গ্রেফতার হন ও কারাভোগ করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি জোট সরকারের মদদপুষ্ট একদল সন্ত্রাসী নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার আইনে এ হত্যা মামলার রায় হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর