ঢাকা দুপুর ১:৪৮, শনিবার, ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তেঁতুলিয়ায় প্রথমবারের মতো ‘ব্ল্যাক রাইস’ চাষ

সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় এই প্রথমবারের মতো চাষ শুরু হয়েছে সম্ভাবনাময় ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। উপজেলার ইসলামবাগ গ্রামে এ ধান চাষ করেছেন তরুণ কৃষক সাদেকুল ইসলাম সুষম। এই ধান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অনেকে। ফলন ভাল এবং দামি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরাও এ ধান চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাদেকুল উপজেলার তিরনই হাট ইউনিয়নের ইসলামবাগ গ্রামের ফেরদৌস কামালের ছেলে। ঢাকা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে বর্তমানে বাবার জমির দেখাশোনা ও চাষাবাদ করে আসছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় সেনা বাহিনী সদস্যে চাকরিরত ভাইয়ের মাধ্যমে এই কালো ধানের বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। অপরদিকে সাদেকুল বলেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে ঢাকার গাজীপুর থেকে এ কালোধানের বীজ সংগ্রহ করেন তিনি।

সাদেকুল জানান, করোনাকালে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে নিজেদের ৬০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক ‘ব্ল্যাক রাইস প্রজাতির ধানের চাষ করেন তিনি। গত জানুয়ারি মাসের শেষে এই ধান রোপণ করেন। মাত্র ৩ মাসের মধ্যে প্রত্যেক গাছেই প্রচুর পরিমাণে ফলন ধরেছে। কিছুদিনের মধ্যেই মাড়াই শুরু হবে। ধানগুলো দেখতে যেমন কালো, চালও দেখতে তেমন কালো।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে দশ প্রকারের কালো ধান চাষ হয়। তবে আমি তিন প্রকারের ধান চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি জমিতে ১৫-১৮ মণ ধান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল্য যদি আকর্ষণীয় হয় এবং চাহিদা যদি থাকে তাহলে আগামীতে ‘ব্ল্যাক রাইসের চাষ আরও বৃদ্ধি করবো। কেননা, এ ধান চাষে অতিরিক্ত ঝুঁকি এবং খরচ নেই। এটি সাধারণ ধানের মত চাষ হলেও অতিরিক্ত সার বা পানির প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না আলাদা কোনো পরিচর্যারও। অথচ এ ধানের দাম অনেক বেশি। ২ বিঘা জমিতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ধান বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন তিনি। এই ধানের উপকারিতার কথা শুনে অনেক কৃষকই বীজ সংগ্রহের জন্য তাকে বলে রেখেছেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের চাল ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে। এ ধানের চাল উৎপাদন করে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরোও বলেন, কালো চাল সাধারণ চালের তুলনায় অনেক বেশি উপকারী ও স্বাস্থ্যসম্মত। তুলনামূলক বিচারে অ্যানথোসায়ানিন, প্রোটিন ও ফাইবার অন্যসব চালের থেকে কালো চালে বেশি থাকে। ‘ব্ল্যাক রাইস একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ধান; ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধী। ‘ব্ল্যাক রাইসের চালে মূলত ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এতে ফাইবার অনেক বেশি থাকে। ফলে এ চালের ভাত শরীরে গ্লুকোজ তৈরি করে খুব ধীর গতিতে। ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে এ চালকে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব কার্যকর বলা হয়। এছাড়া আমিষ, ভিটামিন, জিংক, খনিজ পদার্থসহ অন্য উপাদানগুলো সাধারণ চালের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি। বর্তমানে পৃথিবীর নতুন সুপার ফুড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এ ধানকে।

তবে সচেতন মহল মনে করেন, কালো চালের পুষ্টিগুণ নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অথবা যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিভাগে গবেষণা করলে এই কালো চালের পুষ্টিগুণ সম্বন্ধে আরোও নিশ্চিত ধারনা পাওয়া যেতে পরে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ