০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

রাণীনগরে ঝড়ের তান্ডবে লন্ড ভন্ড অর্ধ-শতাধীক বাড়ি-ঘর

নওগাঁর রাণীনগরে প্রচন্ড বেগে বয়ে যাওয়া ঝরের তান্ডবে তিনটি গ্রামের অর্ধ শতাধীক বাড়ি-ঘর লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে। ধ্বসে পরেছে কয়েকটি মাটির বাড়ী। এসময় বাড়ীর তালার উপরে রাখা ধানও উড়ে গেছে। তাল গাছের মাথাসহ ভেঙ্গে পরেছে গাছপালা। উপজেলার পারইল ইউনিয়নের সংকরপুর,হারাইল ও কামতা গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। ইতি মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ্যদের তালিকা করে সরকারী সহায়তার আশ্ব^াস দিয়েছেন স্থানীয় প্রসাশন।

স্থানীয় সত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টা নাগাদ হঠাৎ করেই প্রচন্ড ঝর-বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপী চলা এই ঝরে উপজেলার সংকরপুর, হারাইল ও কামতা গ্রামে অর্ধশতাধীক বাড়ি ঘরের ছাউনি উড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে যায়। এসময় ঝরের তান্ডবে একটি তাল গাছের মাথাসহ ভেঙ্গে পরেছে বেশ কিছু গাছপালা। এতে খোলা আকাশের নিচে সারা রাতযাপন করেন ক্ষতিগ্রস্থ্যরা।

হারাইল গ্রামের জয়ন্ত কুমার জানান,ওই গ্রামের প্রায় ৪০-৪৫টি বাড়ীর ছাউনি উড়ে গেছে। এছাড়া দুইটি বাড়ি ধ্বসে পরেছে। ওই গ্রামের পরেশ চন্দ্র জানান,তার বাড়ীর তালার উপরে রাখা প্রায় ১০মন ধান উড়ে গেছে। এছাড়া অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পরেছে।

সংকরপুর গ্রামের আঞ্জুয়ারা জানান, ঝরের তান্ডবে তার ৭টি ঘরসহ প্রায় ৮টি বাড়ীর ছাউনি উড়ে গেছে । ছোট সন্তান ও পরিবারের লোকজন নিয়ে অন্যের বাড়ীর বারান্দায় রাত যাপন করতে হয়েছে। তিনি দ্রæত সরকারী সহায়তা কামনা করেছেন। গ্রামপুলিশ কামতা গ্রামের মানিকচাঁন জানান, এমনভাবে বাড়ীর ছাউনি উড়ে গেছে যে, মাথা লুকানোর জায়গা নেই। এখনই বৃষ্টি আসলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিতে হবে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার মতে, ওই তিন গ্রামে প্রায় এক কোটি টাকার উপর ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ্যদের জন্য দ্রত সরকারী সহায়তা কামনা করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ্যদের তালিকার কাজ চলছে। তালিকা হাতে পেলেই সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন, ঝরের তান্ডবে বেশ কিছু বাড়ী-ঘর ও গাছ পালার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ্যদের সরকারীভাবে দ্রæত সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রাণীনগরে ঝড়ের তান্ডবে লন্ড ভন্ড অর্ধ-শতাধীক বাড়ি-ঘর

প্রকাশিত : ০৫:২০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২

নওগাঁর রাণীনগরে প্রচন্ড বেগে বয়ে যাওয়া ঝরের তান্ডবে তিনটি গ্রামের অর্ধ শতাধীক বাড়ি-ঘর লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে। ধ্বসে পরেছে কয়েকটি মাটির বাড়ী। এসময় বাড়ীর তালার উপরে রাখা ধানও উড়ে গেছে। তাল গাছের মাথাসহ ভেঙ্গে পরেছে গাছপালা। উপজেলার পারইল ইউনিয়নের সংকরপুর,হারাইল ও কামতা গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। ইতি মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ্যদের তালিকা করে সরকারী সহায়তার আশ্ব^াস দিয়েছেন স্থানীয় প্রসাশন।

স্থানীয় সত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টা নাগাদ হঠাৎ করেই প্রচন্ড ঝর-বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপী চলা এই ঝরে উপজেলার সংকরপুর, হারাইল ও কামতা গ্রামে অর্ধশতাধীক বাড়ি ঘরের ছাউনি উড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে যায়। এসময় ঝরের তান্ডবে একটি তাল গাছের মাথাসহ ভেঙ্গে পরেছে বেশ কিছু গাছপালা। এতে খোলা আকাশের নিচে সারা রাতযাপন করেন ক্ষতিগ্রস্থ্যরা।

হারাইল গ্রামের জয়ন্ত কুমার জানান,ওই গ্রামের প্রায় ৪০-৪৫টি বাড়ীর ছাউনি উড়ে গেছে। এছাড়া দুইটি বাড়ি ধ্বসে পরেছে। ওই গ্রামের পরেশ চন্দ্র জানান,তার বাড়ীর তালার উপরে রাখা প্রায় ১০মন ধান উড়ে গেছে। এছাড়া অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পরেছে।

সংকরপুর গ্রামের আঞ্জুয়ারা জানান, ঝরের তান্ডবে তার ৭টি ঘরসহ প্রায় ৮টি বাড়ীর ছাউনি উড়ে গেছে । ছোট সন্তান ও পরিবারের লোকজন নিয়ে অন্যের বাড়ীর বারান্দায় রাত যাপন করতে হয়েছে। তিনি দ্রæত সরকারী সহায়তা কামনা করেছেন। গ্রামপুলিশ কামতা গ্রামের মানিকচাঁন জানান, এমনভাবে বাড়ীর ছাউনি উড়ে গেছে যে, মাথা লুকানোর জায়গা নেই। এখনই বৃষ্টি আসলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিতে হবে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার মতে, ওই তিন গ্রামে প্রায় এক কোটি টাকার উপর ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ্যদের জন্য দ্রত সরকারী সহায়তা কামনা করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ্যদের তালিকার কাজ চলছে। তালিকা হাতে পেলেই সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন, ঝরের তান্ডবে বেশ কিছু বাড়ী-ঘর ও গাছ পালার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ্যদের সরকারীভাবে দ্রæত সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর